আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার Mohammad Anwar Hossain এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের দাবি, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কেন্দ্রের অবস্থান ও অবকাঠামোগত বাস্তবতা বিবেচনা করেই এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে Monohardi ও বেলাব এলাকা নিয়ে গঠিত নরসিংদী-৪ আসনে।
আসনভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়—
সব মিলিয়ে জেলার মোট ভোটকেন্দ্রের বড় একটি অংশকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
রিটার্নিং অফিসার জানান, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—অতীতের নির্বাচনী সহিংসতার রেকর্ড, সংঘাতপ্রবণ এলাকা, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় সামাজিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
প্রশাসনের মতে, যেসব এলাকায় আগে সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল বা উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এসব কেন্দ্রে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় বেশি সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ২৫০টি কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এসব কেন্দ্রে থাকবে—
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
এছাড়া অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ জন।
এর মধ্যে—
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ভোটাররা যেন নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো জেলায় এত বড় সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
তাদের মতে, নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা, স্থানীয় বিরোধ এবং প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থাকলে সহিংসতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশেষ করে গ্রামীণ ও সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, নরসিংদীতে নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের বাড়তি সতর্কতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারির কারণে ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের।

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার ৬৬৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩৯৩টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার Mohammad Anwar Hossain এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসনের দাবি, অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতা, স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, কেন্দ্রের অবস্থান ও অবকাঠামোগত বাস্তবতা বিবেচনা করেই এসব কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র রয়েছে Monohardi ও বেলাব এলাকা নিয়ে গঠিত নরসিংদী-৪ আসনে।
আসনভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়—
সব মিলিয়ে জেলার মোট ভোটকেন্দ্রের বড় একটি অংশকেই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখছে প্রশাসন।
রিটার্নিং অফিসার জানান, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিশ্লেষণ করে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে—অতীতের নির্বাচনী সহিংসতার রেকর্ড, সংঘাতপ্রবণ এলাকা, ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত দুর্বলতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থানীয় সামাজিক পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।
প্রশাসনের মতে, যেসব এলাকায় আগে সংঘর্ষ, কেন্দ্র দখল বা উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে, সেসব এলাকাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।
প্রশাসন জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
এসব কেন্দ্রে সাধারণ কেন্দ্রের তুলনায় বেশি সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
এছাড়া অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত প্রায় ২৫০টি কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এসব কেন্দ্রে থাকবে—
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
এছাড়া অধিকাংশ ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলছে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
নরসিংদীর পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে মোট ৪১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৭১ হাজার ২৩৭ জন।
এর মধ্যে—
নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, ভোটাররা যেন নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কোনো জেলায় এত বড় সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হওয়া নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়।
তাদের মতে, নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা, স্থানীয় বিরোধ এবং প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা থাকলে সহিংসতার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশেষ করে গ্রামীণ ও সংঘাতপ্রবণ এলাকাগুলোতে প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তারা।
সব মিলিয়ে, নরসিংদীতে নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনের বাড়তি সতর্কতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ও নজরদারির কারণে ভোটের দিন পরিস্থিতি কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে ভোটার ও রাজনৈতিক মহলের।

আপনার মতামত লিখুন