দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শনিবার, ০৯ মে ২০২৬

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুসলিম যুবকদের দূরে থাকার আহ্বান কেন?

ডায়মন্ড হারবারে লাইব্রেরিতে বইয়ের বদলে মদের বোতল! কপাটহাটের ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত উমর হায়াতের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাসহ ৫০ ভাষায় পৌঁছাবে হজের খুতবা, বহুভাষিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মক্কার হজ ব্যবস্থাপনা

তুরস্কে এক কিশোরের বন্দুক হামলা, নিহত ৪: আতঙ্কে তারসুস, চলছে ব্যাপক অভিযান

আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ

দোকানে বিস্কুট কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর, মেহেরপুরে বালিবাহী লাটাহাম্বা আটক".

দোকানে বিস্কুট কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর, মেহেরপুরে বালিবাহী লাটাহাম্বা আটক".
-ছবি: সংগৃহীত

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামে বালিবাহী স্যালোইঞ্জিনচালিত একটি লাটাহাম্বার চাপায় সানজিদা আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্রামের একটি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘাতক যান ও চালককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

নিহত সানজিদা স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ ছিট-কাপড় ব্যবসায়ী সাজেদুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারের একমাত্র আদরের শিশুকে হারিয়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিস্কুট কিনতে বের হয়েই দুর্ঘটনা

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে বাড়ির পাশের দোকানে বিস্কুট কিনতে যাচ্ছিল সানজিদা। গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে একটি বালুবাহী স্যালোইঞ্জিনচালিত লাটাহাম্বা এসে তাকে চাপা দেয়। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে চিৎকার-আর্তনাদ শুরু হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে লাটাহাম্বাটি থামানোর চেষ্টা করেন। পরে চালককে আটক করে গণপিটুনির আশঙ্কা এড়াতে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।


উত্তেজিত জনতা, পরে পুলিশের হস্তক্ষেপ

ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ সড়কে বালিবাহী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, গ্রামের ভেতরের সরু রাস্তায় প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে এসব লাটাহাম্বা চলাচল করে। অনেক চালকের বিরুদ্ধে অসাবধানতাপূর্ণ গাড়ি চালানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি যথেষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তারা।

খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুর্ঘটনায় জড়িত লাটাহাম্বা ও চালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশের বক্তব্য

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে চালকের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হতে পারে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।


পরিবারে শোকের মাতম

সানজিদার মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশীরা জানান, সকালে হাসিখুশি অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শিশুটি। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেই শিশুর নিথর দেহ বাড়িতে ফিরে আসে।

শিশুটির মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় ভারী পরিবেশ তৈরি হয়। গ্রামের অনেকেই বলেন, একটি ছোট্ট শিশুর এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।

গ্রামীণ সড়কে বাড়ছে ঝুঁকি

মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বালিবাহী ট্রলি, লাটাহাম্বা ও স্যালোইঞ্জিনচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে প্রায়ই উদ্বেগ দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তায় এসব যান অনেক সময় ফিটনেসবিহীন অবস্থায় চলাচল করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চালকদের প্রশিক্ষণ বা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন থাকে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও মনে করছে, গ্রামীণ সড়কে ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


তদন্তের অপেক্ষায় এলাকাবাসী

ঘটনার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। অনেকেই চান, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হলে তা আইনগতভাবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে করমদী গ্রামের মানুষ এখনো ছোট্ট সানজিদার করুণ মৃত্যুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। একটি বিস্কুট কিনতে বের হওয়া শিশুর এমন মৃত্যু আবারও গ্রামীণ সড়কের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিষয় : মেহেরপুর দুর্ঘটনা লাটাহাম্বা চাপায় শিশু নিহত বালিবাহী যান দুর্ঘটনা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬


দোকানে বিস্কুট কিনতে গিয়ে প্রাণ গেল শিশুর, মেহেরপুরে বালিবাহী লাটাহাম্বা আটক".

প্রকাশের তারিখ : ০৯ মে ২০২৬

featured Image

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার করমদী গ্রামে বালিবাহী স্যালোইঞ্জিনচালিত একটি লাটাহাম্বার চাপায় সানজিদা আক্তার (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গ্রামের একটি সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ঘাতক যান ও চালককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

নিহত সানজিদা স্থানীয় ভ্রাম্যমাণ ছিট-কাপড় ব্যবসায়ী সাজেদুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারের একমাত্র আদরের শিশুকে হারিয়ে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বিস্কুট কিনতে বের হয়েই দুর্ঘটনা

স্থানীয়দের ভাষ্য, সকালে মায়ের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে বাড়ির পাশের দোকানে বিস্কুট কিনতে যাচ্ছিল সানজিদা। গ্রামের সরু রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পিছন দিক থেকে দ্রুতগতিতে একটি বালুবাহী স্যালোইঞ্জিনচালিত লাটাহাম্বা এসে তাকে চাপা দেয়। আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয় বলে জানান প্রত্যক্ষদর্শীরা।

দুর্ঘটনার পর মুহূর্তেই এলাকাজুড়ে চিৎকার-আর্তনাদ শুরু হয়। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ছুটে এসে লাটাহাম্বাটি থামানোর চেষ্টা করেন। পরে চালককে আটক করে গণপিটুনির আশঙ্কা এড়াতে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।


উত্তেজিত জনতা, পরে পুলিশের হস্তক্ষেপ

ঘটনার পর এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দেয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রামীণ সড়কে বালিবাহী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কের কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশু ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, গ্রামের ভেতরের সরু রাস্তায় প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে এসব লাটাহাম্বা চলাচল করে। অনেক চালকের বিরুদ্ধে অসাবধানতাপূর্ণ গাড়ি চালানোর অভিযোগও রয়েছে। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি যথেষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তারা।

খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুর্ঘটনায় জড়িত লাটাহাম্বা ও চালককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশের বক্তব্য

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার দাস জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “দুর্ঘটনায় জড়িত গাড়ি ও চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে চালকের বিরুদ্ধে কী ধরনের অভিযোগ আনা হতে পারে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি পুলিশ।


পরিবারে শোকের মাতম

সানজিদার মৃত্যুর খবরে পরিবারের সদস্যরা ভেঙে পড়েছেন। প্রতিবেশীরা জানান, সকালে হাসিখুশি অবস্থায় বাড়ি থেকে বের হয়েছিল শিশুটি। কয়েক মিনিটের ব্যবধানে সেই শিশুর নিথর দেহ বাড়িতে ফিরে আসে।

শিশুটির মা বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা। স্বজনদের কান্নায় পুরো এলাকায় ভারী পরিবেশ তৈরি হয়। গ্রামের অনেকেই বলেন, একটি ছোট্ট শিশুর এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া কঠিন।

গ্রামীণ সড়কে বাড়ছে ঝুঁকি

মেহেরপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বালিবাহী ট্রলি, লাটাহাম্বা ও স্যালোইঞ্জিনচালিত যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ে প্রায়ই উদ্বেগ দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তায় এসব যান অনেক সময় ফিটনেসবিহীন অবস্থায় চলাচল করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চালকদের প্রশিক্ষণ বা বৈধ লাইসেন্স নিয়ে প্রশ্ন থাকে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও মনে করছে, গ্রামীণ সড়কে ভারী ও ঝুঁকিপূর্ণ যান চলাচলের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।


তদন্তের অপেক্ষায় এলাকাবাসী

ঘটনার পর এলাকায় শোকের পাশাপাশি ক্ষোভও বিরাজ করছে। অনেকেই চান, দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের পর দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে। একই সঙ্গে নিহত শিশুর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হলে তা আইনগতভাবে বিবেচনা করা হবে।

এদিকে করমদী গ্রামের মানুষ এখনো ছোট্ট সানজিদার করুণ মৃত্যুর ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি। একটি বিস্কুট কিনতে বের হওয়া শিশুর এমন মৃত্যু আবারও গ্রামীণ সড়কের নিরাপত্তা প্রশ্নে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর