কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একাধিক ম্যাগাজিন, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং ৪৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোররাতের এ অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদক ও অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্প এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ব্যবহার করে সক্রিয় একটি চক্র মাদক পাচার ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
পুলিশ সূত্র জানায়, ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে লাম্বাশিয়া ক্যাম্পের অপারেশন ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জানে আলম মুনশীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ক্যাম্প-১ (ইস্ট) এলাকার ব্লক-সি/১৫-এ অভিযান চালায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বসতবাড়িতে ইয়াবা কেনাবেচার অভিযোগে তল্লাশি শুরু করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে তাদের দেহ তল্লাশি চালানো হয়।
বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
অভিযান চলাকালে ক্যাম্প-১ (ওয়েস্ট) এলাকার বাসিন্দা মোঃ জাহিদ হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, তার পরিহিত লুঙ্গির কোমরের পেছনে গোঁজা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার কাছ থেকে আরও দুটি ম্যাগাজিন এবং ২২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাগভর্তি ইয়াবা উদ্ধার
পরে জাহিদ হোসেনের কাঁধে থাকা একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি করে চারটি পলিব্যাগে মোড়ানো ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব ইয়াবা ক্যাম্পের বাইরে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আরও দুইজনের কাছেও মিলল ইয়াবা
একই অভিযানে দিল মোহাম্মদের স্ত্রী নুর সেহেরা (১৮) নামে এক নারীর কাছ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
এছাড়া আব্দুল হামিদ (৩২) নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ক্যাম্পে মাদক ও অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচার, অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা, আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অবস্থান ও অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র ক্যাম্পকে ব্যবহার করে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। এতে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্ত ও ক্যাম্পকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, একাধিক ম্যাগাজিন, বিপুল পরিমাণ গুলি এবং ৪৩ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ভোররাতের এ অভিযানে উদ্ধার হওয়া মাদক ও অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্প এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্পকে ব্যবহার করে সক্রিয় একটি চক্র মাদক পাচার ও অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।
গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান
পুলিশ সূত্র জানায়, ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে লাম্বাশিয়া ক্যাম্পের অপারেশন ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জানে আলম মুনশীর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম ক্যাম্প-১ (ইস্ট) এলাকার ব্লক-সি/১৫-এ অভিযান চালায়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বসতবাড়িতে ইয়াবা কেনাবেচার অভিযোগে তল্লাশি শুরু করা হয়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটক করে তাদের দেহ তল্লাশি চালানো হয়।
বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার
অভিযান চলাকালে ক্যাম্প-১ (ওয়েস্ট) এলাকার বাসিন্দা মোঃ জাহিদ হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
পুলিশের দাবি, তার পরিহিত লুঙ্গির কোমরের পেছনে গোঁজা অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলিভর্তি একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া তার কাছ থেকে আরও দুটি ম্যাগাজিন এবং ২২ রাউন্ড পিস্তলের গুলি জব্দ করা হয়েছে।
ব্যাগভর্তি ইয়াবা উদ্ধার
পরে জাহিদ হোসেনের কাঁধে থাকা একটি কালো ব্যাগ তল্লাশি করে চারটি পলিব্যাগে মোড়ানো ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ধারণা, এসব ইয়াবা ক্যাম্পের বাইরে পাচারের প্রস্তুতি চলছিল। তবে এ বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
আরও দুইজনের কাছেও মিলল ইয়াবা
একই অভিযানে দিল মোহাম্মদের স্ত্রী নুর সেহেরা (১৮) নামে এক নারীর কাছ থেকে ২ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
এছাড়া আব্দুল হামিদ (৩২) নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে আরও ১ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
ক্যাম্পে মাদক ও অস্ত্র নিয়ে উদ্বেগ
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচার, অস্ত্র ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ইয়াবা, আগ্নেয়াস্ত্র ও অন্যান্য অবৈধ সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তবর্তী অবস্থান ও অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে কিছু সংঘবদ্ধ চক্র ক্যাম্পকে ব্যবহার করে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ পাচ্ছে। এতে স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতিও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।
নিরাপত্তা জোরদারের দাবি
স্থানীয়দের দাবি, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি আরও বাড়ানো প্রয়োজন। বিশেষ করে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান ঠেকাতে সীমান্ত ও ক্যাম্পকেন্দ্রিক নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বর্তমানে আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

আপনার মতামত লিখুন