দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

সাভারে মৎস্যজীবী দলের সভায় খোরশেদ আলম: তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে এনসিপির মশাল মিছিল, শাহবাগে প্রতিবাদের ঢল

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ—‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিলুপ্ত করা হয়েছে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়’

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ এমপি আতিক মোজাহিদের, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার দাবি

রাজশাহীতে এনসিপির বড় যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দল ছেড়ে এলেন প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী

শৃঙ্খলা ভাঙলে ছাড় নেই, কড়া বার্তা ডা. শফিকুর রহমানের

শৃঙ্খলা ভাঙলে ছাড় নেই, কড়া বার্তা ডা. শফিকুর রহমানের
-ছবি: সংগৃহীত

দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো আপস নয়—এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, দলের নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে তার দায় সংগঠন নেবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান। তার এই বক্তব্য দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠপর্যায়ে নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই বার্তা এসেছে।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত, দৃষ্টিভঙ্গি এবং শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না—তিনি যেই হোন না কেন। তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নেতৃত্ব শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর উচিত দলীয় আদর্শ ও সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রাখা। কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সেটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এতে করে দলীয় কাঠামোর ভেতরে শৃঙ্খলা আরও শক্ত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শৃঙ্খলা বজায় রাখা সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠপর্যায়ে অনেক সময় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব দলীয় ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায়ই এমন বার্তা দিয়ে থাকে, যাতে সবাই একই নিয়মের মধ্যে থাকে এবং দলীয় ঐক্য বজায় থাকে।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। দলটির কার্যক্রম সাধারণত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও আদর্শকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা, সাময়িক বহিষ্কার বা স্থায়ী বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে দলগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী রাখতে চায়।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাও এই বক্তব্যের একটি বড় প্রেক্ষাপট। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের বার্তা দলীয় অবস্থানকে আরও পরিষ্কার করে এবং নেতাকর্মীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা তৈরি করে।

সব মিলিয়ে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য শুধু একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং দলীয় কাঠামোকে শক্ত রাখার একটি প্রচেষ্টা। শৃঙ্খলা বজায় রেখে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েই তিনি নেতাকর্মীদের সামনে ভবিষ্যৎ পথচলার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬


শৃঙ্খলা ভাঙলে ছাড় নেই, কড়া বার্তা ডা. শফিকুর রহমানের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৫

featured Image

দলীয় শৃঙ্খলা নিয়ে কোনো আপস নয়—এমনই কঠোর বার্তা দিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন, দলের নিয়মের বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করলে তার দায় সংগঠন নেবে না।

বৃহস্পতিবার (২৯ মে) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান। তার এই বক্তব্য দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে মাঠপর্যায়ে নানা কর্মকাণ্ড নিয়ে আলোচনা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই বার্তা এসেছে।

স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, দলীয় সিদ্ধান্ত, দৃষ্টিভঙ্গি এবং শৃঙ্খলার বাইরে গিয়ে কোনো কাজ করা হলে তার দায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেই নিতে হবে। এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না—তিনি যেই হোন না কেন। তার এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, নেতৃত্ব শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে কঠোর অবস্থানেই রয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দলের প্রতিটি নেতাকর্মীর উচিত দলীয় আদর্শ ও সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য রাখা। কোথাও কোনো ব্যত্যয় ঘটলে সেটিকে গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে এবং প্রয়োজন হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এতে করে দলীয় কাঠামোর ভেতরে শৃঙ্খলা আরও শক্ত হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বড় রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য শৃঙ্খলা বজায় রাখা সব সময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মাঠপর্যায়ে অনেক সময় ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত বা গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব দলীয় ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রায়ই এমন বার্তা দিয়ে থাকে, যাতে সবাই একই নিয়মের মধ্যে থাকে এবং দলীয় ঐক্য বজায় থাকে।

পটভূমি হিসেবে বলা যায়, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দীর্ঘদিন ধরেই সংগঠনের ভেতরে শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। দলটির কার্যক্রম সাধারণত কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত ও আদর্শকে ঘিরেই পরিচালিত হয়। অতীতেও বিভিন্ন সময়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির রয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশে অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা, সাময়িক বহিষ্কার বা স্থায়ী বহিষ্কারের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। এর মাধ্যমে দলগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী রাখতে চায়।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, তাও এই বক্তব্যের একটি বড় প্রেক্ষাপট। অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের বার্তা দলীয় অবস্থানকে আরও পরিষ্কার করে এবং নেতাকর্মীদের জন্য একটি দিকনির্দেশনা তৈরি করে।

সব মিলিয়ে, ডা. শফিকুর রহমানের এই বক্তব্য শুধু একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং দলীয় কাঠামোকে শক্ত রাখার একটি প্রচেষ্টা। শৃঙ্খলা বজায় রেখে একসাথে এগিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েই তিনি নেতাকর্মীদের সামনে ভবিষ্যৎ পথচলার একটি স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেছেন।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর