একই পরিবারের চার ভাই জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন Oman-এ। স্বপ্ন ছিল পরিবারকে ভালো রাখার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর তাদের চারজনের নিথর দেহ একসঙ্গে দেশে ফিরেছে। Hazrat Shahjalal International Airport-এ মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার Dhaka-য় এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনার পাশাপাশি দাফনকার্য সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচও বহন করছে রাষ্ট্র।
নিহত চার ভাই হলেন মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ সাহেদ, মোহাম্মদ সিরাজ এবং মোহাম্মদ শহিদ। তাদের বাড়ি Rangunia Upazila-য়। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওমানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, এই চার ভাই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম সদস্য। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে তারা পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং ঘরবাড়ির খরচ চালাতেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাই যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
স্বজনরা জানান, কয়েক দিন আগেও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়েছিল তাদের। কেউ কল্পনাও করেননি, এত দ্রুত এমন শোকের সংবাদ আসবে।
মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উপস্থিত স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। একসঙ্গে চারটি কফিন দেখে অনেকেই নিজেদের সামলে রাখতে পারেননি। সেখানে উপস্থিতদের চোখেও ছিল অশ্রু।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে গভীর বন্ধন ছিল। জীবনের সব কঠিন সময়ে তারা একে অপরের পাশে ছিলেন। মৃত্যুতেও সেই সম্পর্ক একই সুতোয় বাঁধা রইল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে যাওয়া এবং দাফন সম্পন্ন করার জন্য প্রতিটি পরিবারের হাতে ৩৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবহন, যাতায়াত এবং সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ ব্যয়ও সরকার বহন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে পরিবারকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই কঠিন সময়ে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে Ministry of Foreign Affairs এবং Ministry of Expatriates' Welfare and Overseas Employment-এর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় মরদেহ দেশে আনতে বেশি সময় লাগেনি।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “প্রবাসীদের যেকোনো বিপদে রাষ্ট্র পাশে থাকবে—এই বার্তাই আমরা দিতে চাই।”
চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর Chattogram-এর রাঙ্গুনিয়ায় নেমে আসে গভীর শোক। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি এলাকায় সবার কাছে পরিচিত ও সম্মানিত।
অনেকেই বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। স্থানীয় মসজিদে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজনের কথাও জানা গেছে।
বাংলাদেশের লাখো মানুষ জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। তাদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা কর্মক্ষেত্রের নানা ঝুঁকি অনেক পরিবারকে মুহূর্তেই অসহায় করে দেয়।
একই পরিবারের চারজন উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যু দেখিয়ে দিল, বিদেশে কর্মরত মানুষের জীবন কতটা অনিশ্চিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা, বীমা এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে চার ভাই আর ফিরবেন না। তাদের সন্তান, স্ত্রী এবং বৃদ্ধ মা-বাবার সামনে অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠান না—তারা নিজেদের স্বপ্ন, শ্রম এবং জীবনের ঝুঁকিও পরিবারের জন্য উৎসর্গ করেন। আর কোনো দুর্ঘটনা যেন এমনভাবে একটি পরিবারকে ভেঙে না দেয়, সেটিই এখন সবার প্রত্যাশা।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
একই পরিবারের চার ভাই জীবিকার সন্ধানে গিয়েছিলেন Oman-এ। স্বপ্ন ছিল পরিবারকে ভালো রাখার। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানোর পর তাদের চারজনের নিথর দেহ একসঙ্গে দেশে ফিরেছে। Hazrat Shahjalal International Airport-এ মরদেহ পৌঁছানোর পর স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার Dhaka-য় এক সংক্ষিপ্ত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, নিহত চার ভাইয়ের মরদেহ দেশে আনার পাশাপাশি দাফনকার্য সম্পন্ন করতে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য খরচও বহন করছে রাষ্ট্র।
নিহত চার ভাই হলেন মোহাম্মদ রাশেদ, মোহাম্মদ সাহেদ, মোহাম্মদ সিরাজ এবং মোহাম্মদ শহিদ। তাদের বাড়ি Rangunia Upazila-য়। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওমানে কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র বলছে, এই চার ভাই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম সদস্য। বিদেশে কঠোর পরিশ্রম করে তারা পরিবারের ভরণপোষণ, সন্তানদের পড়াশোনা এবং ঘরবাড়ির খরচ চালাতেন। তাদের আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো এলাকাই যেন স্তব্ধ হয়ে গেছে।
স্বজনরা জানান, কয়েক দিন আগেও পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত কথা হয়েছিল তাদের। কেউ কল্পনাও করেননি, এত দ্রুত এমন শোকের সংবাদ আসবে।
মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে উপস্থিত স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। একসঙ্গে চারটি কফিন দেখে অনেকেই নিজেদের সামলে রাখতে পারেননি। সেখানে উপস্থিতদের চোখেও ছিল অশ্রু।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চার ভাইয়ের মধ্যে গভীর বন্ধন ছিল। জীবনের সব কঠিন সময়ে তারা একে অপরের পাশে ছিলেন। মৃত্যুতেও সেই সম্পর্ক একই সুতোয় বাঁধা রইল।
প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, মরদেহগুলো চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় নিয়ে যাওয়া এবং দাফন সম্পন্ন করার জন্য প্রতিটি পরিবারের হাতে ৩৫ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পরিবহন, যাতায়াত এবং সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ ব্যয়ও সরকার বহন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো দুর্ঘটনা বা দুর্যোগে পরিবারকে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।
এই কঠিন সময়ে মরদেহগুলো দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে Ministry of Foreign Affairs এবং Ministry of Expatriates' Welfare and Overseas Employment-এর ভূমিকার প্রশংসা করা হয়।
ব্রিফিংয়ে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দ্রুত সম্পন্ন হওয়ায় মরদেহ দেশে আনতে বেশি সময় লাগেনি।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “প্রবাসীদের যেকোনো বিপদে রাষ্ট্র পাশে থাকবে—এই বার্তাই আমরা দিতে চাই।”
চার ভাইয়ের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর Chattogram-এর রাঙ্গুনিয়ায় নেমে আসে গভীর শোক। প্রতিবেশীরা জানান, পরিবারটি এলাকায় সবার কাছে পরিচিত ও সম্মানিত।
অনেকেই বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সান্ত্বনা দিচ্ছেন। স্থানীয় মসজিদে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়ার আয়োজনের কথাও জানা গেছে।
বাংলাদেশের লাখো মানুষ জীবিকার তাগিদে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কাজ করেন। তাদের পাঠানো অর্থ দেশের অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখে। কিন্তু দুর্ঘটনা, অসুস্থতা কিংবা কর্মক্ষেত্রের নানা ঝুঁকি অনেক পরিবারকে মুহূর্তেই অসহায় করে দেয়।
একই পরিবারের চারজন উপার্জনক্ষম সদস্যের মৃত্যু দেখিয়ে দিল, বিদেশে কর্মরত মানুষের জীবন কতটা অনিশ্চিত হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবাসীদের নিরাপত্তা, বীমা এবং জরুরি সহায়তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
পরিবারের সদস্যরা বলছেন, তারা এখনো বিশ্বাস করতে পারছেন না যে চার ভাই আর ফিরবেন না। তাদের সন্তান, স্ত্রী এবং বৃদ্ধ মা-বাবার সামনে অনিশ্চয়তার নতুন অধ্যায় শুরু হলো।
এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল, প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠান না—তারা নিজেদের স্বপ্ন, শ্রম এবং জীবনের ঝুঁকিও পরিবারের জন্য উৎসর্গ করেন। আর কোনো দুর্ঘটনা যেন এমনভাবে একটি পরিবারকে ভেঙে না দেয়, সেটিই এখন সবার প্রত্যাশা।

আপনার মতামত লিখুন