দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : বুধবার, ২০ মে ২০২৬

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, খারাপ আবহাওয়ায় বায়তুল মোকাররমে আয়োজন

জাতীয় ঈদগাহে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত সকাল সাড়ে ৭টায়, খারাপ আবহাওয়ায় বায়তুল মোকাররমে আয়োজন

গাজীপুরের কামতা গ্যাসক্ষেত্র থেকে আগামী জুনে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস: প্রতিমন্ত্রী

বেনাপোলে বিজিবির বড় অভিযান, ১২ লাখ টাকার মালামাল আটক

প্রিয় সোনামনি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত’—একটি পোস্টে কাঁদালেন জামায়াত আমির

টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর আজ

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু হাবিবার সফল অপারেশন, নতুন নাম রাখা হলো ‘জুবাইদা’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শিশুদের আনন্দঘন সময়, ভূমি ভবনের ডে-কেয়ার সেন্টারে কেক কাটলেন।

চট্টগ্রামে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনে প্রটোকল কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার, ঘিরে নানা প্রশ্ন

টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর আজ

টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর আজ
টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তা ও প্রস্তুতিতে ব্যস্ত প্রশাসন। -ছবি: সংগৃহীত

টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তার চাদরে মোড়া সাতাইশ ধরপাড়া

গাজীপুরের টঙ্গীতে আজ ভিন্ন এক আবহ। সকাল থেকেই সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় বাড়ছে মানুষের ভিড়, ব্যস্ত হয়ে উঠেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ, বুধবার (২০ মে) সেখানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে ঘিরে পুরো এলাকায় নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী এদিন ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণাকে এগিয়ে নিতে এটি সরকারের বড় উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


যে কারণে গুরুত্ব পাচ্ছে এই প্রকল্প

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, অগ্নিকাণ্ড কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নানা সংকটে পড়তে হয় দেশের মানুষকে। অথচ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান এতদিন ছিল না বললেই চলে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন এই ইনস্টিটিউট চালু হলে শুধু সরকারি কর্মকর্তা নয়, স্থানীয় পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক, উদ্ধারকর্মী এবং গবেষকরাও আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে বিদেশি গবেষক ও প্রশিক্ষণার্থীদেরও এখানে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (ত্রাণ) রাসেল সাবরিন বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুপুরেই শুরু হচ্ছে মূল আয়োজন

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসন গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

পরে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত উপস্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। এরপর শুরু হবে সুধী সমাবেশ।

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। সভাপতিত্ব করবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদ হাবিব দুলু

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার হওয়া জমিতে নির্মাণ

এই প্রকল্পের আরেকটি আলোচিত দিক হলো জমির ইতিহাস। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্য যে সরকারি জমি নির্বাচন করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন বিভিন্নভাবে বেদখলে ছিল।

প্রশাসনের দাবি, পুরোনো নথিপত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের পর জমিটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়।

জানা যায়, পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকে রিফিউজি পুনর্বাসনের জন্য টঙ্গীর সাতাইশ, গুশুলিয়া ও গাছা মৌজায় বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব জমির একটি বড় অংশ দখলে চলে যায়। ফলে সরকারি সম্পত্তির প্রকৃত ইতিহাসও অনেকটা আড়ালে পড়ে যায়।

প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো কিছু জমি পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারায় সেখানে বড় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।


টঙ্গীজুড়ে নিরাপত্তার বলয়

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন, সকাল থেকেই এলাকায় তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চোখে পড়ছে। অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশপথেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অতিথি ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবা—সবকিছুই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন বাড়ছে এমন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে দুর্যোগের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, এখন প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি, তথ্যভিত্তিক গবেষণা এবং প্রশিক্ষিত জনবল।

অনেক সময় দেখা যায়, দুর্যোগের সময় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। উদ্ধারকাজে প্রযুক্তির ব্যবহারও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে এখন শুধু প্রশাসনিক কাজ হিসেবে দেখলে হবে না। এটিকে শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও জনসচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সেই জায়গা থেকেই এই ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সেটি কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে, প্রশিক্ষণের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হবে কি না এবং গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানো যাবে কি না—সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বাংলাদেশে অতীতে অনেক বড় প্রকল্প উদ্বোধনের পরও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি—এমন আলোচনা প্রায়ই সামনে আসে। তাই এই প্রতিষ্ঠান কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : তারেক রহমান, টঙ্গী সংবাদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট, গাজীপুর খবর, প্রধানমন্ত্রীর সফর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর আজ

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

টঙ্গীতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, নিরাপত্তার চাদরে মোড়া সাতাইশ ধরপাড়া

গাজীপুরের টঙ্গীতে আজ ভিন্ন এক আবহ। সকাল থেকেই সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় বাড়ছে মানুষের ভিড়, ব্যস্ত হয়ে উঠেছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কারণ, বুধবার (২০ মে) সেখানে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার সফরকে ঘিরে পুরো এলাকায় নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। একই সঙ্গে স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

সরকারি সূত্র বলছে, প্রধানমন্ত্রী এদিন ‘জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট’ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় দক্ষ জনবল তৈরি এবং গবেষণাকে এগিয়ে নিতে এটি সরকারের বড় উদ্যোগগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


যে কারণে গুরুত্ব পাচ্ছে এই প্রকল্প

বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ। প্রতিবছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, অগ্নিকাণ্ড কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নানা সংকটে পড়তে হয় দেশের মানুষকে। অথচ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান এতদিন ছিল না বললেই চলে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, নতুন এই ইনস্টিটিউট চালু হলে শুধু সরকারি কর্মকর্তা নয়, স্থানীয় পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক, উদ্ধারকর্মী এবং গবেষকরাও আধুনিক প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন। ভবিষ্যতে বিদেশি গবেষক ও প্রশিক্ষণার্থীদেরও এখানে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (ত্রাণ) রাসেল সাবরিন বলেন, এই প্রতিষ্ঠান আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দুপুরেই শুরু হচ্ছে মূল আয়োজন

অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আমন্ত্রিত অতিথিদের আসন গ্রহণের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। দুপুর ২টায় প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইনস্টিটিউটের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

পরে তিনি প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত উপস্থাপনা পরিদর্শন করবেন এবং বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেবেন। এরপর শুরু হবে সুধী সমাবেশ।

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন। সভাপতিত্ব করবেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদ হাবিব দুলু

সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে দুর্যোগ মোকাবিলা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসতে পারে।

অবৈধ দখল থেকে উদ্ধার হওয়া জমিতে নির্মাণ

এই প্রকল্পের আরেকটি আলোচিত দিক হলো জমির ইতিহাস। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্য যে সরকারি জমি নির্বাচন করা হয়েছে, সেটি দীর্ঘদিন বিভিন্নভাবে বেদখলে ছিল।

প্রশাসনের দাবি, পুরোনো নথিপত্র যাচাই এবং মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানের পর জমিটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ধাপে ধাপে দখলমুক্ত করার কার্যক্রম শুরু হয়।

জানা যায়, পাকিস্তান আমলে ষাটের দশকে রিফিউজি পুনর্বাসনের জন্য টঙ্গীর সাতাইশ, গুশুলিয়া ও গাছা মৌজায় বিপুল পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব জমির একটি বড় অংশ দখলে চলে যায়। ফলে সরকারি সম্পত্তির প্রকৃত ইতিহাসও অনেকটা আড়ালে পড়ে যায়।

প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এখনো কিছু জমি পুরোপুরি উদ্ধার হয়নি। তবে গুরুত্বপূর্ণ অংশ পুনরুদ্ধার করতে পারায় সেখানে বড় সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ তৈরি হয়েছে।


টঙ্গীজুড়ে নিরাপত্তার বলয়

প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি।

স্থানীয়দের অনেকে জানিয়েছেন, সকাল থেকেই এলাকায় তল্লাশি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চোখে পড়ছে। অনুষ্ঠানস্থলের প্রবেশপথেও কঠোর নিয়ন্ত্রণ রাখা হয়েছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সফর সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। নিরাপত্তা, যানবাহন নিয়ন্ত্রণ, অতিথি ব্যবস্থাপনা এবং জরুরি সেবা—সবকিছুই বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

কেন বাড়ছে এমন বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন

বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে দুর্যোগের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। শুধু ত্রাণ বিতরণ নয়, এখন প্রয়োজন আগাম প্রস্তুতি, তথ্যভিত্তিক গবেষণা এবং প্রশিক্ষিত জনবল।

অনেক সময় দেখা যায়, দুর্যোগের সময় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়। উদ্ধারকাজে প্রযুক্তির ব্যবহারও পর্যাপ্ত নয়। ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে এখন শুধু প্রশাসনিক কাজ হিসেবে দেখলে হবে না। এটিকে শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও জনসচেতনতার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। সেই জায়গা থেকেই এই ইনস্টিটিউট গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের পর সেটি কতটা কার্যকরভাবে পরিচালিত হবে, প্রশিক্ষণের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেওয়া সম্ভব হবে কি না এবং গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানো যাবে কি না—সেসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


বাংলাদেশে অতীতে অনেক বড় প্রকল্প উদ্বোধনের পরও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া যায়নি—এমন আলোচনা প্রায়ই সামনে আসে। তাই এই প্রতিষ্ঠান কার্যকর করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর