যশোরের বেনাপোল সীমান্তে ফের বড় ধরনের চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, খাদ্যপণ্য, কসমেটিক্স ও চকলেটসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। সীমান্তজুড়ে চলমান পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মধ্যেই এ অভিযান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন ৪৯ বিজিবির অধীন বেনাপোল বিওপি ও বেনাপোল আইসিপি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্র বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হলে চোরাচালানের এসব পণ্য আটক করা সম্ভব হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানে ভারতীয় ৭৯টি শাড়ি, ৯ কেজি জিরা, ১১১ কেজি ফুসকা, ১০ কেজি কিসমিস, ১৯ প্যাকেট সন পাপড়ি, ১৪৪টি বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী, ৪ হাজার ৯৬৮টি চকলেট এবং ৯৭৯টি কসমেটিক্স পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
আটক হওয়া এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ১ হাজার ৭৭০ টাকা বলে দাবি করেছে বিজিবি। তবে এসব মালামালের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেনাপোল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের একটি সক্রিয় রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় শাড়ি, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য প্রায়ই অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় পাচার চক্র সক্রিয় থাকায় বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
যদিও স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সীমান্ত এলাকায় মাঝে মধ্যেই বড় চালান আটক হলেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তাদের মতে, সীমান্তের কিছু অসাধু চক্র নানা কৌশলে এখনও সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেকারত্ব, দ্রুত লাভের প্রলোভন এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের কারণে চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ছোট ছোট বহনকারীদের ব্যবহার করে বড় সিন্ডিকেটগুলো অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অবৈধ পথে পণ্য দেশে প্রবেশ করলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন। অন্যদিকে ভারতীয় প্রসাধনী, শাড়ি ও খাদ্যপণ্যের প্রতি একশ্রেণির ক্রেতার বাড়তি আগ্রহও চোরাচালানকে উৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ‘সহজ আয়ের সংস্কৃতি’ অনেক তরুণকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে টেনে নিচ্ছে। ফলে শুধু অভিযান নয়, সচেতনতা ও বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরিও জরুরি হয়ে উঠেছে।
বেনাপোলের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্তে বিজিবির টহল আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে নজরদারি আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। এতে অনেক চোরাকারবারি আতঙ্কে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে কেউ কেউ বলছেন, শুধু পণ্য আটক করলেই হবে না, এর পেছনের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। নইলে কিছুদিন পরপর একই ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের একটি অংশও বলছেন, অবৈধ পথে পণ্য প্রবেশের কারণে বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই সীমান্তে আরও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তকে চোরাচালানমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, টহল এবং বিশেষ অভিযান একসঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ ও উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্তে অভিযান অব্যাহত থাকলে চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে এর জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
যশোরের বেনাপোল সীমান্তে ফের বড় ধরনের চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে পৃথক অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, খাদ্যপণ্য, কসমেটিক্স ও চকলেটসহ প্রায় ১২ লাখ টাকার অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়েছে। সীমান্তজুড়ে চলমান পাচার চক্রের বিরুদ্ধে বিজিবির কঠোর অবস্থানের মধ্যেই এ অভিযান নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
মঙ্গলবার (২০ মে) যশোর ব্যাটালিয়ন ৪৯ বিজিবির অধীন বেনাপোল বিওপি ও বেনাপোল আইসিপি এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। বিজিবি সূত্র বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্তের কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হলে চোরাচালানের এসব পণ্য আটক করা সম্ভব হয়।
বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে, অভিযানে ভারতীয় ৭৯টি শাড়ি, ৯ কেজি জিরা, ১১১ কেজি ফুসকা, ১০ কেজি কিসমিস, ১৯ প্যাকেট সন পাপড়ি, ১৪৪টি বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী, ৪ হাজার ৯৬৮টি চকলেট এবং ৯৭৯টি কসমেটিক্স পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
আটক হওয়া এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ১২ লাখ ১ হাজার ৭৭০ টাকা বলে দাবি করেছে বিজিবি। তবে এসব মালামালের সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেনাপোল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানকারীদের একটি সক্রিয় রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় শাড়ি, প্রসাধনী, খাদ্যপণ্য ও বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য প্রায়ই অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবি দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় পাচার চক্র সক্রিয় থাকায় বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
যদিও স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, সীমান্ত এলাকায় মাঝে মধ্যেই বড় চালান আটক হলেও চোরাচালান পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। তাদের মতে, সীমান্তের কিছু অসাধু চক্র নানা কৌশলে এখনও সক্রিয় রয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেকারত্ব, দ্রুত লাভের প্রলোভন এবং সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের কারণে চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে ছোট ছোট বহনকারীদের ব্যবহার করে বড় সিন্ডিকেটগুলো অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে যায়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, অবৈধ পথে পণ্য দেশে প্রবেশ করলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারায়। একই সঙ্গে বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন। অন্যদিকে ভারতীয় প্রসাধনী, শাড়ি ও খাদ্যপণ্যের প্রতি একশ্রেণির ক্রেতার বাড়তি আগ্রহও চোরাচালানকে উৎসাহিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা ‘সহজ আয়ের সংস্কৃতি’ অনেক তরুণকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে টেনে নিচ্ছে। ফলে শুধু অভিযান নয়, সচেতনতা ও বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরিও জরুরি হয়ে উঠেছে।
বেনাপোলের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সীমান্তে বিজিবির টহল আগের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে রাতে নজরদারি আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। এতে অনেক চোরাকারবারি আতঙ্কে রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
তবে কেউ কেউ বলছেন, শুধু পণ্য আটক করলেই হবে না, এর পেছনের মূল হোতাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। নইলে কিছুদিন পরপর একই ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকবে।
সীমান্ত এলাকার ব্যবসায়ীদের একটি অংশও বলছেন, অবৈধ পথে পণ্য প্রবেশের কারণে বৈধ আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তাই সীমান্তে আরও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বিজিবি কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্তকে চোরাচালানমুক্ত রাখতে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, টহল এবং বিশেষ অভিযান একসঙ্গে পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে ঈদ ও উৎসবকেন্দ্রিক সময়ে চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কায় নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সীমান্তে অভিযান অব্যাহত থাকলে চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসতে পারে। তবে এর জন্য স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

আপনার মতামত লিখুন