দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

সিরাজগঞ্জে বাসচাপায় অটোরিকশার তিন যাত্রী নিহত, গুরুতর আহত আরও দুইজন

ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার অভিযোগ, ঢাকায় এনসিপির বিক্ষোভ মিছিল

সাভারে মৎস্যজীবী দলের সভায় খোরশেদ আলম: তৃণমূল নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

দেশজুড়ে ধর্ষণ ও হত্যার বিচার দাবিতে এনসিপির মশাল মিছিল, শাহবাগে প্রতিবাদের ঢল

জামায়াত আমির শফিকুর রহমানের অভিযোগ—‘রাজনৈতিক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় বিলুপ্ত করা হয়েছে বিচার বিভাগীয় সচিবালয়’

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ, সরকার স্বীকার করছে না: ডা. শফিকুর রহমান

কুড়িগ্রামে প্রশাসনিক সিন্ডিকেটের অভিযোগ এমপি আতিক মোজাহিদের, উন্নয়ন ব্যাহত হওয়ার দাবি

রাজশাহীতে এনসিপির বড় যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দল ছেড়ে এলেন প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব সবার’—মির্জা ফখরুল

‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব সবার’—মির্জা ফখরুল
-ছবি: সংগৃহীত

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনের কৃতিত্ব কার—এমন বিতর্কের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং এটি সবার সম্মিলিত অর্জন। তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বড় ধরনের পরিবর্তন কখনো হঠাৎ করে আসে না। দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ, সংগ্রাম ও মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বড় অর্জন সম্ভব হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের উদাহরণ টানলেন ফখরুল

নিজের বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একদিনে অর্জিত হয়নি। লাখো মানুষের আত্মত্যাগ, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই স্বাধীনতার কৃতিত্ব যেমন পুরো জাতির, তেমনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের অর্জনও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

ফখরুল দাবি করেন, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। তার মতে, এসব ত্যাগের ধারাবাহিকতাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি করেছে।

“শুধু রাজনীতিবিদ নয়, অবদান সবার”

ফেসবুক পোস্টে তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, ছাত্র, সাধারণ মানুষ, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রিকশাচালক এবং প্রবাসীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন সামাজিক শক্তির সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক আন্দোলনের কৃতিত্বকে সম্মিলিত অর্জন হিসেবে তুলে ধরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও কৃতিত্ব নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির অবস্থান তুলে ধরলেন

নিজ দলের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দলটি বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।

তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বিএনপি নিজেদেরকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তবে এ বিষয়ে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিভাজনের বদলে ঐক্যের আহ্বান

পোস্টের শেষ অংশে তিনি অতীতের অর্জন নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তার মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশ পুনর্গঠন এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা।

তিনি সততা ও সত্যের ভিত্তিতে ইতিহাস লেখার কথাও উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস ও আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিটি বড় রাজনৈতিক ঘটনার পরই কে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে আলোচনা দেখা যায়।

তবে ফখরুলের বক্তব্যকে অনেকে একটি “সমন্বয়মূলক বার্তা” হিসেবে দেখছেন। কারণ তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আলাদা করে কৃতিত্ব না দিয়ে পুরো সমাজের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক বাস্তবতায় কী ইঙ্গিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো ঐতিহাসিকভাবেই দীর্ঘমেয়াদি এবং বহুমাত্রিক হয়ে থাকে। ছাত্র আন্দোলন, পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া বড় ধরনের পরিবর্তন খুব কমই এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তবে সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও রাজনৈতিক আলোচনা হতে পারে।

সামাজিক প্রভাব ও জনমত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ফখরুলের পোস্ট নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার বক্তব্যকে ঐক্যের বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার কৌশল বলেও মন্তব্য করছেন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষ সাধারণত নিজেদের ভূমিকা ও পরিচয় নিয়ে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে কৃতিত্বের প্রশ্নে আবেগ ও মতপার্থক্য তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তাদের মতে, এ ধরনের সময়ে ঐক্যের বার্তা রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

উপসংহার

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি আন্দোলনের কৃতিত্বকে সম্মিলিত অর্জন হিসেবে তুলে ধরে বিভাজনের বদলে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলে এবং আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।

বিষয় : গণঅভ্যুত্থানের মির্জা ফখরুল জুলাই

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব সবার’—মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

featured Image

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আন্দোলনের কৃতিত্ব কার—এমন বিতর্কের মধ্যেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই আন্দোলন কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়, বরং এটি সবার সম্মিলিত অর্জন। তার এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে বড় ধরনের পরিবর্তন কখনো হঠাৎ করে আসে না। দীর্ঘ সময়ের ত্যাগ, সংগ্রাম ও মানুষের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই বড় অর্জন সম্ভব হয়।

স্বাধীনতা যুদ্ধের উদাহরণ টানলেন ফখরুল

নিজের বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে আনেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা একদিনে অর্জিত হয়নি। লাখো মানুষের আত্মত্যাগ, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, সেই স্বাধীনতার কৃতিত্ব যেমন পুরো জাতির, তেমনি সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আন্দোলনের অর্জনও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

ফখরুল দাবি করেন, গত কয়েক বছরে রাজনৈতিক আন্দোলনে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন কিংবা নিখোঁজ হয়েছেন। তার মতে, এসব ত্যাগের ধারাবাহিকতাই ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পটভূমি তৈরি করেছে।

“শুধু রাজনীতিবিদ নয়, অবদান সবার”

ফেসবুক পোস্টে তিনি সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, আন্দোলনে শুধু রাজনৈতিক কর্মীরাই নয়, ছাত্র, সাধারণ মানুষ, চিকিৎসক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, রিকশাচালক এবং প্রবাসীরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

তিনি দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ভূমিকাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে বলেন, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে বিভিন্ন সামাজিক শক্তির সম্মিলিত অংশগ্রহণ ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক আন্দোলনের কৃতিত্বকে সম্মিলিত অর্জন হিসেবে তুলে ধরা দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে আন্দোলনের নেতৃত্ব ও কৃতিত্ব নিয়ে ভিন্নমত দেখা যাচ্ছে।

বিএনপির অবস্থান তুলে ধরলেন

নিজ দলের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি উল্লেখ করেন, দলটি বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে আন্দোলনে অংশ নিয়েছে।

তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, বিএনপি নিজেদেরকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম অংশীদার হিসেবে তুলে ধরতে চায়। তবে এ বিষয়ে অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

বিভাজনের বদলে ঐক্যের আহ্বান

পোস্টের শেষ অংশে তিনি অতীতের অর্জন নিয়ে বিভাজনের রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তার মতে, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশ পুনর্গঠন এবং একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি করা।

তিনি সততা ও সত্যের ভিত্তিতে ইতিহাস লেখার কথাও উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইতিহাস ও আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিটি বড় রাজনৈতিক ঘটনার পরই কে কতটা ভূমিকা রেখেছে, তা নিয়ে আলোচনা দেখা যায়।

তবে ফখরুলের বক্তব্যকে অনেকে একটি “সমন্বয়মূলক বার্তা” হিসেবে দেখছেন। কারণ তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে আলাদা করে কৃতিত্ব না দিয়ে পুরো সমাজের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেছেন।

রাজনৈতিক বাস্তবতায় কী ইঙ্গিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনগুলো ঐতিহাসিকভাবেই দীর্ঘমেয়াদি এবং বহুমাত্রিক হয়ে থাকে। ছাত্র আন্দোলন, পেশাজীবী সংগঠন, রাজনৈতিক দল এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া বড় ধরনের পরিবর্তন খুব কমই এসেছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণেও একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক অবস্থান তুলে ধরার চেষ্টা করছে।

তবে সমালোচকদের কেউ কেউ বলছেন, আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে বিতর্ক এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। ফলে ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও রাজনৈতিক আলোচনা হতে পারে।

সামাজিক প্রভাব ও জনমত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ফখরুলের পোস্ট নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ তার বক্তব্যকে ঐক্যের বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ এটিকে রাজনৈতিক অবস্থান শক্ত করার কৌশল বলেও মন্তব্য করছেন।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষ সাধারণত নিজেদের ভূমিকা ও পরিচয় নিয়ে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে। ফলে কৃতিত্বের প্রশ্নে আবেগ ও মতপার্থক্য তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

তাদের মতে, এ ধরনের সময়ে ঐক্যের বার্তা রাজনৈতিক উত্তেজনা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

উপসংহার

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি আন্দোলনের কৃতিত্বকে সম্মিলিত অর্জন হিসেবে তুলে ধরে বিভাজনের বদলে ঐক্যের আহ্বান জানিয়েছেন।

এখন দেখার বিষয়, তার এই বক্তব্য দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে কতটা প্রভাব ফেলে এবং আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে চলমান বিতর্ক কোন দিকে গড়ায়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর