দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

দিনাজপুরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত, লাখো মুসল্লির তাকবিরে মুখর গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ

দিনাজপুরে দেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদুল আজহার জামাত, লাখো মুসল্লির তাকবিরে মুখর গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ

ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাজুড়ে কোরবানি, কসাই সংকট কমায় স্বস্তি নগরবাসীর

সেনানিবাসে আবেগঘন মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বললেন— ‘সবাই দায়িত্ব পালন করলে গড়ে উঠবে কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ’

গুম-শহীদ পরিবারের পাশে আমিনুল হক, ঈদ উপহার ও আর্থিক সহায়তা প্রদান

ঈদযাত্রার সকালে রাজধানীতে ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনা, নর্দ্দায় নিহত ৪, আহত বহু

নরসিংদীর রায়পুরায় তৃতীয় লিঙ্গের সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা, আতঙ্কে এলাকাবাসী

টাঙ্গাইলে যমুনা সেতুর পূর্বপাড়ে ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ প্রাণহানি, শোকে স্তব্ধ চাপাইনবাবগঞ্জ

বাংলাদেশ পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পথে এগোচ্ছে, সংসদ ভবনে ১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উদ্বোধন

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু খামেনি: বন্ধুর পথ না কি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু?

ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু খামেনি: বন্ধুর পথ না কি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু?
-ছবি: সংগৃহীত

আপনার দেওয়া তথ্যগুলো নিয়ে একটি পেশাদার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সংবাদপত্রের উপযোগী করে প্রতিবেদনটি নিচে গুছিয়ে দেওয়া হলো:


তেহরানে হামলা: কে এই খামেনি, কেন তিনি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যবস্তু?

ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খামেনির কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—কে এই খামেনি এবং কেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?

কে এই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি?

৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি। ১৯৭৯ সালে খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির শাসনের অবসান ঘটেছিল।

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতাই ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগ—সবকিছুর ওপর তার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে। যদিও ইরানে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ বিদ্যমান, তবে কৌশলগত এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে খামেনির মতই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। তিনি একইসঙ্গে দেশটির আধ্যাত্মিক নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান।

ক্ষমতার ভিত্তি ও পশ্চিমা বিরোধ

খামেনির শাসনামলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। তার অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। এই বাহিনীগুলোর নিরঙ্কুশ আনুগত্যই তার ক্ষমতাকে সুসংহত করে রেখেছে। তবে দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের কারণে দেশটিতে একাধিকবার বড় ধরনের জনবিক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

কেন তিনি ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তু?

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

১. আঞ্চলিক প্রভাব: ইসরায়েলের দাবি, খামেনি মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিয়ে অঞ্চলটিকে অশান্ত রাখছেন। ২. ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান: খামেনি প্রকাশ্যেই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার ডাক দিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি বলেছেন, “খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরায়েল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে চলছেন, তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।” ৩. পরমাণু ইস্যু: ইরান দাবি করে আসছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মনে করে খামেনির নেতৃত্বেই ইরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। ৪. নেতৃত্ব দুর্বল করা: বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট করার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানি রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি করা এবং সামরিক ও রাজনৈতিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে দেওয়া।

পারমাণবিক আলোচনায় অনিশ্চয়তা

সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। খামেনি বরাবরই বলে আসছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ (ফতোয়া)। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন শীর্ষ নেতারা মনে করেন, সরকার পরিবর্তনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।

বর্তমানে কোথায় আছেন খামেনি?

হামলার পরপরই খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে একটি নিরাপদ গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খামেনির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শনিবার, ৩০ মে ২০২৬


ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু খামেনি: বন্ধুর পথ না কি সংঘাতের লক্ষ্যবস্তু?

প্রকাশের তারিখ : ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

আপনার দেওয়া তথ্যগুলো নিয়ে একটি পেশাদার অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা সংবাদপত্রের উপযোগী করে প্রতিবেদনটি নিচে গুছিয়ে দেওয়া হলো:


তেহরানে হামলা: কে এই খামেনি, কেন তিনি ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্যবস্তু?

ইরানের রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ফের হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র। এই হামলার পর ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান আলোচনা গভীর অনিশ্চয়তায় পড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি জল্পনা তৈরি হয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে নিয়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, খামেনির কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকাতেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে—কে এই খামেনি এবং কেন তাকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে?

কে এই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি?

৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিষ্ঠাতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি। ১৯৭৯ সালে খোমেনির নেতৃত্বে ইসলামি বিপ্লবের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাসক মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভির শাসনের অবসান ঘটেছিল।

ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় সর্বোচ্চ নেতাই ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু। রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগ, সামরিক বাহিনী এবং বিচার বিভাগ—সবকিছুর ওপর তার চূড়ান্ত কর্তৃত্ব রয়েছে। যদিও ইরানে প্রেসিডেন্ট ও সংসদ বিদ্যমান, তবে কৌশলগত এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে খামেনির মতই চূড়ান্ত বলে বিবেচিত হয়। তিনি একইসঙ্গে দেশটির আধ্যাত্মিক নেতা এবং সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান।

ক্ষমতার ভিত্তি ও পশ্চিমা বিরোধ

খামেনির শাসনামলে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। তার অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস হলো ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং বাসিজ আধাসামরিক বাহিনী। এই বাহিনীগুলোর নিরঙ্কুশ আনুগত্যই তার ক্ষমতাকে সুসংহত করে রেখেছে। তবে দীর্ঘদিনের পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং অভ্যন্তরীণ দমন-পীড়নের কারণে দেশটিতে একাধিকবার বড় ধরনের জনবিক্ষোভও দেখা দিয়েছে।

কেন তিনি ‘টার্গেট’ বা লক্ষ্যবস্তু?

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময় খামেনিকে নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তাদের প্রধান অভিযোগগুলো হলো:

১. আঞ্চলিক প্রভাব: ইসরায়েলের দাবি, খামেনি মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে মদদ দিয়ে অঞ্চলটিকে অশান্ত রাখছেন। ২. ইসরায়েল বিরোধী অবস্থান: খামেনি প্রকাশ্যেই ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার ডাক দিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সম্প্রতি বলেছেন, “খামেনির মতো একজন স্বৈরশাসক, যিনি ইসরায়েল ধ্বংসের লক্ষ্য নিয়ে চলছেন, তার অস্তিত্ব অব্যাহত থাকতে পারে না।” ৩. পরমাণু ইস্যু: ইরান দাবি করে আসছে তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, কিন্তু ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র মনে করে খামেনির নেতৃত্বেই ইরান গোপনে পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করছে। ৪. নেতৃত্ব দুর্বল করা: বিশ্লেষকদের মতে, শীর্ষ নেতৃত্বকে টার্গেট করার মূল উদ্দেশ্য হলো ইরানি রাষ্ট্রযন্ত্রে অস্থিরতা তৈরি করা এবং সামরিক ও রাজনৈতিক চেইন অব কমান্ড ভেঙে দেওয়া।

পারমাণবিক আলোচনায় অনিশ্চয়তা

সাম্প্রতিক এই হামলার ফলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়েছে। খামেনি বরাবরই বলে আসছেন যে, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ (ফতোয়া)। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ মার্কিন শীর্ষ নেতারা মনে করেন, সরকার পরিবর্তনই এই সংকটের একমাত্র সমাধান।

বর্তমানে কোথায় আছেন খামেনি?

হামলার পরপরই খামেনির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স একটি সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, নিরাপত্তার খাতিরে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে একটি নিরাপদ গোপন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে ইরান সরকারের পক্ষ থেকে তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে খামেনির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং ইরানের প্রতিক্রিয়া এখন বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর