দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শৃঙ্খলাভঙ্গ, সহকর্মীকে মারধর, জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার, বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও সরকারি নথি জালিয়াতির অভিযোগে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন ও কারণ দর্শানোর নোটিশে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কারও এমপিও স্থগিত, কারও ইনডেক্স কর্তন, আবার কারও বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সহকর্মী খাইরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে অধিদপ্তরের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর হোসেন তার সহকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছেন। এ ঘটনায় ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’-এর ১৮.২ (ক) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনায় তার যোগসাজশ এবং দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা ও অযোগ্যতার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেয়েছে অধিদপ্তর।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে।
তবে নোটিশে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা জবাব ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ চরআইচা রাব্বানিয়া আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার এমপিও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
এদিকে নীলফামারীর জলঢাকার গোলনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে তার নিয়োগ তৎকালীন এমপিও জনবল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এ কারণে প্রথম এমপিওভুক্তি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি অর্থে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি তার এমপিও বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই মাদ্রাসার প্রভাষক হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সরকারি কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়েছে, তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তার এমপিও স্থগিতের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশাসনিক নথিতে অভিযোগের পক্ষে তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এমপিও নেওয়ার অভিযোগেও গাজীপুর ও ময়মনসিংহের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের নিবন্ধন সনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ইনডেক্স কর্তনের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ার বিবাদীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. আফজাল হোসেনের ১৬তম নিবন্ধন সনদ এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক লুৎফুন নাহারের ১৩তম নিবন্ধন সনদ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এমপিও ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের বীররামপুর জান্নাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান শামিমা নাছরিনের ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন সনদও ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে এনটিআরসিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চেয়েছে অধিদপ্তর।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগে একটি বিষয় স্পষ্ট—অভিযোগ উঠলেই সরাসরি চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ, শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশকে চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের একটি ধাপ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, এমপিওভুক্তি, নিবন্ধন সনদ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ থাকা জরুরি। কারণ এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুধু সরকারি অর্থ নয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের পরিবেশও সরাসরি যুক্ত।
বিশেষ করে জাল সনদ বা বিধিবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর।
অন্যদিকে তদন্ত ছাড়াই কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। তাই অভিযোগ, তদন্তের ফল এবং চূড়ান্ত শাস্তি—এই তিনটি ধাপকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি তদন্তের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ, নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির মতো বিষয়ে কোনো ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলো, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে যেন নির্দোষ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য যথাযথ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শৃঙ্খলাভঙ্গ, সহকর্মীকে মারধর, জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার, বিধিবহির্ভূত নিয়োগ ও সরকারি নথি জালিয়াতির অভিযোগে ৯ শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু করেছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপন ও কারণ দর্শানোর নোটিশে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। কারও এমপিও স্থগিত, কারও ইনডেক্স কর্তন, আবার কারও বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে কেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না—তা জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের গোপালনগর মহিলা আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের বিরুদ্ধে সহকর্মী খাইরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে অধিদপ্তরের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাঙ্গীর হোসেন তার সহকর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেছেন। এ ঘটনায় ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদ্রাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৬’-এর ১৮.২ (ক) অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
একই ঘটনায় মাদ্রাসাটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. শাহ আলমকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে ঘটনায় তার যোগসাজশ এবং দায়িত্ব পালনে অদক্ষতা ও অযোগ্যতার অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে চেয়েছে অধিদপ্তর।
কুমিল্লার দাউদকান্দি মদিনাতুল উলুম ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমীনের বিরুদ্ধেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
হাইকোর্টের নির্দেশ এবং সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ব্যর্থতার অভিযোগে তাকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানাতে বলা হয়েছে।
তবে নোটিশে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা জবাব ও পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
ভোলার চরফ্যাশনের দক্ষিণ চরআইচা রাব্বানিয়া আলিম মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মো. জাকির হোসেনের নিয়োগের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার এমপিও স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার নিয়োগের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিধি অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই করছে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর।
এদিকে নীলফামারীর জলঢাকার গোলনা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মাহবুবুর রহমানের নিয়োগ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তরের নথি অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে তার নিয়োগ তৎকালীন এমপিও জনবল কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। এ কারণে প্রথম এমপিওভুক্তি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি অর্থে নেওয়া বেতন-ভাতা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি তার এমপিও বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
একই মাদ্রাসার প্রভাষক হোসাইন আহমেদের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
তার বিরুদ্ধে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ এবং সরকারি কাগজপত্র জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের নোটিশে বলা হয়েছে, তদন্তে এসব অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে তার এমপিও স্থগিতের পাশাপাশি ফৌজদারি মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশাসনিক নথিতে অভিযোগের পক্ষে তদন্তে প্রমাণ পাওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ায় অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে আদালতে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
জাল শিক্ষক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এমপিও নেওয়ার অভিযোগেও গাজীপুর ও ময়মনসিংহের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)-এর প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্টদের নিবন্ধন সনদ ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হওয়ার পর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে ইনডেক্স কর্তনের বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ার বিবাদীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার ইবতেদায়ী শিক্ষক মো. আফজাল হোসেনের ১৬তম নিবন্ধন সনদ এবং একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক লুৎফুন নাহারের ১৩তম নিবন্ধন সনদ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের এমপিও ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালের বীররামপুর জান্নাতুল উলুম আলিম মাদ্রাসার ইবতেদায়ী প্রধান শামিমা নাছরিনের ৬ষ্ঠ শিক্ষক নিবন্ধন সনদও ভুয়া হিসেবে শনাক্ত হয়েছে বলে এনটিআরসিএর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তার ইনডেক্স কেন কর্তন করা হবে না, নোটিশে তা জানতে চেয়েছে অধিদপ্তর।
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের এই উদ্যোগে একটি বিষয় স্পষ্ট—অভিযোগ উঠলেই সরাসরি চূড়ান্ত শাস্তি দেওয়া হচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মকর্তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
তিন কার্যদিবসের মধ্যে তাদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। এরপর সংশ্লিষ্ট নথি, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অর্থাৎ, শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশকে চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি মূলত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের একটি ধাপ।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ, এমপিওভুক্তি, নিবন্ধন সনদ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ থাকা জরুরি। কারণ এসব প্রক্রিয়ার সঙ্গে শুধু সরকারি অর্থ নয়, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানের পরিবেশও সরাসরি যুক্ত।
বিশেষ করে জাল সনদ বা বিধিবহির্ভূত নিয়োগের অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত অনিয়মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এর প্রভাব পড়ে পুরো প্রতিষ্ঠানের ওপর।
অন্যদিকে তদন্ত ছাড়াই কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়াও ঠিক নয়। তাই অভিযোগ, তদন্তের ফল এবং চূড়ান্ত শাস্তি—এই তিনটি ধাপকে আলাদা করে দেখা জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে দ্রুত তদন্ত হওয়া যেমন জরুরি, তেমনি তদন্তের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছ রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে শিক্ষক নিবন্ধন সনদ, নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির মতো বিষয়ে কোনো ধরনের জালিয়াতি প্রমাণিত হলে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে এমন অনিয়মের সুযোগ তৈরি হলো, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে যেন নির্দোষ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে জন্য যথাযথ তদন্ত ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন