মুক্তির ঠিক দুই দিন আগে আটকে গেল পরিচালক ও অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত সিনেমা কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ। অভিনেত্রী জেবা জান্নাত–এর লিখিত অভিযোগের পর চলচ্চিত্রটির সেন্সর সনদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। ফলে ১৫ মে নির্ধারিত মুক্তি আর হচ্ছে না সিনেমাটির।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য মাসুমা রহমান তানি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ ওঠার আগে সিনেমাটি ছাড়পত্র পেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জমা পড়ায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়।
কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় সিনেমা মুক্তির ঘোষণার পর থেকেই। চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিযোগ করেন, তিনি মূলত একটি নাটকের জন্য কাজ করেছিলেন। পরে সেটিকে সিনেমা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনাকে “প্রতারণা” বলেও উল্লেখ করা হয় তাঁর পক্ষ থেকে।
পরে মৌসুমীর স্বামী অভিনেতা ওমর সানী শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতিতে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী জেবা জান্নাত।
জেবার দাবি, কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ নামে কোনো চলচ্চিত্রে তিনি কাজ করেননি। তাঁকে নাটকের কথা বলে কাজ করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে সেটিকে সিনেমা হিসেবে মুক্তির পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে পেরে আপত্তি জানান এই অভিনেত্রী।
সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য মাসুমা রহমান তানি জানান, শুরুতে কোনো আপত্তি না থাকায় সিনেমাটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে জেবা জান্নাত লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে, প্রকল্পটির ধরন সম্পর্কে তাঁকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, “অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নাটকের কথা বলে তাঁকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেটি সিনেমা হিসেবে মুক্তির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পাশাপাশি চলচ্চিত্রসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র না থাকার অভিযোগও এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আপাতত সনদ স্থগিত করা হয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সেন্সর সনদ স্থগিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে প্রতিক্রিয়া জানান পরিচালক ও প্রযোজক হাসান জাহাঙ্গীর। তিনি দাবি করেন, শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, আনুষ্ঠানিক নোটিশ হাতে পাওয়ার পর তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তাঁর ভাষ্য, সিনেমার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা সবকিছু জেনেশুনেই কাজ করেছেন এবং কাউকে বিভ্রান্ত করা হয়নি।
এর আগেও মৌসুমী ও জেবা জান্নাতের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেছিলেন, প্রকল্পটি নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট সবাই কাজের ধরন সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলেই দাবি তাঁর।
ঘটনাটি ঘিরে আবারও সামনে এসেছে নাটক ও সিনেমার সীমারেখা, শিল্পীদের চুক্তি এবং কনটেন্ট ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব ও প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক কনটেন্টের ভিন্নতা কমে যাওয়ায় এমন বিভ্রান্তির অভিযোগ বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, শিল্পীদের সঙ্গে লিখিত ও স্পষ্ট চুক্তি না থাকলে ভবিষ্যতে এমন জটিলতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে কোনো কনটেন্ট প্রথমে নাটক হিসেবে ধারণ করে পরে সিনেমা আকারে মুক্তির চেষ্টা হলে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণ করা হয়নি।
বর্তমানে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ–এর মুক্তি পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সেন্সর সনদ পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে দর্শকদের একাংশের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ নির্মাতার পক্ষে মত দিচ্ছেন, আবার কেউ শিল্পীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন।
সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ। এখন অভিযোগের নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে চলচ্চিত্র অঙ্গন।

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬
মুক্তির ঠিক দুই দিন আগে আটকে গেল পরিচালক ও অভিনেতা হাসান জাহাঙ্গীর পরিচালিত সিনেমা কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ। অভিনেত্রী জেবা জান্নাত–এর লিখিত অভিযোগের পর চলচ্চিত্রটির সেন্সর সনদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড। ফলে ১৫ মে নির্ধারিত মুক্তি আর হচ্ছে না সিনেমাটির।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি)–এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য মাসুমা রহমান তানি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ ওঠার আগে সিনেমাটি ছাড়পত্র পেয়েছিল। তবে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জমা পড়ায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়।
কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয় সিনেমা মুক্তির ঘোষণার পর থেকেই। চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিযোগ করেন, তিনি মূলত একটি নাটকের জন্য কাজ করেছিলেন। পরে সেটিকে সিনেমা হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনাকে “প্রতারণা” বলেও উল্লেখ করা হয় তাঁর পক্ষ থেকে।
পরে মৌসুমীর স্বামী অভিনেতা ওমর সানী শিল্পী সমিতি, পরিচালক সমিতি ও প্রযোজক সমিতিতে লিখিত অভিযোগ করেন বলে জানা যায়। বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র অঙ্গনে আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্যেই নতুন করে অভিযোগ তোলেন অভিনেত্রী জেবা জান্নাত।
জেবার দাবি, কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ নামে কোনো চলচ্চিত্রে তিনি কাজ করেননি। তাঁকে নাটকের কথা বলে কাজ করানো হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে সেটিকে সিনেমা হিসেবে মুক্তির পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে পেরে আপত্তি জানান এই অভিনেত্রী।
সার্টিফিকেশন বোর্ডের সদস্য মাসুমা রহমান তানি জানান, শুরুতে কোনো আপত্তি না থাকায় সিনেমাটিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে পরে জেবা জান্নাত লিখিতভাবে অভিযোগ করেন যে, প্রকল্পটির ধরন সম্পর্কে তাঁকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, “অভিনেত্রীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নাটকের কথা বলে তাঁকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সেটি সিনেমা হিসেবে মুক্তির প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পাশাপাশি চলচ্চিত্রসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্র না থাকার অভিযোগও এসেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আপাতত সনদ স্থগিত করা হয়েছে।”
তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি বলে জানা গেছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও কাগজপত্র পর্যালোচনার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
সেন্সর সনদ স্থগিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে প্রতিক্রিয়া জানান পরিচালক ও প্রযোজক হাসান জাহাঙ্গীর। তিনি দাবি করেন, শেষ মুহূর্তে এমন সিদ্ধান্তে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
হাসান জাহাঙ্গীর বলেন, আনুষ্ঠানিক নোটিশ হাতে পাওয়ার পর তিনি আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করবেন। তাঁর ভাষ্য, সিনেমার সঙ্গে যুক্ত শিল্পীরা সবকিছু জেনেশুনেই কাজ করেছেন এবং কাউকে বিভ্রান্ত করা হয়নি।
এর আগেও মৌসুমী ও জেবা জান্নাতের অভিযোগের জবাবে তিনি বলেছিলেন, প্রকল্পটি নিয়ে কোনো ধরনের প্রতারণা করা হয়নি। বরং সংশ্লিষ্ট সবাই কাজের ধরন সম্পর্কে অবগত ছিলেন বলেই দাবি তাঁর।
ঘটনাটি ঘিরে আবারও সামনে এসেছে নাটক ও সিনেমার সীমারেখা, শিল্পীদের চুক্তি এবং কনটেন্ট ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন। সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম, ইউটিউব ও প্রেক্ষাগৃহকেন্দ্রিক কনটেন্টের ভিন্নতা কমে যাওয়ায় এমন বিভ্রান্তির অভিযোগ বাড়ছে বলে মনে করছেন অনেকে।
চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, শিল্পীদের সঙ্গে লিখিত ও স্পষ্ট চুক্তি না থাকলে ভবিষ্যতে এমন জটিলতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে কোনো কনটেন্ট প্রথমে নাটক হিসেবে ধারণ করে পরে সিনেমা আকারে মুক্তির চেষ্টা হলে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন উঠতে পারে।
তবে এখন পর্যন্ত অভিযোগগুলোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শেষ হয়নি। ফলে কারও বিরুদ্ধে চূড়ান্তভাবে দায় নির্ধারণ করা হয়নি।
বর্তমানে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ–এর মুক্তি পুরোপুরি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। সেন্সর সনদ পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি দেওয়া সম্ভব হবে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে দর্শকদের একাংশের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ নির্মাতার পক্ষে মত দিচ্ছেন, আবার কেউ শিল্পীদের অভিযোগকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন।
সব মিলিয়ে মুক্তির আগেই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ। এখন অভিযোগের নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে চলচ্চিত্র অঙ্গন।

আপনার মতামত লিখুন