দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল

যুদ্ধের মধ্যেই ইরানে ২০০ বিলিয়ন ঘনমিটারের বেশি নতুন গ্যাসের সন্ধান

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুসলিম যুবকদের দূরে থাকার আহ্বান কেন?

ডায়মন্ড হারবারে লাইব্রেরিতে বইয়ের বদলে মদের বোতল! কপাটহাটের ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত উমর হায়াতের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাসহ ৫০ ভাষায় পৌঁছাবে হজের খুতবা, বহুভাষিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মক্কার হজ ব্যবস্থাপনা

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল

নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল
ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল বলে দাবি করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে কখন, কোথায় এবং তাঁর কোন ছেলেকে লক্ষ্য করে এমন চেষ্টা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

সোমবার ইসরায়েলের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপে তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ঘটনাটি ‘অবিশ্বাস্য’। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরান তাঁর এক ছেলেকে লক্ষ্য করে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল।

তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, সময়, স্থান বা গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁর দুই ছেলে ও স্ত্রীকে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে নিরাপত্তা দিতে দেশটির একটি নিরাপত্তা সংস্থা অস্বীকৃতি জানিয়েছে—এমন খবরের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নেতানিয়াহু তাঁর ছেলেকে হত্যাচেষ্টার দাবি করেন।

আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আইজেনকোটও একজন প্রতিদ্বন্দ্বী। নেতানিয়াহু তাঁর জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পক্ষে মত দিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য, এ ধরনের নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়। নিরাপত্তা না থাকলে ইরানিরা সফল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অবস্থান করছেন।

তাঁর নিরাপত্তার পেছনে ইসরায়েলি করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি দেশটিতে আগে থেকেই বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য নিরাপত্তা নিয়ে সেই পুরোনো বিতর্ককেও আবার সামনে এনেছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য হামলায় নিহত হওয়ার পর ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। পরে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবাকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে। তবে তাঁর বাবার দাফন উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তিনি ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
  • তিনি ঘটনার সময়, স্থান বা লক্ষ্য হওয়া ছেলের পরিচয় জানাননি।
  • ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নেতানিয়াহুর পরিবারকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • নির্বাচনের আগে তাঁর বক্তব্যটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই আলোচনায় এসেছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যটি গুরুতর হলেও এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা প্রতিবেদন বা তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। তাই এটিকে আপাতত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।

নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: বক্তব্যটির সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে এই দাবি যেমন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের বিষয়টি সামনে আনছে, তেমনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী রাজনীতিতেও এটি নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে দাবিটির বাস্তব ভিত্তি বুঝতে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন তথ্যের প্রয়োজন।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণিত তথ্য ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। নতুন কোনো সরকারি তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে এলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।

বিষয় : ইরান ইসরায়েল যুদ্ধ ইসরায়েলের খবর ইরানের সর্বশেষ খবর ইরান ইসরায়েল সংঘাত নেতানিয়াহু

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬


নেতানিয়াহুর দাবি, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল

প্রকাশের তারিখ : ২৫ আগস্ট ২০২৬

featured Image

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল। তবে কখন, কোথায় এবং তাঁর কোন ছেলেকে লক্ষ্য করে এমন চেষ্টা চালানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি তিনি।

সোমবার ইসরায়েলের রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ১৪-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ দাবি করেন নেতানিয়াহু। তাঁর বক্তব্য এমন সময়ে সামনে এলো, যখন আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন ঘিরে জনমত জরিপে তাঁর নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোট পিছিয়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ঘটনাটি ‘অবিশ্বাস্য’। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরান তাঁর এক ছেলেকে লক্ষ্য করে হত্যাচেষ্টার পরিকল্পনা করেছিল।

তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো নির্দিষ্ট ঘটনা, সময়, স্থান বা গোয়েন্দা তথ্য প্রকাশ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নেতানিয়াহুর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। দ্য জেরুজালেম পোস্ট-এর তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাঁর দুই ছেলে ও স্ত্রীকে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটকে নিরাপত্তা দিতে দেশটির একটি নিরাপত্তা সংস্থা অস্বীকৃতি জানিয়েছে—এমন খবরের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নেতানিয়াহু তাঁর ছেলেকে হত্যাচেষ্টার দাবি করেন।

আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আইজেনকোটও একজন প্রতিদ্বন্দ্বী। নেতানিয়াহু তাঁর জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার পক্ষে মত দিয়েছেন।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য, এ ধরনের নিরাপত্তা কোনো বিলাসিতা নয়। নিরাপত্তা না থাকলে ইরানিরা সফল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর বড় ছেলে ৩৫ বছর বয়সী ইয়ার নেতানিয়াহু ২০২৪ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অবস্থান করছেন।

তাঁর নিরাপত্তার পেছনে ইসরায়েলি করদাতাদের অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি দেশটিতে আগে থেকেই বিতর্ক তৈরি করেছে। ফলে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক বক্তব্য নিরাপত্তা নিয়ে সেই পুরোনো বিতর্ককেও আবার সামনে এনেছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ঘিরে উত্তেজনা দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয়।

প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য হামলায় নিহত হওয়ার পর ইরান প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিল। পরে মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

দায়িত্ব নেওয়ার পর মোজতবাকে প্রকাশ্যে খুব কমই দেখা গেছে। তবে তাঁর বাবার দাফন উপলক্ষে দেওয়া বার্তায় তিনি ‘রক্তের প্রতিশোধ’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ দিক

  • নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইরান তাঁর এক ছেলেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল।
  • তিনি ঘটনার সময়, স্থান বা লক্ষ্য হওয়া ছেলের পরিচয় জানাননি।
  • ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ নেতানিয়াহুর পরিবারকে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • নির্বাচনের আগে তাঁর বক্তব্যটি রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা—দুই দিক থেকেই আলোচনায় এসেছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যটি গুরুতর হলেও এর সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট গোয়েন্দা প্রতিবেদন বা তদন্তের তথ্য প্রকাশ্যে দেওয়া হয়নি। তাই এটিকে আপাতত ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দাবি হিসেবেই দেখা উচিত।

নিজস্ব পর্যবেক্ষণ: বক্তব্যটির সময়টিও গুরুত্বপূর্ণ। নিরাপত্তা নিয়ে এই দাবি যেমন ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের বিষয়টি সামনে আনছে, তেমনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনী রাজনীতিতেও এটি নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে। তবে দাবিটির বাস্তব ভিত্তি বুঝতে আরও নির্ভরযোগ্য ও স্বাধীন তথ্যের প্রয়োজন।

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত নানা দাবি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে কোনো ব্যক্তিকে হত্যার ষড়যন্ত্রের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রমাণিত তথ্য ও রাজনৈতিক বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। নতুন কোনো সরকারি তদন্ত বা নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে এলে বিষয়টির প্রকৃত চিত্র আরও পরিষ্কার হতে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর