ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ সংক্রান্ত আপিল শুনানি এখন চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। টানা কয়েকদিন ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনে একের পর এক আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় প্রার্থী ও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে সব আপিল নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিকে এগোচ্ছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে ষষ্ঠ দিনের মতো আপিল শুনানি শুরু হয়।
আজকের শুনানিতে ৩৮১ থেকে ৪৮০ নম্বর পর্যন্ত মোট ১০০টি আপিল তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন এই শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি শেষে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলার কথা রয়েছে।
এর আগে বুধবার পঞ্চম দিনের শুনানিতে আরও ১০০টি আপিল নিষ্পত্তি করা হয়। ওই দিনে—
এতে করে ধারাবাহিকভাবে আপিল নিষ্পত্তির গতি আরও বাড়ে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিনে মোট ৩৮০টি আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।
এর মধ্যে—
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী তাদের বাতিল হওয়া মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী বাকি শুনানিগুলোও ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে—
এই শেষ ধাপের মাধ্যমে পুরো আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়েছে।
এর আগে ৪ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই–বাছাই শেষে—
এই বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই মূলত আপিলগুলো করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী কাঠামোয় মনোনয়ন যাচাই–বাছাই ও আপিল শুনানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পর্যায়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকায় অনেক প্রার্থী শেষ মুহূর্তে আবার নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ফিরে আসতে পারেন।
নির্বাচন কমিশন মনে করে, এই প্রক্রিয়া নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
আপিল শুনানির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও আগ্রহ। অনেক প্রার্থী এখনো অপেক্ষায় আছেন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আপিলের ফলাফল চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, যা নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলবে।
অতীত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, আপিল শুনানির মাধ্যমে বহু প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। ফলে এই ধাপকে অনেকেই নির্বাচনী সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিবেচনা পর্ব হিসেবে বিবেচনা করেন।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সময়মতো সব আপিল নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়ন আপিল শুনানি এখন শেষ পর্যায়ে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পথ আরও পরিষ্কার হবে এবং নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
নির্বাচন কমিশনের এই ধারাবাহিক কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত কতটা স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে—সেটিই এখন সবার নজরে।

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মনোনয়নপত্র বাতিল ও গ্রহণ সংক্রান্ত আপিল শুনানি এখন চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে। টানা কয়েকদিন ধরে চলা এই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনে একের পর এক আপিল নিষ্পত্তি হওয়ায় প্রার্থী ও রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও উত্তেজনা।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে সব আপিল নিষ্পত্তি করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের দিকে এগোচ্ছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে ষষ্ঠ দিনের মতো আপিল শুনানি শুরু হয়।
আজকের শুনানিতে ৩৮১ থেকে ৪৮০ নম্বর পর্যন্ত মোট ১০০টি আপিল তালিকাভুক্ত রয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে পূর্ণাঙ্গ কমিশন এই শুনানি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
দুপুরে এক ঘণ্টার বিরতি শেষে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শুনানি চলার কথা রয়েছে।
এর আগে বুধবার পঞ্চম দিনের শুনানিতে আরও ১০০টি আপিল নিষ্পত্তি করা হয়। ওই দিনে—
এতে করে ধারাবাহিকভাবে আপিল নিষ্পত্তির গতি আরও বাড়ে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, গত পাঁচ দিনে মোট ৩৮০টি আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।
এর মধ্যে—
এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী তাদের বাতিল হওয়া মনোনয়ন ফিরে পাওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত রোডম্যাপ অনুযায়ী বাকি শুনানিগুলোও ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হবে—
এই শেষ ধাপের মাধ্যমে পুরো আপিল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার মোট ৬৪৫টি আপিল জমা পড়েছে।
এর আগে ৪ জানুয়ারি মনোনয়ন যাচাই–বাছাই শেষে—
এই বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই মূলত আপিলগুলো করা হয়েছে।
বাংলাদেশের নির্বাচনী কাঠামোয় মনোনয়ন যাচাই–বাছাই ও আপিল শুনানি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই পর্যায়ে ভুল সংশোধনের সুযোগ থাকায় অনেক প্রার্থী শেষ মুহূর্তে আবার নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় ফিরে আসতে পারেন।
নির্বাচন কমিশন মনে করে, এই প্রক্রিয়া নির্বাচন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সহায়তা করে।
আপিল শুনানির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও আগ্রহ। অনেক প্রার্থী এখনো অপেক্ষায় আছেন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের।
বিশ্লেষকদের মতে, এই আপিলের ফলাফল চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, যা নির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণেও প্রভাব ফেলবে।
অতীত জাতীয় নির্বাচনগুলোতে দেখা গেছে, আপিল শুনানির মাধ্যমে বহু প্রার্থী তাদের মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন। ফলে এই ধাপকে অনেকেই নির্বাচনী সুযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পুনর্বিবেচনা পর্ব হিসেবে বিবেচনা করেন।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশন সময়মতো সব আপিল নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ব্যস্ত সময় পার করছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়া শেষ হলে দ্রুতই চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে মনোনয়ন আপিল শুনানি এখন শেষ পর্যায়ে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পথ আরও পরিষ্কার হবে এবং নির্বাচনী মাঠে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থানও স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
নির্বাচন কমিশনের এই ধারাবাহিক কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত কতটা স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারে—সেটিই এখন সবার নজরে।

আপনার মতামত লিখুন