ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে দায়িত্ব পালনকালে দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. আলমগীর হোসেন (৫৫) নিহত হয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার ফতেহপুর স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন বিকন মডেল কলেজ সড়কের মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এসআরবি সূত্রের ভাষ্য, চেকপোস্টে তল্লাশি কার্যক্রম চলাকালে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব তদারক করছিলেন আলমগীর। এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আহত চালক সজীব এসআরবির হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসআরবি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মধ্যরাতে মহিপাল স্টার লাইন ফিলিং স্টেশন এলাকায় মহাসড়কে ১৫–১৬ সদস্যের একটি দল নিয়মিত তল্লাশিচৌকি পরিচালনা করছিল।
অভিযানের সময় আলমগীর হোসেন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে পুরো কার্যক্রম তদারকি করছিলেন। এর মধ্যেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগতির একটি মালবাহী ট্রাক সেখানে আসে।
সূত্রের ভাষ্য, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি আলমগীরকে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি মহাসড়কের এক পাশে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে আলমগীরের শরীরের নিম্নাংশ গুরুতরভাবে থেঁতলে যায়।
সহকর্মীরা দ্রুত আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুর রহমান জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক সজীবও আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে এসআরবির হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মহাসড়কে দুর্ঘটনা হওয়ায় হাইওয়ে পুলিশ মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিহত মো. আলমগীর হোসেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মনাকিয়া গ্রামের মৃত নূর উদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি পাঁচ সন্তানের জনক ছিলেন।
সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রেষণে তৎকালীন র্যাবে যুক্ত হন। পরে বাহিনীর সাংগঠনিক রূপান্তরের পর চলতি বছরের ১৭ মে তিনি উপসহকারী পরিচালক হিসেবে এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সড়ক দুর্ঘটনায় তার প্রাণ গেল।
আলমগীর হোসেনের মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এসআরবি সদস্য আবদুল জলিল বলেন, আলমগীর অত্যন্ত সজ্জন ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তার পাঁচ সন্তানই বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াশোনা করছে।
ঘটনাস্থলে থাকা এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান বলেন, চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের সময় আলমগীর তার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাকটি এসে তাকে চাপা দেয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
একজন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে হারিয়ে তারা স্তব্ধ বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক। সেখানে রাতের বেলায় তল্লাশিচৌকি পরিচালনার সময় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
বিশেষ করে দ্রুতগতির ভারী যানবাহন চলাচল করা মহাসড়কে চেকপোস্টের অবস্থান, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের নিরাপদ অবস্থান—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। ট্রাকটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, চালকের গতি কত ছিল এবং চেকপোস্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর দুর্ঘটনার দায় ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশে দায়িত্ব পালনকালে দ্রুতগতির একটি ট্রাকের ধাক্কায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) উপসহকারী পরিচালক (ডিএডি) মো. আলমগীর হোসেন (৫৫) নিহত হয়েছেন।
রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার ফতেহপুর স্টার লাইন ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন বিকন মডেল কলেজ সড়কের মুখে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শী ও এসআরবি সূত্রের ভাষ্য, চেকপোস্টে তল্লাশি কার্যক্রম চলাকালে মহাসড়কে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব তদারক করছিলেন আলমগীর। এ সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী একটি মালবাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে চাপা দেয়।
দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। আহত চালক সজীব এসআরবির হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এসআরবি ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, মধ্যরাতে মহিপাল স্টার লাইন ফিলিং স্টেশন এলাকায় মহাসড়কে ১৫–১৬ সদস্যের একটি দল নিয়মিত তল্লাশিচৌকি পরিচালনা করছিল।
অভিযানের সময় আলমগীর হোসেন সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে পুরো কার্যক্রম তদারকি করছিলেন। এর মধ্যেই ঢাকা থেকে চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগতির একটি মালবাহী ট্রাক সেখানে আসে।
সূত্রের ভাষ্য, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি আলমগীরকে চাপা দেয়। পরে ট্রাকটি মহাসড়কের এক পাশে গিয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে। এতে আলমগীরের শরীরের নিম্নাংশ গুরুতরভাবে থেঁতলে যায়।
সহকর্মীরা দ্রুত আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইফুর রহমান জানান, রাত আনুমানিক ১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় ট্রাকচালক সজীবও আহত হয়েছেন। তিনি বর্তমানে এসআরবির হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
মহাসড়কে দুর্ঘটনা হওয়ায় হাইওয়ে পুলিশ মামলা দায়েরসহ পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে জানান তিনি।
নিহত মো. আলমগীর হোসেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার মনাকিয়া গ্রামের মৃত নূর উদ্দিন আহমেদের ছেলে। তিনি পাঁচ সন্তানের জনক ছিলেন।
সেনাবাহিনীর ওয়ারেন্ট অফিসার পদমর্যাদার এই কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল প্রেষণে তৎকালীন র্যাবে যুক্ত হন। পরে বাহিনীর সাংগঠনিক রূপান্তরের পর চলতি বছরের ১৭ মে তিনি উপসহকারী পরিচালক হিসেবে এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পে দায়িত্ব নেন।
দায়িত্ব পালন করতে গিয়েই সড়ক দুর্ঘটনায় তার প্রাণ গেল।
আলমগীর হোসেনের মৃত্যুতে সহকর্মীদের মধ্যে শোক নেমে এসেছে। এসআরবি সদস্য আবদুল জলিল বলেন, আলমগীর অত্যন্ত সজ্জন ও ধর্মপ্রাণ মানুষ ছিলেন। তার পাঁচ সন্তানই বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াশোনা করছে।
ঘটনাস্থলে থাকা এসআরবি-৭ ফেনী ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মিজানুর রহমান বলেন, চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনের সময় আলমগীর তার কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ ট্রাকটি এসে তাকে চাপা দেয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
একজন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ সহকর্মীকে হারিয়ে তারা স্তব্ধ বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন সদর দপ্তরকে জানানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত মহাসড়ক। সেখানে রাতের বেলায় তল্লাশিচৌকি পরিচালনার সময় দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
বিশেষ করে দ্রুতগতির ভারী যানবাহন চলাচল করা মহাসড়কে চেকপোস্টের অবস্থান, যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং দায়িত্ব পালনকারী সদস্যদের নিরাপদ অবস্থান—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ।
এই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। ট্রাকটি কেন নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল, চালকের গতি কত ছিল এবং চেকপোস্ট এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর দুর্ঘটনার দায় ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন