দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ২০ বছর পর নিউইয়র্ক সফর

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

সৌদির স্কুলের বইয়ে আমূল পরিবর্তন, ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে বদলে গেল পুরোনো বয়ান

৬ মাস শেষে সরকারের অর্জন-সীমাবদ্ধতা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী, চলছে সূক্ষ্ম মূল্যায়ন

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্য ঘিরে ঢাকা–দিল্লি টানাপোড়েন, সম্পর্ক কি আবার কঠিন পথে?

জ্বালানি খাত নিয়ে বড় সতর্কবার্তা প্রধানমন্ত্রীর, নিয়োগ হবে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস: তরুণ প্রতিভাদের নিয়ে ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে জমজমাট সমাপনী

আর কোনো অনিয়ম চলতে দেওয়া যাবে না—গাইবান্ধায় সারজিস আলম

আর কোনো অনিয়ম চলতে দেওয়া যাবে না—গাইবান্ধায় সারজিস আলম

গাইবান্ধায় এক পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, দেশে গত ১৬ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি আর কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এসব অব্যবস্থা চলতে থাকলে তা শহীদ ও আহতদের ত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে গাইবান্ধায় একাধিক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। দিনভর তিনি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

পথসভায় সারজিস আলম বলেন, অতীতে বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনেককে দেখা গেছে এলাকায় উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার চেয়ে নিজেদের স্বার্থ ও ক্ষমতা ধরে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, তারা ভোট চাইতে আসেননি, বরং জনগণের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন। তার মতে, জনগণকে এমন নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে যারা সৎ, গ্রহণযোগ্য এবং দুর্নীতি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত নন—যে দলেরই হোক না কেন।

উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। উদাহরণ হিসেবে রংপুরের চার লেন সড়ক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ৮ থেকে ১০ বছরেও কাজ শেষ না হওয়া এই অঞ্চলের উন্নয়নের ধীরগতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

গাইবান্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন) স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি ইপিজেড পুরো জেলার অর্থনীতি বদলে দিতে পারে। এজন্য সরকার ও স্থানীয় নেতৃত্ব উভয়ের দায়িত্ব আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে এই উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। তার মতে, এলাকার স্বার্থই সবার আগে হওয়া উচিত।

প্রশাসনের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, অতীতে প্রশাসনের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে ছিল, যার কারণে জনগণের আস্থা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থেকে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও শপথ অনুযায়ী কাজ করা উচিত, কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নয়। এতে প্রশাসনের ভাবমূর্তি আবারও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পথসভাগুলোতে এনসিপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও দিনভর তিনি গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয় সমস্যা শোনেন।

উল্লেখ্য, এনসিপি সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। দলটি তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সংস্কারে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

সবশেষে সারজিস আলম বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। তাই জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬


আর কোনো অনিয়ম চলতে দেওয়া যাবে না—গাইবান্ধায় সারজিস আলম

প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৫

featured Image

গাইবান্ধায় এক পথসভায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, দেশে গত ১৬ বছরের অনিয়ম, দুর্নীতি আর কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। তিনি বলেন, এসব অব্যবস্থা চলতে থাকলে তা শহীদ ও আহতদের ত্যাগের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা হবে।

শুক্রবার (৩০ মে) দুপুরে গাইবান্ধায় একাধিক পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। দিনভর তিনি জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

পথসভায় সারজিস আলম বলেন, অতীতে বড় বড় রাজনৈতিক দলের নেতাদের অনেককে দেখা গেছে এলাকায় উন্নয়ন নিয়ে কাজ করার চেয়ে নিজেদের স্বার্থ ও ক্ষমতা ধরে রাখার দিকেই বেশি মনোযোগ দিয়েছেন। এতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও বলেন, তারা ভোট চাইতে আসেননি, বরং জনগণের সঙ্গে কথা বলতে এসেছেন। তার মতে, জনগণকে এমন নেতৃত্ব বেছে নিতে হবে যারা সৎ, গ্রহণযোগ্য এবং দুর্নীতি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে যুক্ত নন—যে দলেরই হোক না কেন।

উত্তরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। উদাহরণ হিসেবে রংপুরের চার লেন সড়ক প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে বলেন, ৮ থেকে ১০ বছরেও কাজ শেষ না হওয়া এই অঞ্চলের উন্নয়নের ধীরগতির একটি বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।

গাইবান্ধার একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হিসেবে ইপিজেড (এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন) স্থাপনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি ইপিজেড পুরো জেলার অর্থনীতি বদলে দিতে পারে। এজন্য সরকার ও স্থানীয় নেতৃত্ব উভয়ের দায়িত্ব আছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব বা ব্যক্তিগত স্বার্থের কারণে এই উন্নয়ন প্রকল্প বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে তা প্রতিহত করতে হবে। তার মতে, এলাকার স্বার্থই সবার আগে হওয়া উচিত।

প্রশাসনের উদ্দেশে সারজিস আলম বলেন, অতীতে প্রশাসনের একটি অংশ রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে ছিল, যার কারণে জনগণের আস্থা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ থেকে কাজ করার আহ্বান জানান এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে বলেন।

তিনি আরও বলেন, কর্মকর্তাদের পেশাগত দায়িত্ব ও শপথ অনুযায়ী কাজ করা উচিত, কোনো ধরনের পক্ষপাতমূলক আচরণ নয়। এতে প্রশাসনের ভাবমূর্তি আবারও শক্তিশালী হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পথসভাগুলোতে এনসিপির অন্যান্য নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈরী আবহাওয়া সত্ত্বেও দিনভর তিনি গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয় সমস্যা শোনেন।

উল্লেখ্য, এনসিপি সম্প্রতি উত্তরাঞ্চলে তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে। দলটি তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে স্থানীয় উন্নয়ন ও রাজনৈতিক সংস্কারে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।

সবশেষে সারজিস আলম বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো উন্নয়ন টেকসই হতে পারে না। তাই জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর