রাজধানীর অভিজাত এলাকা শাহজাদপুরে অবস্থিত শপিংমল ‘সুবাস্তু নজর ভ্যালি’ ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, শপিংমলটির অভ্যন্তরে কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে অবৈধ দোকান ভাড়া, সাইনবোর্ড জালিয়াতি এবং অনিয়মিত ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, শপিংমলের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার তৌহিদের সহযোগিতায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছে।
এই চক্রের সঙ্গে তারেক, বেলাল এবং ফরিদ নামের কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে দোকান ভাড়া, সাবলেট এবং ব্যবসা পরিচালনায় অসঙ্গতির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শপিংমলের ৫ম তলার (লিফটের ৪) ৫৭ নম্বর দোকান।
সূত্র জানায়, দোকানটির মূল ভাড়াটিয়া তারেক নামের একজন ব্যক্তি। তিনি মূল মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে পরবর্তীতে গোপনে বেশি দামে বেলাল ও ফরিদের কাছে সাবলেট দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানের বাইরে ‘সেইফ কম্পিউটার’ নাম ব্যবহার করা হলেও ভেতরে ‘বি প্লাস কম্পিউটার’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এভাবে ভিন্ন নাম ব্যবহার করে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কিছু ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে দোকানটি পরিচালনাকারী বেলালের নামে কোনো বৈধ ডিড (চুক্তিপত্র) নেই। এছাড়া ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নিয়েও অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অতীতেও বেলালের বিরুদ্ধে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে অনিয়মের অভিযোগে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে কিছু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
শপিংমলের ম্যানেজার তৌহিদের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তিনি বিষয়গুলো জেনেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, বরং ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে চক্রটিকে সুযোগ দিচ্ছেন।
একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বারবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ম্যানেজারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শপিংমলের অন্যান্য দোকান মালিকরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে পুরো মার্কেটের সুনাম নষ্ট হবে।
তাদের মতে, অবৈধ সাবলেট এবং ভিন্ন নামে ব্যবসা পরিচালনার কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাণিজ্যিক এলাকায় অবৈধ ব্যবসা, জালিয়াতি বা চোরাই পণ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
ব্যবসায়ীরা শপিংমলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও নষ্ট হবে এবং বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম গড়ে ওঠে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে সুবাস্তু নজর ভ্যালি শপিংমলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখন তদন্তাধীন। ব্যবসায়ীরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অনিয়ম দূর করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাজধানীর অভিজাত এলাকা শাহজাদপুরে অবস্থিত শপিংমল ‘সুবাস্তু নজর ভ্যালি’ ঘিরে গুরুতর অনিয়ম, জালিয়াতি এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে, শপিংমলটির অভ্যন্তরে কিছু ব্যক্তির যোগসাজশে অবৈধ দোকান ভাড়া, সাইনবোর্ড জালিয়াতি এবং অনিয়মিত ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ অনুযায়ী, শপিংমলের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার তৌহিদের সহযোগিতায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম চালিয়ে আসছে।
এই চক্রের সঙ্গে তারেক, বেলাল এবং ফরিদ নামের কয়েকজন ব্যক্তির সম্পৃক্ততার কথা উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে দোকান ভাড়া, সাবলেট এবং ব্যবসা পরিচালনায় অসঙ্গতির অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে শপিংমলের ৫ম তলার (লিফটের ৪) ৫৭ নম্বর দোকান।
সূত্র জানায়, দোকানটির মূল ভাড়াটিয়া তারেক নামের একজন ব্যক্তি। তিনি মূল মালিকের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে পরবর্তীতে গোপনে বেশি দামে বেলাল ও ফরিদের কাছে সাবলেট দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আরও অভিযোগ অনুযায়ী, দোকানের বাইরে ‘সেইফ কম্পিউটার’ নাম ব্যবহার করা হলেও ভেতরে ‘বি প্লাস কম্পিউটার’ নামে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এভাবে ভিন্ন নাম ব্যবহার করে ক্রেতাদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কিছু ব্যবসায়ী।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বর্তমানে দোকানটি পরিচালনাকারী বেলালের নামে কোনো বৈধ ডিড (চুক্তিপত্র) নেই। এছাড়া ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স নিয়েও অনিয়ম রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অতীতেও বেলালের বিরুদ্ধে একটি বাণিজ্যিক কেন্দ্র থেকে অনিয়মের অভিযোগে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে এসেছে বলে কিছু ব্যবসায়ী জানিয়েছেন। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
শপিংমলের ম্যানেজার তৌহিদের ভূমিকা নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তিনি বিষয়গুলো জেনেও ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, বরং ব্যক্তিগত সুবিধার বিনিময়ে চক্রটিকে সুযোগ দিচ্ছেন।
একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,
“বারবার অভিযোগ করেও কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।”
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ম্যানেজারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শপিংমলের অন্যান্য দোকান মালিকরা বলছেন, এ ধরনের অনিয়ম চলতে থাকলে পুরো মার্কেটের সুনাম নষ্ট হবে।
তাদের মতে, অবৈধ সাবলেট এবং ভিন্ন নামে ব্যবসা পরিচালনার কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছেন এবং আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
স্থানীয় থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, বাণিজ্যিক এলাকায় অবৈধ ব্যবসা, জালিয়াতি বা চোরাই পণ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে।
ব্যবসায়ীরা শপিংমলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
তাদের দাবি, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও নষ্ট হবে এবং বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক নজরদারি না থাকলে এ ধরনের অনিয়ম গড়ে ওঠে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
সব মিলিয়ে সুবাস্তু নজর ভ্যালি শপিংমলকে ঘিরে ওঠা অভিযোগগুলো এখন তদন্তাধীন। ব্যবসায়ীরা দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে অনিয়ম দূর করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং প্রশাসন কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়—সেদিকেই এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্টদের।

আপনার মতামত লিখুন