নেত্রকোনায় কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের কারণে কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন রোগ বাড়ছে এবং চিকিৎসা খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
বুধবার (তারিখ অনুযায়ী) বেলা সাড়ে ১১টায় নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। আয়োজন করে বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ), নেত্রকোনা অঞ্চল।
গবেষণায় ৫টি গ্রামের ৩০ জন কৃষকের ওপর মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ২৩ জন কৃষক নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গবেষণা উপস্থাপন করেন বাসসের সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী তানভীর হায়াত খান। তিনি জানান, কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যার বড় অংশ বাজারে ভিন্ন নামে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ২৩ জন কৃষক গত এক বছরে প্রায় ৪৭০ কাঠা জমিতে চাষাবাদ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা কীটনাশক কিনতে ব্যয় করেছেন প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে, একই সময়ে এসব কৃষকের চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
গবেষকরা বলছেন, কৃষকেরা একদিকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে অজান্তেই নিজের স্বাস্থ্যকে বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, কৃষকদের মধ্যে কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেকেই জানেন না কোনটি নিরাপদ এবং কোনটি নিষিদ্ধ।
এছাড়া বাজারে কীটনাশক বিক্রির ওপর যথাযথ নজরদারি না থাকা, এবং কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত তথ্য না পৌঁছানোকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকরা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ কীটনাশক ভিন্ন নামে বিক্রি করছে, যা সরাসরি কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে শুধু কৃষকের স্বাস্থ্য নয়, পুরো পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীও এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহার একটি সাধারণ চর্চা। উচ্চ ফলন পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ব্যবহার করেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন গবেষণা বলছে, কিছু কীটনাশক দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট এবং স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নেত্রকোনা জেলা কৃষিনির্ভর এলাকা হওয়ায় এখানে কৃষি উৎপাদন বেশি হলেও সচেতনতা ও মনিটরিং তুলনামূলকভাবে কম।
গবেষণার ফলাফল থেকে স্পষ্ট, কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শুধু কৃষকের জীবন নয়, পুরো পরিবেশ ব্যবস্থাকেই ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সচেতনতা, নজরদারি এবং নিরাপদ কৃষি পদ্ধতি চালু না করলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ জুলাই ২০২৫
নেত্রকোনায় কৃষিতে ব্যবহৃত কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে করা এক গবেষণায় উঠে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। নিষিদ্ধ ও ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের কারণে কৃষকদের মধ্যে বিভিন্ন রোগ বাড়ছে এবং চিকিৎসা খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
বুধবার (তারিখ অনুযায়ী) বেলা সাড়ে ১১টায় নেত্রকোনা শহরের মোক্তারপাড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। আয়োজন করে বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ), নেত্রকোনা অঞ্চল।
গবেষণায় ৫টি গ্রামের ৩০ জন কৃষকের ওপর মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ২৩ জন কৃষক নানা ধরনের শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
গবেষণা উপস্থাপন করেন বাসসের সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মী তানভীর হায়াত খান। তিনি জানান, কৃষকেরা দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ বা ঝুঁকিপূর্ণ কীটনাশক ব্যবহার করছেন, যার বড় অংশ বাজারে ভিন্ন নামে বিক্রি হচ্ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ২৩ জন কৃষক গত এক বছরে প্রায় ৪৭০ কাঠা জমিতে চাষাবাদ করেছেন। এই সময়ের মধ্যে তারা কীটনাশক কিনতে ব্যয় করেছেন প্রায় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ টাকা।
অন্যদিকে, একই সময়ে এসব কৃষকের চিকিৎসা ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা, যা কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করছে।
গবেষকরা বলছেন, কৃষকেরা একদিকে উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন, অন্যদিকে অজান্তেই নিজের স্বাস্থ্যকে বড় ঝুঁকির মধ্যে ফেলছেন।
সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, কৃষকদের মধ্যে কীটনাশক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম সম্পর্কে সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেকেই জানেন না কোনটি নিরাপদ এবং কোনটি নিষিদ্ধ।
এছাড়া বাজারে কীটনাশক বিক্রির ওপর যথাযথ নজরদারি না থাকা, এবং কৃষি বিভাগের পর্যাপ্ত তথ্য না পৌঁছানোকে বড় সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
গবেষকরা বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিষিদ্ধ কীটনাশক ভিন্ন নামে বিক্রি করছে, যা সরাসরি কৃষি ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. অহিদুর রহমান বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে শুধু কৃষকের স্বাস্থ্য নয়, পুরো পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
নেত্রকোনা জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরীও এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কৃষিতে কীটনাশক ব্যবহার একটি সাধারণ চর্চা। উচ্চ ফলন পাওয়ার আশায় অনেক কৃষক অতিরিক্ত বা অনিয়ন্ত্রিত কীটনাশক ব্যবহার করেন। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এবং বিভিন্ন গবেষণা বলছে, কিছু কীটনাশক দীর্ঘমেয়াদে ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট এবং স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
নেত্রকোনা জেলা কৃষিনির্ভর এলাকা হওয়ায় এখানে কৃষি উৎপাদন বেশি হলেও সচেতনতা ও মনিটরিং তুলনামূলকভাবে কম।
গবেষণার ফলাফল থেকে স্পষ্ট, কীটনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার শুধু কৃষকের জীবন নয়, পুরো পরিবেশ ব্যবস্থাকেই ঝুঁকিতে ফেলছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সচেতনতা, নজরদারি এবং নিরাপদ কৃষি পদ্ধতি চালু না করলে ভবিষ্যতে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন