দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান: ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে বিপুল তেল উদ্ধার

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান: ব্যবসায়ীর বাড়ি থেকে বিপুল তেল উদ্ধার

“কৃষকের ঘরে স্বপ্নের আলো: ‘কৃষক কার্ড’ দিয়ে সরাসরি টাকা, বদলে যাবে গ্রামীণ অর্থনীতি”

গরম হার মানল, বৈশাখ জিতল: রমনা-টিএসসিতে মানুষের ঢল, উৎসবে মুখর রাজধানী

পহেলা বৈশাখে কন্যা সন্তানের জন্ম, মেয়েকে শিক্ষিকা বানানোর স্বপ্নে উচ্ছ্বসিত সুনামগঞ্জের ঝুমা

ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার মাঝেও স্বস্তি: চট্টগ্রাম বন্দরে একসঙ্গে ৪ জ্বালানিবাহী জাহাজ!

খবরটি সংক্ষেপে ও পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া যাক—

খবরটি সংক্ষেপে ও পরিষ্কারভাবে বুঝে নেওয়া যাক—

বৈশাখে কৃষকদের জন্য বড় উপহার! টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গরম হার মানল, বৈশাখ জিতল: রমনা-টিএসসিতে মানুষের ঢল, উৎসবে মুখর রাজধানী

গরম হার মানল, বৈশাখ জিতল: রমনা-টিএসসিতে মানুষের ঢল, উৎসবে মুখর রাজধানী

তীব্র গরম আর ঝলসানো রোদ যেন থামাতে পারেনি উৎসবপ্রিয় বাঙালিকে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রাণবন্ত, বর্ণিল এবং উৎসবমুখর পরিবেশ। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটতেই মানুষের ঢল নামে রমনা পার্ক, টিএসসি, শাহবাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা এলাকায়।

সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনস্রোতও বাড়তে থাকে। লাল-সাদা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী, পরিবার ও শিশুদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বৈশাখী সাজে সেজে অনেকে ছবি তুলছেন, আবার কেউবা বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন। চারুকলা ইনস্টিটিউটের আশপাশে দেখা যায়, অনেকেই গালে রঙতুলির আঁচড়ে ‘শুভ নববর্ষ’ লিখিয়ে নিচ্ছেন, যা যেন উৎসবের আবেগকে আরও গভীর করে তুলছে।

বাড্ডা থেকে পরিবার নিয়ে আসা রাজিব হোসেন বলেন, “গরমটা একটু বেশি হলেও, পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বের হতে পারাটাই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

এদিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি রূপ নেয় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের। এবারের শোভাযাত্রায় স্থান পায় পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ (শক্তি), বেহালা/দোতারা (সৃজনশীলতা), পায়রা (শান্তি), হাতি (গৌরব) এবং ঘোড়া (গতিময়তা)—যা নতুন বছরের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

উৎসবকে ঘিরে শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোতেও ছিল ব্যাপক ভিড়। গোলাপ, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের মালার চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।

অন্যদিকে, তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে বোতলজাত পানি ও ডাবের চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। প্রতি পিস ডাব ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা অনেকের জন্য কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও গরমে তা ছিল প্রয়োজনীয় স্বস্তির মাধ্যম।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমও দমাতে পারেনি রাজধানীবাসীর প্রাণের উৎসব বৈশাখকে। হাসি, আনন্দ, শুভেচ্ছা বিনিময় আর স্মৃতিবন্দী মুহূর্তে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে সবাই—একটি নতুন সূচনা, নতুন আশার প্রতীক হয়ে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬


গরম হার মানল, বৈশাখ জিতল: রমনা-টিএসসিতে মানুষের ঢল, উৎসবে মুখর রাজধানী

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

তীব্র গরম আর ঝলসানো রোদ যেন থামাতে পারেনি উৎসবপ্রিয় বাঙালিকে। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে ঘিরে রাজধানীজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক প্রাণবন্ত, বর্ণিল এবং উৎসবমুখর পরিবেশ। মঙ্গলবার ভোরের আলো ফুটতেই মানুষের ঢল নামে রমনা পার্ক, টিএসসি, শাহবাগ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর চারুকলা এলাকায়।

সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জনস্রোতও বাড়তে থাকে। লাল-সাদা ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণী, পরিবার ও শিশুদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বৈশাখী সাজে সেজে অনেকে ছবি তুলছেন, আবার কেউবা বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন মুহূর্ত কাটাচ্ছেন। চারুকলা ইনস্টিটিউটের আশপাশে দেখা যায়, অনেকেই গালে রঙতুলির আঁচড়ে ‘শুভ নববর্ষ’ লিখিয়ে নিচ্ছেন, যা যেন উৎসবের আবেগকে আরও গভীর করে তুলছে।

বাড্ডা থেকে পরিবার নিয়ে আসা রাজিব হোসেন বলেন, “গরমটা একটু বেশি হলেও, পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বের হতে পারাটাই আজকের দিনের সবচেয়ে বড় আনন্দ।”

এদিন সকাল ৯টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে বের হয় ঐতিহ্যবাহী মঙ্গল শোভাযাত্রা। শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রাটি রূপ নেয় এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের। এবারের শোভাযাত্রায় স্থান পায় পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ (শক্তি), বেহালা/দোতারা (সৃজনশীলতা), পায়রা (শান্তি), হাতি (গৌরব) এবং ঘোড়া (গতিময়তা)—যা নতুন বছরের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

উৎসবকে ঘিরে শাহবাগের ফুলের দোকানগুলোতেও ছিল ব্যাপক ভিড়। গোলাপ, রজনীগন্ধা ও গাঁদা ফুলের মালার চাহিদা ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে অতিরিক্ত চাহিদার কারণে দাম কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।

অন্যদিকে, তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে বোতলজাত পানি ও ডাবের চাহিদা বেড়ে যায় বহুগুণ। প্রতি পিস ডাব ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা অনেকের জন্য কিছুটা ব্যয়বহুল হলেও গরমে তা ছিল প্রয়োজনীয় স্বস্তির মাধ্যম।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কাঠফাটা রোদ আর ভ্যাপসা গরমও দমাতে পারেনি রাজধানীবাসীর প্রাণের উৎসব বৈশাখকে। হাসি, আনন্দ, শুভেচ্ছা বিনিময় আর স্মৃতিবন্দী মুহূর্তে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে সবাই—একটি নতুন সূচনা, নতুন আশার প্রতীক হয়ে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর