দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬

খুলনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু

খুলনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু

পহেলা বৈশাখ বাঙালির জাতিসত্তার পরিচয়: খিলক্ষেত প্রেসক্লাবের সভাপতি হাবিব সরকার স্বাধীন

আমদানির ধারা অব্যাহত: নতুন চালানে জ্বালানি সংকটের শঙ্কা কমছে

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান: ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে বিপুল তেল উদ্ধার

“কৃষকের ঘরে স্বপ্নের আলো: ‘কৃষক কার্ড’ দিয়ে সরাসরি টাকা, বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতি”

গরম হার মানল, বৈশাখ জিতল: রমনা-টিএসসিতে মানুষের ঢল, উৎসবে মুখর রাজধানী

পহেলা বৈশাখে কন্যা সন্তানের জন্ম, মেয়েকে শিক্ষিকা বানানোর স্বপ্নে উচ্ছ্বসিত সুনামগঞ্জের ঝুমা

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মাঝেও স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ৪ জ্বালানিবাহী জাহাজ!

খুলনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু

খুলনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু
-ফাইল ফটো

খুলনা নগরীর দৌলতপুর এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক দম্পতির করুণ মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রেলিগেট মোড়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তারা।

নিহতরা হলেন তানভীর হাসান ও তার স্ত্রী লামিয়া বেগম। তারা নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রয়েল পরিবহনের একটি বাস দৌলতপুর রেলিগেট মোড় পার হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মোটরসাইকেলটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। এসে দেখেন মোটরসাইকেলে থাকা দম্পতি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই ভিড় জমিয়ে মরদেহ দেখতে থাকেন।

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক পালিয়ে গেছেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাস চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, দৌলতপুরের রেলিগেট মোড় এলাকাটি খুলনা শহরের একটি ব্যস্ত সড়ক সংযোগস্থল। এখানে প্রায়ই যানজট এবং দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়কটিতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। বিশেষ করে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। ট্রাফিক আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি এবং চালকদের অসতর্কতা এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন করলেই হবে না, তার বাস্তব প্রয়োগ এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, একটি মুহূর্তের অসতর্কতা কত বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে—দৌলতপুরের এই ঘটনা তারই এক নির্মম উদাহরণ। তানভীর ও লামিয়ার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


খুলনায় বাস-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে দম্পতির মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

খুলনা নগরীর দৌলতপুর এলাকায় বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক দম্পতির করুণ মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে রেলিগেট মোড়ে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান তারা।

নিহতরা হলেন তানভীর হাসান ও তার স্ত্রী লামিয়া বেগম। তারা নগরীর বয়রা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা রয়েল পরিবহনের একটি বাস দৌলতপুর রেলিগেট মোড় পার হচ্ছিল। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে বাসটির সরাসরি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে মোটরসাইকেলটি মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে আসেন। এসে দেখেন মোটরসাইকেলে থাকা দম্পতি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় এলাকায় শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং অনেকেই ভিড় জমিয়ে মরদেহ দেখতে থাকেন।

খবর পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে মরদেহ উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয় ময়নাতদন্তের জন্য। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই বাসটি জব্দ করা হয়েছে, তবে চালক পালিয়ে গেছেন।

দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বাস চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে এবং তাকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়াও চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।

উল্লেখ্য, দৌলতপুরের রেলিগেট মোড় এলাকাটি খুলনা শহরের একটি ব্যস্ত সড়ক সংযোগস্থল। এখানে প্রায়ই যানজট এবং দ্রুতগতির যানবাহনের কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সড়কটিতে পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে।

বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা একটি বড় সমস্যা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত। বিশেষ করে বাস ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে হতাহতের ঘটনা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। ট্রাফিক আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি এবং চালকদের অসতর্কতা এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ধরা হয়।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু আইন করলেই হবে না, তার বাস্তব প্রয়োগ এবং চালকদের সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

সবশেষে বলা যায়, একটি মুহূর্তের অসতর্কতা কত বড় ক্ষতি ডেকে আনতে পারে—দৌলতপুরের এই ঘটনা তারই এক নির্মম উদাহরণ। তানভীর ও লামিয়ার মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্যই এক গভীর বেদনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর