দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

শারীরিক অসুস্থতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

শারীরিক অসুস্থতায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ, ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রশাসকদের উদ্যোগে নতুন গতি, সবাইকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের

দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

টানা বৃষ্টিতে ফের ডুবছে চট্টগ্রাম: দুর্ভোগে কর্মজীবী মানুষ, বাড়ল রিকশা ভাড়া

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ গ্রহণ

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি সোহানা নাসরিন, বন্দিদের কল্যাণে দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশনা

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক, কর্মী প্রেরণ ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন, ৫ বছরে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছানোর লক্ষ্যএক্স

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন, ৫ বছরে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছানোর লক্ষ্যএক্স
-ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো বহু আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। রাজধানীর বনানী এলাকার কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে বিশেষভাবে সহায়তা দিতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এই টাকা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। ফলে ঘরে বসেই তারা সহজে এই ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রথম ধাপে নির্বাচিত পরিবারগুলোর জন্য আগামী চার মাসে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে জুন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এরপর এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে পুরো দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই কর্মসূচির জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। যেসব পরিবার ইতোমধ্যে অন্য কোনো সরকারি ভাতা পাচ্ছে, তারা এই সুবিধা পাবে না। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী, বড় ব্যবসায়ী বা যাদের বিলাসবহুল সম্পদ রয়েছে, তারাও এই কর্মসূচির আওতায় আসবে না।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে এই ফ্যামিলি কার্ডকে আরও বিস্তৃত করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটিকে একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে দেশের নাগরিকদের জন্য একটি একক পরিচয়ভিত্তিক সেবা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে এর আগে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। যেমন—বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি। তবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি নতুন ধরনের উদ্যোগ, যেখানে পুরো পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শহরের বস্তি এলাকায় বসবাসকারী নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য এটি বড় সহায়তা হতে পারে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। না হলে এই ধরনের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এতে করে তাদের দৈনন্দিন খরচ চালানো কিছুটা সহজ হবে এবং পরিবারে আর্থিক চাপ কমবে।

সব মিলিয়ে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ২৬ জুলাই ২০২৬


ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধন, ৫ বছরে ৪ কোটি পরিবারে পৌঁছানোর লক্ষ্যএক্স

প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো বহু আলোচিত ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি। রাজধানীর বনানী এলাকার কড়াইল বস্তি সংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের প্রথম দিনেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করা। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।


প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী। তাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানো না গেলে দেশের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারীপ্রধান পরিবারগুলোকে বিশেষভাবে সহায়তা দিতে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এছাড়া বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ধাপে দেশের ১৪টি এলাকায় পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম চালু হয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর কড়াইল, ভাষানটেক ও সাততলা এলাকায় প্রায় ১৫ হাজার নারীকে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে।

এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। এই টাকা সরাসরি মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। ফলে ঘরে বসেই তারা সহজে এই ভাতা গ্রহণ করতে পারবেন।

প্রথম ধাপে নির্বাচিত পরিবারগুলোর জন্য আগামী চার মাসে প্রায় ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পরীক্ষামূলকভাবে জুন পর্যন্ত এই কার্যক্রম চলবে। এরপর এর কার্যকারিতা মূল্যায়ন করে পুরো দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই কর্মসূচির জন্য কিছু নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। যেসব পরিবার ইতোমধ্যে অন্য কোনো সরকারি ভাতা পাচ্ছে, তারা এই সুবিধা পাবে না। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবী, বড় ব্যবসায়ী বা যাদের বিলাসবহুল সম্পদ রয়েছে, তারাও এই কর্মসূচির আওতায় আসবে না।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে এই ফ্যামিলি কার্ডকে আরও বিস্তৃত করা হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এটিকে একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে করে দেশের নাগরিকদের জন্য একটি একক পরিচয়ভিত্তিক সেবা ব্যবস্থা তৈরি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশে এর আগে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। যেমন—বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা ইত্যাদি। তবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ একটি নতুন ধরনের উদ্যোগ, যেখানে পুরো পরিবারকে একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে দারিদ্র্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে শহরের বস্তি এলাকায় বসবাসকারী নারীপ্রধান পরিবারগুলোর জন্য এটি বড় সহায়তা হতে পারে।

তবে তারা সতর্ক করে বলেছেন, সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখা খুবই জরুরি। না হলে এই ধরনের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। অনেকেই মনে করছেন, এতে করে তাদের দৈনন্দিন খরচ চালানো কিছুটা সহজ হবে এবং পরিবারে আর্থিক চাপ কমবে।

সব মিলিয়ে, ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার দেশের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর