দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

খুলনায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সাঁড়াশি অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানে প্রায় দেড় লাখ টাকা জরিমানা

আইসিপি বিজিবির অভিযানে ২ লক্ষ টাকার ভারতীয় কসমেটিক্স আটক

ট্রান্সফরমার চুরির তদন্তে বেরিয়ে এলো মাদকের গুদাম, নওগাঁয় উদ্ধার ৯০ কেজি গাঁজা

বাংলাদেশ-রাশিয়া বৈঠক: জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার

এলডিসি উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর শঙ্কা, ঝুঁকিতে ১৭.৫ বিলিয়ন ডলারের রফতানি আয়

রাজন-রাকিবের মতো রামিসার বিচারও কি হারিয়ে যাবে উচ্চ আদালতে!

কক্সবাজারে পুলিশের জোড়া অভিযান: অপহৃত শিশু উদ্ধার, মানবপাচার মামলার আলোচিত আসামি গ্রেফতার

ঢাকায় আজ কোথায় কী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুষ্ঠান, স্টিল খাতের সংবাদ সম্মেলন ও জলবায়ু বিষয়ক গোলটেবিল

হট্টগোল, ওয়াকআউট ও তীব্র উত্তেজনায় শুরু ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন

হট্টগোল, ওয়াকআউট ও তীব্র উত্তেজনায় শুরু ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন
হট্টগোল ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।

ঢাকায় শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন, কিন্তু শুরুতেই তা পরিণত হয় উত্তপ্ত রাজনৈতিক নাটকে। বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর মুহূর্ত থেকেই হট্টগোল, প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদ কক্ষ কার্যত অস্থির হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংসদে অস্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হয়।


শুরুতেই উত্তেজনা, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ

অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।

তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান, যেখানে “জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না” এবং “জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর”—এই ধরনের বার্তা দেখা যায়।

সংসদ কক্ষে কিছু সময়ের জন্য চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে স্পিকার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়ই ওয়াকআউট করেন বিরোধী সদস্যরা।


রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিতর্ক ও বয়কট

রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকা এবং তাদের বয়কটের ঘটনায় সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

এই পুরো ঘটনায় সংসদের ভেতরে এবং বাইরে উভয় জায়গায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধিবেশনের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ সংসদীয় কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।


সংসদ নেতা হিসেবে প্রথম বক্তব্য তারেক রহমানের

অধিবেশনের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতের সরকার সংসদকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলেছিল, এখন এটিকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতিকে সামনে রেখে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অনেকে, কারণ এটি নতুন সংসদীয় পরিবেশের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

অধিবেশনের শুরুতেই ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একটি রাজনৈতিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।


শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ

স্পিকার তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সংসদকে কার্যকর করার আহ্বান জানান।


অধিবেশনে প্রযুক্তিগত বিভ্রাট

অধিবেশন চলাকালীন সংসদের মাইক সিস্টেমে হঠাৎ যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম ব্যাহত হলে স্পিকার ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

পরে সমস্যা সমাধান হলে পুনরায় অধিবেশন শুরু হয়, তবে ততক্ষণে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়।


রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: কী ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিস্থিতি?

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এমন উত্তেজনা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। বিরোধী দলের ওয়াকআউট এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট সংসদীয় ঐক্যের প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

তাদের মতে, কার্যকর সংসদ পরিচালনা করতে হলে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।


উপসংহার

হট্টগোল, ওয়াকআউট ও রাজনৈতিক স্লোগানে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুরুতেই এমন উত্তেজনা ভবিষ্যৎ সংসদীয় কার্যক্রম কোন পথে যাবে—সে প্রশ্ন এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।

বিষয় : ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬


হট্টগোল, ওয়াকআউট ও তীব্র উত্তেজনায় শুরু ত্রয়োদশ সংসদ অধিবেশন

প্রকাশের তারিখ : ১২ মার্চ ২০২৬

featured Image

ঢাকায় শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন, কিন্তু শুরুতেই তা পরিণত হয় উত্তপ্ত রাজনৈতিক নাটকে। বৃহস্পতিবার অধিবেশন শুরুর মুহূর্ত থেকেই হট্টগোল, প্রতিবাদ ও ওয়াকআউটের ঘটনায় সংসদ কক্ষ কার্যত অস্থির হয়ে পড়ে। রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলের তীব্র প্রতিবাদ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।

নবনির্বাচিত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হলেও কয়েক মিনিটের মধ্যেই সংসদে অস্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি হয়।


শুরুতেই উত্তেজনা, প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ

অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিরোধী দল হিসেবে পরিচিত জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্যরা আসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন।

তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান, যেখানে “জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না” এবং “জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ কর”—এই ধরনের বার্তা দেখা যায়।

সংসদ কক্ষে কিছু সময়ের জন্য চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হলে স্পিকার সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের সময়ই ওয়াকআউট করেন বিরোধী সদস্যরা।


রাষ্ট্রপতির ভাষণ ঘিরে বিতর্ক ও বয়কট

রাষ্ট্রপতির ভাষণ চলাকালীন বিরোধী দলের অংশগ্রহণ না থাকা এবং তাদের বয়কটের ঘটনায় সংসদে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।

এই পুরো ঘটনায় সংসদের ভেতরে এবং বাইরে উভয় জায়গায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অধিবেশনের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি ভবিষ্যৎ সংসদীয় কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে।


সংসদ নেতা হিসেবে প্রথম বক্তব্য তারেক রহমানের

অধিবেশনের শুরুতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতের সরকার সংসদকে কার্যত অকার্যকর করে ফেলেছিল, এখন এটিকে জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে।

তিনি আরও বলেন, “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতিকে সামনে রেখে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

তার এই বক্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অনেকে, কারণ এটি নতুন সংসদীয় পরিবেশের দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন

অধিবেশনের শুরুতেই ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য কায়সার কামাল ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হন।

পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে একটি রাজনৈতিক পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেন।


শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ

স্পিকার তার বক্তব্যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন। তিনি আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমসহ সকল শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এছাড়া তিনি ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে তার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং সংসদকে কার্যকর করার আহ্বান জানান।


অধিবেশনে প্রযুক্তিগত বিভ্রাট

অধিবেশন চলাকালীন সংসদের মাইক সিস্টেমে হঠাৎ যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। এতে কিছু সময়ের জন্য কার্যক্রম ব্যাহত হলে স্পিকার ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।

পরে সমস্যা সমাধান হলে পুনরায় অধিবেশন শুরু হয়, তবে ততক্ষণে রাজনৈতিক উত্তেজনা কিছুটা হলেও প্রশমিত হয়।


রাজনৈতিক বিশ্লেষণ: কী ইঙ্গিত দিচ্ছে এই পরিস্থিতি?

বিশ্লেষকদের মতে, সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এমন উত্তেজনা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সম্পর্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করছে। বিরোধী দলের ওয়াকআউট এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ বয়কট সংসদীয় ঐক্যের প্রশ্নকে সামনে এনেছে।

তাদের মতে, কার্যকর সংসদ পরিচালনা করতে হলে সরকার ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সংলাপ ও আস্থার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি।


উপসংহার

হট্টগোল, ওয়াকআউট ও রাজনৈতিক স্লোগানে শুরু হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুরুতেই এমন উত্তেজনা ভবিষ্যৎ সংসদীয় কার্যক্রম কোন পথে যাবে—সে প্রশ্ন এখন সামনে এসে দাঁড়িয়েছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর