ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচজন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয় আতঙ্ক, আর অ্যাম্বুলেন্সটির বিধ্বস্ত চিত্র দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয়রা।
রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আহত কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও শুরুতে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি বিআরটিসি বাস। একই সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের দোকান ও বাড়ির মানুষ ছুটে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সটি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভেতরে থাকা যাত্রীদের অনেকেই আটকে পড়েন। স্থানীয় লোকজন ও হাইওয়ে পুলিশ মিলে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এক দোকানি বলেন, “হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে বের হই। এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশ পুরো ভেঙে গেছে। মানুষজন চিৎকার করছিল।”
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের সময় অন্তত একটি যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে। তবে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং বা চালকের অসাবধানতা—কোনটি মূল কারণ ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। পরে উদ্ধার তৎপরতা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স জড়িত দুর্ঘটনা এখন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, ক্লান্ত চালক, অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করে। অন্যদিকে বাসচালকদের বিরুদ্ধেও সময় বাঁচাতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কিছু অংশে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড ও মোড়গুলোতে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর শংকরপাশা এলাকায় মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকে মোবাইলে দুর্ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে থাকেন, আবার অনেকে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের বের করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দুর্ঘটনার খবর। অনেকেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একাধিক সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা বলছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ করলেই হবে না, সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর দাবিও তুলেছেন তারা।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও থানায় যোগাযোগ করছেন অনেকে। দুর্ঘটনায় নিহতরা কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ছিল কি না—এসব বিষয়ও এখনও পরিষ্কার নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন ধীরে ধীরে এক নীরব আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসছেন না। ফরিদপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাও সেই দীর্ঘ তালিকায় আরেকটি বেদনাদায়ক নাম হয়ে থাকল।

রোববার, ২৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
ফরিদপুরের নগরকান্দায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত পাঁচজন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় যাত্রীবাহী বিআরটিসি বাস ও একটি অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কজুড়ে তৈরি হয় আতঙ্ক, আর অ্যাম্বুলেন্সটির বিধ্বস্ত চিত্র দেখে শিউরে ওঠেন স্থানীয়রা।
রোববার (২৪ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানিয়েছে পুলিশ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি। আহত কেউ ছিলেন কি না, সে বিষয়েও শুরুতে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাঙ্গা থেকে ফরিদপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি বিআরটিসি বাস। একই সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসছিল একটি অ্যাম্বুলেন্স। শংকরপাশা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে দুটি যানবাহনের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের শব্দ এতটাই তীব্র ছিল যে আশপাশের দোকান ও বাড়ির মানুষ ছুটে আসেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর অ্যাম্বুলেন্সটি পুরোপুরি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ভেতরে থাকা যাত্রীদের অনেকেই আটকে পড়েন। স্থানীয় লোকজন ও হাইওয়ে পুলিশ মিলে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। তবে ঘটনাস্থলেই পাঁচজনের মৃত্যু হওয়ায় সেখানে হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
এক দোকানি বলেন, “হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে বের হই। এসে দেখি অ্যাম্বুলেন্সের সামনের অংশ পুরো ভেঙে গেছে। মানুষজন চিৎকার করছিল।”
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের সময় অন্তত একটি যানবাহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলতে পারে। তবে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং বা চালকের অসাবধানতা—কোনটি মূল কারণ ছিল, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে। পরে উদ্ধার তৎপরতা শেষে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টাও করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের মহাসড়কগুলোতে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার খবর সামনে আসে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস, ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স জড়িত দুর্ঘটনা এখন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, মহাসড়কে বেপরোয়া গতি, ক্লান্ত চালক, অনিয়ন্ত্রিত ওভারটেকিং এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় জরুরি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর চাপে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করে। অন্যদিকে বাসচালকদের বিরুদ্ধেও সময় বাঁচাতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের কিছু অংশে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটে। বিশেষ করে ব্যস্ত বাসস্ট্যান্ড ও মোড়গুলোতে কার্যকর নজরদারির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার পর শংকরপাশা এলাকায় মানুষের ভিড় জমে যায়। অনেকে মোবাইলে দুর্ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে থাকেন, আবার অনেকে উদ্ধার কাজে অংশ নেন। অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের বের করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দুর্ঘটনার খবর। অনেকেই সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো এবং চালকদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একাধিক সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা বলছেন, শুধু দুর্ঘটনার পর শোক প্রকাশ করলেই হবে না, সড়ক ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আনতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ, ফিটনেসবিহীন যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং মহাসড়কে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর দাবিও তুলেছেন তারা।
নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত না হওয়ায় স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও থানায় যোগাযোগ করছেন অনেকে। দুর্ঘটনায় নিহতরা কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছিলেন, অ্যাম্বুলেন্সে রোগী ছিল কি না—এসব বিষয়ও এখনও পরিষ্কার নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহগুলো উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পেছনে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা হবে।
বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা যেন ধীরে ধীরে এক নীরব আতঙ্কে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কেউ না কেউ ঘর থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসছেন না। ফরিদপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনাও সেই দীর্ঘ তালিকায় আরেকটি বেদনাদায়ক নাম হয়ে থাকল।

আপনার মতামত লিখুন