মাঝসমুদ্রে ভয়াবহ সামরিক সংঘাত, যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়া এবং যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকে পড়া শতাধিক ইরানি নাবিকের জন্য মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। উদ্ধার হওয়া ২০৪ জন ইরানি নাবিককে এক মাসের বিশেষ ‘ফ্রি ভিসা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার জননিরাপত্তা মন্ত্রী আনন্দা উইজেপালা জানিয়েছেন, নিজ দেশে নিরাপদে ফেরার আগ পর্যন্ত ইরানি নাবিকরা শ্রীলঙ্কায় বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস বুশেহর (IRIS Bushehr) যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে শ্রীলঙ্কার কাছে জরুরি সহায়তা চায়। এরপর দ্রুত অভিযান চালায় শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, জাহাজ থেকে ২০৪ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের একটি নৌঘাঁটিতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম মেনেই ইরানি নাবিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলম্বো।
এই ঘটনার আগে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছেই আরেকটি বড় সামরিক সংঘাত ঘটে। ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা (IRIS Dena) মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে যায় বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ভারতীয় নৌমহড়ায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছিল। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলায় অন্তত ৮০ জনের বেশি ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে এবং বহু মরদেহ উদ্ধার করে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা আধুনিক বিশ্বে অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই ধরনের ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।
এ কারণে ঘটনাটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছোট দেশ হয়েও শ্রীলঙ্কা এখানে মানবিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। একদিকে তারা উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়া নাবিকদের আশ্রয় ও অস্থায়ী ভিসা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির উদাহরণ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সংকটে সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে মানবিক সহায়তা দেওয়া ছোট দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠছে।
আইআরআইএস দেনা ডুবির ঘটনা এবং বুশেহরের যান্ত্রিক বিপর্যয় নতুন করে দেখিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চললেও পুরো ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৯ মার্চ ২০২৬
মাঝসমুদ্রে ভয়াবহ সামরিক সংঘাত, যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়া এবং যান্ত্রিক ত্রুটিতে আটকে পড়া শতাধিক ইরানি নাবিকের জন্য মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছে শ্রীলঙ্কা। উদ্ধার হওয়া ২০৪ জন ইরানি নাবিককে এক মাসের বিশেষ ‘ফ্রি ভিসা’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শ্রীলঙ্কার জননিরাপত্তা মন্ত্রী আনন্দা উইজেপালা জানিয়েছেন, নিজ দেশে নিরাপদে ফেরার আগ পর্যন্ত ইরানি নাবিকরা শ্রীলঙ্কায় বৈধভাবে অবস্থান করতে পারবেন। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার ইরানের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস বুশেহর (IRIS Bushehr) যান্ত্রিক ত্রুটিতে পড়ে শ্রীলঙ্কার কাছে জরুরি সহায়তা চায়। এরপর দ্রুত অভিযান চালায় শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, জাহাজ থেকে ২০৪ জন নাবিককে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং তাদের একটি নৌঘাঁটিতে রাখা হয়েছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা, খাবার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিয়ম মেনেই ইরানি নাবিকদের দ্রুত দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে কলম্বো।
এই ঘটনার আগে শ্রীলঙ্কা উপকূলের কাছেই আরেকটি বড় সামরিক সংঘাত ঘটে। ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইআরআইএস দেনা (IRIS Dena) মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ডুবে যায় বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলার সময় জাহাজটি ভারতীয় নৌমহড়ায় অংশ নিয়ে ফেরার পথে ছিল। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
হামলায় অন্তত ৮০ জনের বেশি ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকজনকে জীবিত উদ্ধার করে এবং বহু মরদেহ উদ্ধার করে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার ঘটনা আধুনিক বিশ্বে অত্যন্ত বিরল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই ধরনের ঘটনা খুব কমই ঘটেছে।
এ কারণে ঘটনাটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্য নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ছোট দেশ হয়েও শ্রীলঙ্কা এখানে মানবিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। একদিকে তারা উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে, অন্যদিকে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আটকে পড়া নাবিকদের আশ্রয় ও অস্থায়ী ভিসা দিয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক নীতির উদাহরণ তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের সংকটে সরাসরি কোনো পক্ষ না নিয়ে মানবিক সহায়তা দেওয়া ছোট দেশগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হয়ে উঠছে।
আইআরআইএস দেনা ডুবির ঘটনা এবং বুশেহরের যান্ত্রিক বিপর্যয় নতুন করে দেখিয়ে দিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা এখন ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তার জন্য এই অঞ্চল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে তার প্রভাব বিশ্ব অর্থনীতিতেও পড়তে পারে।
এদিকে উদ্ধার হওয়া ইরানি নাবিকদের দেশে ফেরানোর প্রস্তুতি চললেও পুরো ঘটনাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন