দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ১৮ মে ২০২৬

নওগাঁর পত্নীতলায় বাবাহারা দুই শিশুর জীবনে নতুন সংকট, কারাগারে মা—অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

নওগাঁর পত্নীতলায় বাবাহারা দুই শিশুর জীবনে নতুন সংকট, কারাগারে মা—অনিশ্চয়তায় ভবিষ্যৎ

বিশ্ব পরিবেশ দিবসে দিনাজপুরে মহিলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ ও আলোচনা সভা

খুলনা বিভাগে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের অভিযান, ১১ প্রতিষ্ঠানকে ৮২ হাজার টাকা জরিমানা

নাটোর সদর হাসপাতালে শিশুর মাকে ধর্ষণের অভিযোগ, তিন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা; ভিডিও ধারণেরও অভিযোগ

দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগের নেপথ্যে কী? পার্বত্য জেলা পরিষদ গঠন, দলীয় দ্বন্দ্ব ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ

মান্দার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পুলিশ সুপার, আটক দুই; প্রকৃত জড়িতদের খুঁজছে পুলিশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকানের জায়গা নিয়ে সংঘর্ষ, ২০ জন আহত; গ্রেপ্তার ৫

শেরপুরে একই মাদরাসার তিন শিশুসহ পাঁচজন নিখোঁজ, উৎকণ্ঠায় পরিবার; তদন্তে পুলিশ

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ
বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে জব্দ করা বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য।

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার দিনভর পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, চকলেট, সিটিগোল্ড সামগ্রীসহ নানা পণ্য উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে এসব পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়িয়ে অভিযান চালানো হয়।


সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে তল্লাশি

যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে আনা বিভিন্ন মালামাল তল্লাশি করে জব্দ করা হয়।

অভিযানে ৩৭টি ভারতীয় শাড়ি, একটি থ্রি-পিস, এক কেজি জিরা, দুই প্যাকেট ফুসকা, ২২ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৫৩টি সিটিগোল্ড আইটেম, ৪২১টি চকলেট এবং ৩০০টি কসমেটিক্স সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সীমান্তে চোরাচালান রোধে বাড়ছে অভিযান

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেনাপোল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় পোশাক, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই ঘটে থাকে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের কিছু এলাকা ব্যবহার করে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র বিভিন্ন সময় ছোট ছোট চালানে পণ্য পাচারের চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির নজরদারি জোরদার হওয়ায় এসব তৎপরতা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন তারা।

একাধিক ব্যবসায়ীও বলছেন, বৈধ পথে আমদানি না করে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ করলে স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

বিজিবির বক্তব্য

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে এবং অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। চোরাই পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারায়।

এছাড়া মানহীন বা অনুমোদনহীন প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ অনেক সময় অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেও পণ্য পাচারের চেষ্টা করে।

অভিযান অব্যাহত থাকবে

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয় : বিজিবি অভিযান যশোর সীমান্ত বেনাপোল সীমান্ত সংবাদ চোরাচালান মালামাল আটক

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬


বেনাপোল সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় ৫ লাখ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ

প্রকাশের তারিখ : ১৮ মে ২০২৬

featured Image

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় পৃথক অভিযানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার বিভিন্ন চোরাচালানী পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার দিনভর পরিচালিত অভিযানে ভারতীয় শাড়ি, কসমেটিক্স, চকলেট, সিটিগোল্ড সামগ্রীসহ নানা পণ্য উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত ব্যবহার করে অবৈধভাবে এসব পণ্য দেশে আনার চেষ্টা করা হচ্ছিল। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্তের বিভিন্ন চেকপোস্ট ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নজরদারি বাড়িয়ে অভিযান চালানো হয়।


সীমান্তের একাধিক পয়েন্টে তল্লাশি

যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বেনাপোল বিওপি, বেনাপোল আইসিপি এবং আমড়াখালী চেকপোস্ট এলাকায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনকভাবে আনা বিভিন্ন মালামাল তল্লাশি করে জব্দ করা হয়।

অভিযানে ৩৭টি ভারতীয় শাড়ি, একটি থ্রি-পিস, এক কেজি জিরা, দুই প্যাকেট ফুসকা, ২২ প্যাকেট পাতার বিড়ি, ৫৩টি সিটিগোল্ড আইটেম, ৪২১টি চকলেট এবং ৩০০টি কসমেটিক্স সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

জব্দ করা এসব পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ লাখ ৬৬ হাজার ২০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

সীমান্তে চোরাচালান রোধে বাড়ছে অভিযান

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, বেনাপোল সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের ঝুঁকিপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ভারতীয় পোশাক, প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য অবৈধভাবে দেশে আনার চেষ্টা প্রায়ই ঘটে থাকে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তের কিছু এলাকা ব্যবহার করে সক্রিয় চোরাকারবারি চক্র বিভিন্ন সময় ছোট ছোট চালানে পণ্য পাচারের চেষ্টা করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিজিবির নজরদারি জোরদার হওয়ায় এসব তৎপরতা কিছুটা কমেছে বলে মনে করছেন তারা।

একাধিক ব্যবসায়ীও বলছেন, বৈধ পথে আমদানি না করে অবৈধভাবে পণ্য প্রবেশ করলে স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়। এতে সরকার যেমন রাজস্ব হারায়, তেমনি বৈধ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েন।

বিজিবির বক্তব্য

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান, পিএসসি বলেন, সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ পরিকল্পনা অনুযায়ী গোয়েন্দা তৎপরতা এবং আভিযানিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে বিভিন্ন ধরনের চোরাচালানী পণ্য জব্দ করা সম্ভব হচ্ছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সীমান্তকে নিরাপদ রাখতে এবং অবৈধ পণ্য প্রবেশ ঠেকাতে ভবিষ্যতেও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, সীমান্তপথে অবৈধ পণ্য প্রবেশ শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি দেশের অর্থনীতির জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ। চোরাই পণ্য বাজারে ছড়িয়ে পড়লে বৈধ ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সরকার বিপুল রাজস্ব হারায়।

এছাড়া মানহীন বা অনুমোদনহীন প্রসাধনী ও খাদ্যপণ্য মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সচেতন মহল বলছে, সীমান্ত এলাকায় নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। কারণ অনেক সময় অসাধু চক্র সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করেও পণ্য পাচারের চেষ্টা করে।

অভিযান অব্যাহত থাকবে

বিজিবি জানিয়েছে, জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একইসঙ্গে সীমান্ত এলাকায় সন্দেহজনক কার্যক্রম নজরদারিতে রাখতে গোয়েন্দা তৎপরতা আরও বাড়ানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, সীমান্ত দিয়ে মাদক ও চোরাচালান ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর