দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বিজিবি মোতায়েন

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় ৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, অভিযুক্তকে আটকের দাবিতে বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে মাটি কাটার বিরোধে বিএনপি নেতা ওসমান গনি খুন, সড়ক অবরোধ ও উত্তেজনা

কুরবানির ঈদের আগে বিষ খাইয়ে কৃষকের ৩ গরু হত্যা, পথে বসার শঙ্কায় পরিবার

শেবাচিম হাসপাতালে বিশৃঙ্খলা: হামে ২৬ শিশুর মৃত্যু, চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগে ক্ষোভ

কুষ্টিয়ায় এসএসসি পরীক্ষায় সুপারের ছেলের খাতা লিখে দিচ্ছিলেন শিক্ষকরা, আটক ৩

কুমিল্লা-চাঁদপুর রুটে অনির্দিষ্টকালের বাস ধর্মঘট, হাজীগঞ্জে হামলার অভিযোগে আতঙ্ক

তিস্তা টোল প্লাজায় কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, আহত অন্তত ৯

“২০৩৪-এর লক্ষ্য: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি—বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে সরকারের মহাপরিকল্পনা”

“২০৩৪-এর লক্ষ্য: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি—বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে সরকারের মহাপরিকল্পনা”
-ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অর্থমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।

অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় হ্রাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর অবস্থা মূল্যায়ন, তদারকি জোরদার এবং আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে, যা আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

রাজস্ব খাতে সংস্কারের বিষয়েও অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, কর ব্যবস্থাকে সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে, করজাল সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি কমাতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও গতি আসবে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতকে উৎসাহ প্রদান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহায়তা বৃদ্ধি এবং রফতানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা খাতেও সরকারের উদ্যোগ বিস্তৃত করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থিতিশীলতা, সংস্কার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা হবে। সরকারের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


“২০৩৪-এর লক্ষ্য: ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি—বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিতে সরকারের মহাপরিকল্পনা”

প্রকাশের তারিখ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। জাতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত উত্তরে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিতে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। অর্থমন্ত্রী জানান, নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা যায়।

অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অপ্রয়োজনীয় সরকারি ব্যয় হ্রাস, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্যাংক ও আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর অবস্থা মূল্যায়ন, তদারকি জোরদার এবং আর্থিক অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি পাচার হওয়া সম্পদ উদ্ধারে কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে, যা আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।

রাজস্ব খাতে সংস্কারের বিষয়েও অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, কর ব্যবস্থাকে সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হচ্ছে, করজাল সম্প্রসারণ এবং কর ফাঁকি কমাতে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাজস্ব আদায় বাড়বে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আরও গতি আসবে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্য ব্যবসা পরিবেশ উন্নয়নের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি খাতকে উৎসাহ প্রদান, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে সহায়তা বৃদ্ধি এবং রফতানি সম্প্রসারণের মাধ্যমে অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এছাড়া সামাজিক সুরক্ষা খাতেও সরকারের উদ্যোগ বিস্তৃত করা হয়েছে। ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হয়েছে। ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে সরাসরি সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থাও আরও জোরদার করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, স্থিতিশীলতা, সংস্কার, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সুশাসনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করা হবে। সরকারের এই উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর