দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

সাভারে মৎস্যজীবী দলের সভায় খোরশেদ আলম: তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে এনসিপির মশাল মিছিল, শাহবাগে প্রতিবাদের ঢল

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ—‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিলুপ্ত করা হয়েছে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়’

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ এমপি আতিক মোজাহিদের, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার দাবি

রাজশাহীতে এনসিপির বড় যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দল ছেড়ে এলেন প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী

“লুটপাটের বাজেট” আখ্যা দিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা বিএনপির

“লুটপাটের বাজেট” আখ্যা দিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা বিএনপির
২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা।

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বাজেট ঘোষণার পরপরই বিরোধী দল বিএনপি একে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে “নজিরবিহীন লুটপাটের বাজেট” এবং “অবাস্তব ও অলীক কল্পনার দলিল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থ নয়, বরং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব মন্তব্য করেন।


“বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই এই বাজেট”

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, “এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। দেশের অর্থনৈতিক সূচক যেভাবে চলছে, তাতে এসব লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন।”

তার দাবি অনুযায়ী, বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়ে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই।


সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ার অভিযোগ

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নতুন বাজেটে জনগণের ওপর করের চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

দলটির মতে, বর্তমান সময়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, কিন্তু বাজেটে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে এমন বাজেট তৈরি হয়েছে।


মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ

বিএনপি নেতারা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব। কিন্তু বাজেটে এসব সমস্যার সমাধানে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চাপে আছে। বাজেট সেই চাপ কমানোর কোনো বার্তা দেয়নি।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


রাজনৈতিক অঙ্গনে বাজেট নিয়ে নিয়মিত বিতর্ক

বাংলাদেশে জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর প্রতি বছরই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ক্ষমতাসীন দল সাধারণত বাজেটকে উন্নয়নমুখী ও বাস্তবসম্মত হিসেবে তুলে ধরে, আর বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন খাতের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সমালোচনা করে।

এ বছরও সেই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম হয়নি। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি বাজেট প্রণয়নে বড় প্রভাব ফেলেছে।


অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। রাজস্ব আহরণ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিগত স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, “বাজেট কাগজে যত সুন্দরই হোক, বাস্তবায়ন না হলে কোনো সুফল মিলবে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

তাদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।


জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের ধারা যদি দুর্বল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সঠিক নীতি গ্রহণ করা গেলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


উপসংহার

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে বিএনপির কঠোর সমালোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার এটিকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির বাজেট হিসেবে দেখালেও বিরোধী দল এটিকে জনগণবিরোধী বলে আখ্যা দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—এই বাজেট বাস্তবে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে?


ফেসবুক ভাইরাল ক্যাপশন

বিষয় : বাজেট ২০২৩-২৪ বিএনপি প্রতিক্রিয়া মির্জা ফখরুল বক্তব্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


“লুটপাটের বাজেট” আখ্যা দিয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তীব্র সমালোচনা বিএনপির

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৩

featured Image

চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে। বাজেট ঘোষণার পরপরই বিরোধী দল বিএনপি একে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে “নজিরবিহীন লুটপাটের বাজেট” এবং “অবাস্তব ও অলীক কল্পনার দলিল” হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই বাজেট সাধারণ মানুষের স্বার্থ নয়, বরং একটি বিশেষ গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

বুধবার (৭ জুন) রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব মন্তব্য করেন।


“বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই এই বাজেট”

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে যেসব অর্থনৈতিক লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের বর্তমান বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

তিনি বলেন, “এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। দেশের অর্থনৈতিক সূচক যেভাবে চলছে, তাতে এসব লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন।”

তার দাবি অনুযায়ী, বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সুরক্ষার বিষয়ে কার্যকর কোনো পরিকল্পনা নেই।


সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়ার অভিযোগ

বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নতুন বাজেটে জনগণের ওপর করের চাপ আরও বাড়ানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে।

দলটির মতে, বর্তমান সময়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে, কিন্তু বাজেটে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন নেই।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্যান্য নেতারাও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতির কারণে এমন বাজেট তৈরি হয়েছে।


মূল্যস্ফীতি ও কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ

বিএনপি নেতারা বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এখন মূল্যস্ফীতি ও বেকারত্ব। কিন্তু বাজেটে এসব সমস্যার সমাধানে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।

একজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চাপে আছে। বাজেট সেই চাপ কমানোর কোনো বার্তা দেয়নি।”

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


রাজনৈতিক অঙ্গনে বাজেট নিয়ে নিয়মিত বিতর্ক

বাংলাদেশে জাতীয় বাজেট ঘোষণার পর প্রতি বছরই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ক্ষমতাসীন দল সাধারণত বাজেটকে উন্নয়নমুখী ও বাস্তবসম্মত হিসেবে তুলে ধরে, আর বিরোধী দলগুলো বিভিন্ন খাতের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে সমালোচনা করে।

এ বছরও সেই ধারাবাহিকতার ব্যতিক্রম হয়নি। অর্থনীতিবিদদের একাংশ মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি বাজেট প্রণয়নে বড় প্রভাব ফেলেছে।


অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে এর বাস্তবায়নের ওপর। রাজস্ব আহরণ, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং নীতিগত স্বচ্ছতা—এই তিনটি বিষয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

একজন অর্থনীতিবিদ বলেন, “বাজেট কাগজে যত সুন্দরই হোক, বাস্তবায়ন না হলে কোনো সুফল মিলবে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

তাদের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আরও শক্তিশালী করা এবং উৎপাদনমুখী খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি।


জনজীবনে সম্ভাব্য প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট বাস্তবায়নের ধারা যদি দুর্বল হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষ করে খাদ্যপণ্য, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দামের ওপর এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে সঠিক নীতি গ্রহণ করা গেলে অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনা সম্ভব বলেও মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


উপসংহার

২০২৩-২৪ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ঘিরে বিএনপির কঠোর সমালোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সরকার এটিকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির বাজেট হিসেবে দেখালেও বিরোধী দল এটিকে জনগণবিরোধী বলে আখ্যা দিচ্ছে।

সব মিলিয়ে এখন মূল প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে—এই বাজেট বাস্তবে দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে?


ফেসবুক ভাইরাল ক্যাপশন


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর