দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

বন্ধ চিনিকল ফের চালুর আশ্বাস, আখচাষিদের স্বার্থ রক্ষার কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বন্ধ চিনিকল ফের চালুর আশ্বাস, আখচাষিদের স্বার্থ রক্ষার কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

"ইসলামপুরের উন্নয়ন নিয়ে প্রশাসনের সংলাপ, স্বাস্থ্য-শিক্ষা থেকে বেকারত্ব ইস্যুতে গুরুত্ব".

"স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে রওনা দিলেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন: ফলোআপ চিকিৎসায় লন্ডনের বিশেষায়িত হাসপাতালে পরীক্ষা".

পুলিশের ‘বিশৃঙ্খলা’ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে, দাবি আইজিপির

মাদক পাচার ঠেকাতে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ১০ বছরের সমঝোতা, তথ্য ভাগাভাগিতে জোর

জুনের মধ্যেই মাঠ থেকে সেনা প্রত্যাহার: আইনশৃঙ্খলায় নতুন কৌশল, কী প্রভাব পড়বে?

গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব বাড়ালে কমবে সংকট: নীতিমালা আধুনিকায়নের ইঙ্গিত তথ্যমন্ত্রীর

নাসির–তামিমা মামলা: ১০ জুন রায়, শেষ পর্যায়ে বহুল আলোচিত বিচার

বন্ধ চিনিকল ফের চালুর আশ্বাস, আখচাষিদের স্বার্থ রক্ষার কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

বন্ধ চিনিকল ফের চালুর আশ্বাস, আখচাষিদের স্বার্থ রক্ষার কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী
-ছবি: সংগৃহীত

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় সচল করতে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তবে শুধু মিল চালু করাই নয়, আখচাষি, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেও টেকসইভাবে শিল্পগুলো পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল কারখানা এলাকায় আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় চাষি, শ্রমিক প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুরোনো যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ

মন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের বেশি হয়ে গেছে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া এসব কারখানাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মিল এখনো পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছে, আবার কিছু মিল পুরোপুরি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।


তিনি বলেন, শুধু নামমাত্র সংস্কার করে শিল্প সচল রাখা সম্ভব নয়। কোথাও নতুন যন্ত্রপাতি লাগবে, কোথাও অবকাঠামো সংস্কার জরুরি, আবার কিছু কারখানার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থাপনাও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

নিজের বক্তব্যে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির একটি উদাহরণ টেনে বলেন, “চালা ঠিক না করে যদি চিনি উৎপাদন করা হয়, তাহলে বৃষ্টি এলে সব শরবত হয়ে যাবে।” তার ভাষায়, মূল সমস্যা সমাধান না করে শুধু সাময়িক পদক্ষেপ নিলে শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

আখচাষি ও শ্রমিকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত আখচাষিদের অনেকে অভিযোগ করেন, মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আগে স্থানীয়ভাবে আখ বিক্রির সুযোগ থাকলেও এখন অনেকেই বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমিকদের একটি অংশও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় আখচাষি ও শ্রমিকদের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিনি জানান, চিনিকল পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে লাভজনক পরিচালনার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তার মতে, একটি শিল্পকারখানা শুধু শ্রমিকদের আয়ের উৎস নয়; এর সঙ্গে পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কাঁচামাল সরবরাহসহ বহু খাত জড়িয়ে থাকে। ফলে একটি মিল বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি ফেরানোর পরিকল্পনা

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সক্রিয় করুক। তার ভাষায়, শিল্প সচল থাকলে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়ে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই বন্ধ কারখানাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে একাধিকবার চিনিকল চালুর আশ্বাস এলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা বাস্তব রূপ পায়নি বলে দাবি রয়েছে। ফলে এবারের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকে নজর থাকবে আখচাষি ও শ্রমিকদের।

লোকসান ও উৎপাদন সংকটে বন্ধ হয়েছিল পঞ্চগড় চিনিকল

পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে। দৈনিক ১ হাজার ১৬ টন আখ মাড়াই সক্ষমতা নিয়ে কারখানাটি ১৯৬৯-৭০ সালে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায়।


তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, আখচাষ কমে যাওয়া এবং ব্যবস্থাপনা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মিলটি ধারাবাহিক লোকসানে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে মিলটির লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪৩০ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়।

এরপর একই বছরের ডিসেম্বরে দেশের আরও কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের সঙ্গে পঞ্চগড় চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে স্থানীয় শ্রমিক ও আখচাষিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

স্মারকলিপি দিলেন শ্রমিক ও চাষিরা

অনুষ্ঠান শেষে বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি শিল্পমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শ্রমিক ও আখচাষি প্রতিনিধিরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহম্মদ নওশাদ জমির এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুজ্জামানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্প পুনরুজ্জীবন নিয়ে নতুন আলোচনা

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই লোকসান, উৎপাদন সংকট ও ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। একদিকে সরকার শিল্পগুলো টিকিয়ে রাখতে চায়, অন্যদিকে লোকসান কমানোর চাপও রয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—আধুনিকায়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব শিল্পকে কতটা টেকসই করা সম্ভব।


বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুরোনো কাঠামো মেরামত করলেই হবে না; আখ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনাও জরুরি। না হলে চালু হওয়ার পরও মিলগুলো আবার লোকসানে পড়তে পারে।

বর্তমানে পঞ্চগড়সহ বন্ধ চিনিকলগুলো নিয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন শ্রমিক, চাষি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিষয় : পঞ্চগড় চিনিকল খন্দকার আবদুল মুক্তাদির রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল,

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১০ মে ২০২৬


বন্ধ চিনিকল ফের চালুর আশ্বাস, আখচাষিদের স্বার্থ রক্ষার কথা বললেন বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো আবার চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো পুনরায় সচল করতে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে। তবে শুধু মিল চালু করাই নয়, আখচাষি, শ্রমিক ও সংশ্লিষ্ট মানুষের স্বার্থ রক্ষা করেও টেকসইভাবে শিল্পগুলো পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

শনিবার (৯ মে) দুপুরে পঞ্চগড় চিনিকল কারখানা এলাকায় আখচাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় চাষি, শ্রমিক প্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুরোনো যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো বড় চ্যালেঞ্জ

মন্ত্রী বলেন, দেশের অধিকাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের বয়স ৫০ থেকে ৭০ বছরের বেশি হয়ে গেছে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তি ছাড়া এসব কারখানাকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক মিল এখনো পুরোনো যন্ত্রপাতি দিয়ে চলছে, আবার কিছু মিল পুরোপুরি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে।


তিনি বলেন, শুধু নামমাত্র সংস্কার করে শিল্প সচল রাখা সম্ভব নয়। কোথাও নতুন যন্ত্রপাতি লাগবে, কোথাও অবকাঠামো সংস্কার জরুরি, আবার কিছু কারখানার ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থাপনাও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

নিজের বক্তব্যে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির একটি উদাহরণ টেনে বলেন, “চালা ঠিক না করে যদি চিনি উৎপাদন করা হয়, তাহলে বৃষ্টি এলে সব শরবত হয়ে যাবে।” তার ভাষায়, মূল সমস্যা সমাধান না করে শুধু সাময়িক পদক্ষেপ নিলে শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে না।

আখচাষি ও শ্রমিকদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়ার আশ্বাস

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত আখচাষিদের অনেকে অভিযোগ করেন, মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর তারা বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়েছেন। আগে স্থানীয়ভাবে আখ বিক্রির সুযোগ থাকলেও এখন অনেকেই বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হচ্ছেন। শ্রমিকদের একটি অংশও দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনায় আখচাষি ও শ্রমিকদের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাচ্ছে। তিনি জানান, চিনিকল পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে লাভজনক পরিচালনার পাশাপাশি কর্মসংস্থান ধরে রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

তার মতে, একটি শিল্পকারখানা শুধু শ্রমিকদের আয়ের উৎস নয়; এর সঙ্গে পরিবহন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কাঁচামাল সরবরাহসহ বহু খাত জড়িয়ে থাকে। ফলে একটি মিল বন্ধ হয়ে গেলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি ফেরানোর পরিকল্পনা

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার চায় বন্ধ শিল্পকারখানাগুলো আবার উৎপাদনে ফিরুক এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে সক্রিয় করুক। তার ভাষায়, শিল্প সচল থাকলে মানুষের হাতে অর্থের প্রবাহ বাড়ে, কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং দারিদ্র্য কমাতে সহায়তা করে।

তিনি আরও বলেন, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা জরুরি। সেই লক্ষ্যেই বন্ধ কারখানাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ মনে করছেন, শুধু ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। অতীতে একাধিকবার চিনিকল চালুর আশ্বাস এলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা বাস্তব রূপ পায়নি বলে দাবি রয়েছে। ফলে এবারের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকে নজর থাকবে আখচাষি ও শ্রমিকদের।

লোকসান ও উৎপাদন সংকটে বন্ধ হয়েছিল পঞ্চগড় চিনিকল

পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেড প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৬৬ থেকে ১৯৬৯ সালের মধ্যে। দৈনিক ১ হাজার ১৬ টন আখ মাড়াই সক্ষমতা নিয়ে কারখানাটি ১৯৬৯-৭০ সালে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যায়।


তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, আখচাষ কমে যাওয়া এবং ব্যবস্থাপনা সংকটসহ বিভিন্ন কারণে মিলটি ধারাবাহিক লোকসানে পড়ে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে মিলটির লোকসানের পরিমাণ প্রায় ৪৩০ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়।

এরপর একই বছরের ডিসেম্বরে দেশের আরও কয়েকটি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলের সঙ্গে পঞ্চগড় চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রমও স্থগিত করা হয়। সেই সিদ্ধান্তের পর থেকে স্থানীয় শ্রমিক ও আখচাষিদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।

স্মারকলিপি দিলেন শ্রমিক ও চাষিরা

অনুষ্ঠান শেষে বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালুর দাবিতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি শিল্পমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন শ্রমিক ও আখচাষি প্রতিনিধিরা।

সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মুহম্মদ নওশাদ জমির এবং শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক শুকরিয়া পারভীন, জেলা পরিষদের প্রশাসক তৌহিদুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন, পঞ্চগড় সুগার মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুজ্জামানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শিল্প পুনরুজ্জীবন নিয়ে নতুন আলোচনা

রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো দীর্ঘদিন ধরেই লোকসান, উৎপাদন সংকট ও ব্যবস্থাপনা দুর্বলতা নিয়ে আলোচনায় রয়েছে। একদিকে সরকার শিল্পগুলো টিকিয়ে রাখতে চায়, অন্যদিকে লোকসান কমানোর চাপও রয়েছে। ফলে এখন প্রশ্ন উঠছে—আধুনিকায়ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব শিল্পকে কতটা টেকসই করা সম্ভব।


বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুরোনো কাঠামো মেরামত করলেই হবে না; আখ উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনাও জরুরি। না হলে চালু হওয়ার পরও মিলগুলো আবার লোকসানে পড়তে পারে।

বর্তমানে পঞ্চগড়সহ বন্ধ চিনিকলগুলো নিয়ে সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে আছেন শ্রমিক, চাষি ও স্থানীয় বাসিন্দারা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর