দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি, পাশে হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার

জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ একাডেমি, পাশে হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার

১৫ অক্টোবর থেকে ন্যাশনাল ব্যাংকে স্বাভাবিক লেনদেন, এটিএমে মিলবে নগদ টাকা

নিরাপদ পানির নিশ্চয়তায় ২৫ হাজার কোটি টাকার সমন্বিত প্রকল্পের পরিকল্পনা

পানিবণ্টনে ভারতের কাছে ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বায়রার অনুমোদনের অপেক্ষা, উৎপাদনের দ্বারপ্রান্তে রূপপুরের প্রথম ইউনিট

নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

ঢাকা, গাজীপুর ও রংপুর সিটির উন্নয়নে ৫ হাজার ১৮৪ কোটি টাকার ৪ প্রকল্প অনুমোদন

দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, ১৭ অক্টোবর শনিবার অফিস

রামিসা হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বড় মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা

রামিসা হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বড় মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা
রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সান্ত্বনা দেন প্রধানমন্ত্রী, বড় বোনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। -ছবি: সংগৃহীত

রামিসা হত্যাকাণ্ড: শোকার্ত পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী, বড় মেয়ের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন এক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গভীর রাতে নিহত শিশুর বাসায় গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি রামিসার বড় বোনের ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তার এই ঘোষণার পর ঘটনাটি ঘিরে সারা দেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরে রামিসাদের বাসভবনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুরো এলাকায় তখন ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাসার সামনে উৎসুক মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়ও দেখা যায়।

কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা

প্রধানমন্ত্রী বাসায় পৌঁছানোর পর রামিসার মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিবারের এক সদস্য জানান, “আমরা শুধু বিচার চাই। যেন আর কোনো মা-বাবাকে এমন কষ্ট সহ্য করতে না হয়।” প্রধানমন্ত্রীর সামনে এ কথা বলতে গিয়েও বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তারা।

সরকারপ্রধান এ সময় রামিসার বড় বোনের লেখাপড়া, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। তার এই আশ্বাসে পরিবার কিছুটা মানসিক ভরসা পেয়েছে বলে জানা গেছে।

যেভাবে সামনে আসে ভয়াবহ হত্যার ঘটনা

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এমন নৃশংসতা আগে খুব কমই দেখেছে তারা।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়ার পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

দেশজুড়ে ক্ষোভ, রাজপথে প্রতিবাদ

রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ— সব জায়গাতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক সংগঠন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।


প্রতিবাদকারীদের দাবি, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গেলে অপরাধীরা উৎসাহ পায়। তাই এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটেও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “শুধু শোক নয়, এবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে চায় মানুষ।”

কেন বারবার ঘটছে এমন ঘটনা?

শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন অপরাধের ঘটনা দেশে নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নৃশংস ঘটনায় মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি, মাদক, বিকৃত মানসিকতা এবং দ্রুত বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি— এসব কারণে অপরাধীরা সাহস পেয়ে যাচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রকেও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে বাসা-বাড়ি, স্কুল ও আশপাশের পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা আরও বলছেন, এমন ঘটনার পর শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি। শিশুদের নিরাপত্তা শিক্ষা, সন্দেহজনক আচরণ চিহ্নিত করা এবং দ্রুত আইনি সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কী বার্তা দেখছেন মানুষ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, রামিসার পরিবারের পাশে সরাসরি দাঁড়ানো এবং বড় বোনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাটি সাধারণ মানুষের কাছে একটি মানবিক বার্তা হিসেবে গেছে। বিশেষ করে সামাজিকভাবে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য রাষ্ট্র পাশে আছে— এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের বড় প্রত্যাশা এখন একটাই— এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কত দ্রুত ও কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।


কারণ দেশে অতীতে আলোচিত অনেক ঘটনার ক্ষেত্রেই শুরুতে ব্যাপক আলোচনা হলেও পরে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই রামিসা হত্যার ঘটনায়ও মানুষ শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান বিচার দেখতে চায়।

শিশু রামিসার ছোট্ট জীবন যেভাবে থেমে গেল, সেটি পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তার পরিবারের কান্না এখন হাজারো মানুষের কণ্ঠে মিশে গেছে। আর সেই কান্নার মধ্যেই মানুষ খুঁজছে নিরাপত্তা, বিচার এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা নিশ্চয়তা।

বিষয় : রামিসা হত্যা, পল্লবী হত্যাকাণ্ড, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিশু হত্যা বাংলাদেশ, রামিসা হত্যার বিচার

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬


রামিসা হত্যাকাণ্ড: পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বড় মেয়ের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা

প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬

featured Image

রামিসা হত্যাকাণ্ড: শোকার্ত পরিবারের পাশে প্রধানমন্ত্রী, বড় মেয়ের ভবিষ্যতের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যার শিকার শিশু রামিসা আক্তারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে নতুন এক বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গভীর রাতে নিহত শিশুর বাসায় গিয়ে শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেওয়ার পাশাপাশি রামিসার বড় বোনের ভবিষ্যতের সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি। তার এই ঘোষণার পর ঘটনাটি ঘিরে সারা দেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১০টার দিকে মিরপুর-১১ নম্বরে রামিসাদের বাসভবনে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পুরো এলাকায় তখন ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বাসার সামনে উৎসুক মানুষ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড়ও দেখা যায়।

কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা

প্রধানমন্ত্রী বাসায় পৌঁছানোর পর রামিসার মা ও স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত ও বিচারের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিবারের এক সদস্য জানান, “আমরা শুধু বিচার চাই। যেন আর কোনো মা-বাবাকে এমন কষ্ট সহ্য করতে না হয়।” প্রধানমন্ত্রীর সামনে এ কথা বলতে গিয়েও বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তারা।

সরকারপ্রধান এ সময় রামিসার বড় বোনের লেখাপড়া, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেন। তার এই আশ্বাসে পরিবার কিছুটা মানসিক ভরসা পেয়েছে বলে জানা গেছে।

যেভাবে সামনে আসে ভয়াবহ হত্যার ঘটনা

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) পল্লবীর একটি বাসা থেকে শিশু রামিসার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তেই এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, এমন নৃশংসতা আগে খুব কমই দেখেছে তারা।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রাথমিক তদন্তে পাশের ফ্ল্যাটের এক ভাড়াটিয়ার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে আসে। পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানা নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আটক হওয়ার পর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে মামলাটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং পুরো ঘটনার পেছনে অন্য কোনো ব্যক্তি জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

দেশজুড়ে ক্ষোভ, রাজপথে প্রতিবাদ

রামিসা হত্যাকাণ্ডের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ— সব জায়গাতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও সামাজিক সংগঠন মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।


প্রতিবাদকারীদের দাবি, শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণের ঘটনায় বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে গেলে অপরাধীরা উৎসাহ পায়। তাই এই মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিয়ে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা ও সিলেটেও প্রতিবাদ কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে। অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “শুধু শোক নয়, এবার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে চায় মানুষ।”

কেন বারবার ঘটছে এমন ঘটনা?

শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও যৌন অপরাধের ঘটনা দেশে নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক নৃশংস ঘটনায় মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি, মাদক, বিকৃত মানসিকতা এবং দ্রুত বিচার না হওয়ার সংস্কৃতি— এসব কারণে অপরাধীরা সাহস পেয়ে যাচ্ছে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুদের নিরাপত্তা শুধু পরিবারের দায়িত্ব নয়; সমাজ ও রাষ্ট্রকেও সমানভাবে এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে বাসা-বাড়ি, স্কুল ও আশপাশের পরিবেশে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তারা আরও বলছেন, এমন ঘটনার পর শুধু ক্ষোভ প্রকাশ করলেই হবে না, দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা তৈরি করাও জরুরি। শিশুদের নিরাপত্তা শিক্ষা, সন্দেহজনক আচরণ চিহ্নিত করা এবং দ্রুত আইনি সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণায় কী বার্তা দেখছেন মানুষ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করছেন, রামিসার পরিবারের পাশে সরাসরি দাঁড়ানো এবং বড় বোনের দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণাটি সাধারণ মানুষের কাছে একটি মানবিক বার্তা হিসেবে গেছে। বিশেষ করে সামাজিকভাবে অসহায় পরিবারগুলোর জন্য রাষ্ট্র পাশে আছে— এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা দেখা যাচ্ছে বলে মনে করছেন তারা।

তবে একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের বড় প্রত্যাশা এখন একটাই— এই হত্যাকাণ্ডের বিচার কত দ্রুত ও কতটা কার্যকরভাবে সম্পন্ন হয়।


কারণ দেশে অতীতে আলোচিত অনেক ঘটনার ক্ষেত্রেই শুরুতে ব্যাপক আলোচনা হলেও পরে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তাই রামিসা হত্যার ঘটনায়ও মানুষ শুধু আশ্বাস নয়, দৃশ্যমান বিচার দেখতে চায়।

শিশু রামিসার ছোট্ট জীবন যেভাবে থেমে গেল, সেটি পুরো দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। তার পরিবারের কান্না এখন হাজারো মানুষের কণ্ঠে মিশে গেছে। আর সেই কান্নার মধ্যেই মানুষ খুঁজছে নিরাপত্তা, বিচার এবং ভবিষ্যতের জন্য কিছুটা নিশ্চয়তা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর