দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬

সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান

সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান

ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে ২৫৭ হামলা, নিহত অন্তত ৭০০ যোদ্ধা

মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে যোগ দিতে ছয়টিরও বেশি দেশের আগ্রহ: ইসহাক দার

হরমুজ প্রণালিতে আবারও তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা, তদন্তে ইউকেএমটিও

ভারতীয় পাইলটকে রক্তাক্ত করা কো-পাইলট হামাম আল-হামানির পরিচয় প্রকাশ

দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লেন কিম জং উন

ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র, জানালেন ট্রাম্প

হুথিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি সৌদি আরবের, পাশে তুরস্ক-পাকিস্তান

সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান

সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের মধ্যে ‘জানফিদা’ কর্মসূচির আওতায় সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ইরান।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।

রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানি বার্তাসংস্থা ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জানফিদা’ ক্যাম্পেইনের আওতায় রাজধানী তেহরানের তিনটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফারসি ‘জানফিদা’ শব্দের অর্থ আত্মোৎসর্গ বা নিজের জীবন উৎসর্গ করা।

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আরিয়ান-নাজাদ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর চারটি ইউনিটের সদস্যরা এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবেন। শুরুতে নাগরিকদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে আরও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত দেশের কাজে লাগানো যায়—এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, দেশজুড়ে অন্তত এক হাজার ‘জানফিদা’ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ব্যাটালিয়নের সদস্যদের প্রয়োজনের সময় বিভিন্ন ধরনের জরুরি কাজে ব্যবহার করা হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় নিরাপত্তা, নজরদারি, উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো বিষয়ও এই কর্মসূচির আওতায় আসছে।

‘জানফিদা’ কর্মসূচিতে শুধু ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী নয়, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এবং প্যারামিলিটারি বাহিনী বাসিজেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে বাসিজের তত্ত্বাবধানে তেহরানে ‘জানফিদা’র একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়। সেখানে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রস্তুতি, স্থানীয় নিরাপত্তা ও নজরদারি, উদ্ধার অভিযান এবং অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

নতুন করে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তিনটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে কার্যক্রম শুরুর ফলে কর্মসূচিটি আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ইরানের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অন্তত এক হাজার ‘জানফিদা’ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

এর অর্থ, উদ্যোগটি শুধু সীমিতসংখ্যক নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যে আটকে থাকছে না। বরং সংকটের সময় দ্রুত সক্রিয় করা যায়—এমন একটি বড় স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই কাঠামোর সাংগঠনিক ভূমিকা, সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কী ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

ইরানের দাবি, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণকে প্রস্তুত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু দেশটির ভেতরেই কর্মসূচিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে কারা প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন, প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কী দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং ‘জানফিদা’ ব্যাটালিয়নগুলো ভবিষ্যতে কতটা সামরিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে—এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

কারণ সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাদের একটি সংগঠিত কাঠামোর অধীনে রাখা হলে সেটি শুধু দুর্যোগ বা উদ্ধার কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু নিয়মিত সেনাবাহিনী নয়, উদ্ধার, স্থানীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও জরুরি সেবায় প্রশিক্ষিত নাগরিকদেরও প্রয়োজন হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের সামরিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং তাদের ওপর কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে—এ বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ।

বিষয় : ইরান সামরিক প্রশিক্ষণ সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ ইরান যুদ্ধ প্রস্তুতি বাসিজ বাহিনী জানফিদা ব্যাটালিয়ন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। জরুরি পরিস্থিতিতে দেশের প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করার জন্য নাগরিকদের প্রস্তুত করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটি।

রোববার (৪ অক্টোবর) ইরানি বার্তাসংস্থা ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জানফিদা’ ক্যাম্পেইনের আওতায় রাজধানী তেহরানের তিনটি সামরিক প্রশিক্ষণকেন্দ্রে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ফারসি ‘জানফিদা’ শব্দের অর্থ আত্মোৎসর্গ বা নিজের জীবন উৎসর্গ করা।

ইরানের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা বিভাগের উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আরিয়ান-নাজাদ জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর চারটি ইউনিটের সদস্যরা এই প্রশিক্ষণ পরিচালনা করবেন। শুরুতে নাগরিকদের প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। পরে ধাপে ধাপে আরও উন্নত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দ্রুত দেশের কাজে লাগানো যায়—এমন একটি স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, দেশজুড়ে অন্তত এক হাজার ‘জানফিদা’ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব ব্যাটালিয়নের সদস্যদের প্রয়োজনের সময় বিভিন্ন ধরনের জরুরি কাজে ব্যবহার করা হবে বলে দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় নিরাপত্তা, নজরদারি, উদ্ধার অভিযান এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো বিষয়ও এই কর্মসূচির আওতায় আসছে।

‘জানফিদা’ কর্মসূচিতে শুধু ইরানের নিয়মিত সেনাবাহিনী নয়, ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড এবং প্যারামিলিটারি বাহিনী বাসিজেরও সম্পৃক্ততা রয়েছে।

গত সেপ্টেম্বরে বাসিজের তত্ত্বাবধানে তেহরানে ‘জানফিদা’র একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্র চালু করা হয়। সেখানে সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রস্তুতি, স্থানীয় নিরাপত্তা ও নজরদারি, উদ্ধার অভিযান এবং অস্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।

নতুন করে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে তিনটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে কার্যক্রম শুরুর ফলে কর্মসূচিটি আরও বিস্তৃত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

ইরানের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে অন্তত এক হাজার ‘জানফিদা’ ব্যাটালিয়ন গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে।

এর অর্থ, উদ্যোগটি শুধু সীমিতসংখ্যক নাগরিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার মধ্যে আটকে থাকছে না। বরং সংকটের সময় দ্রুত সক্রিয় করা যায়—এমন একটি বড় স্বেচ্ছাসেবী কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে এই কাঠামোর সাংগঠনিক ভূমিকা, সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কী ধরনের দায়িত্ব দেওয়া হবে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়।

ইরানের দাবি, সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে বেসামরিক জনগণকে প্রস্তুত করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু দেশটির ভেতরেই কর্মসূচিটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশেষ করে কারা প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন, প্রশিক্ষণ শেষে তাদের কী দায়িত্ব দেওয়া হবে এবং ‘জানফিদা’ ব্যাটালিয়নগুলো ভবিষ্যতে কতটা সামরিক কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হবে—এসব বিষয় নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

কারণ সাধারণ নাগরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পর তাদের একটি সংগঠিত কাঠামোর অধীনে রাখা হলে সেটি শুধু দুর্যোগ বা উদ্ধার কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতের পরিস্থিতিতে ইরানের জন্য অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে শুধু নিয়মিত সেনাবাহিনী নয়, উদ্ধার, স্থানীয় নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও জরুরি সেবায় প্রশিক্ষিত নাগরিকদেরও প্রয়োজন হতে পারে।

তবে একই সঙ্গে সাধারণ জনগণের সামরিকীকরণ নিয়ে উদ্বেগও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীদের ভবিষ্যতে কীভাবে ব্যবহার করা হবে এবং তাদের ওপর কী ধরনের নিয়ন্ত্রণ থাকবে—এ বিষয়গুলো স্পষ্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর