নওগাঁ সদর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫০ লিটার চোলাই মদসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) পৌর শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান। অভিযানের সময় মুক্তির মোড়ের সাকিব পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে তোতা (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার উপশেরপুর এলাকায়।
অভিযানে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ২৫০ মিলিলিটারের কোমল পানীয়ের প্রায় ২০০টি বোতলে রাখা মোট ৫০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব বোতলে মদ ভরে তা সাধারণ পানীয় হিসেবে বিক্রি করা হতো, যাতে সহজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অনেকেই মাদক পরিবহন ও বিক্রির চেষ্টা করে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
সাম্প্রতিক সময়ে নওগাঁ জেলায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শহর ও আশপাশের এলাকায় চোলাই মদসহ বিভিন্ন অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু ব্যক্তি গোপনে চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। মুক্তির মোড় এলাকার এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে কিছুদিন ধরে সন্দেহজনক কিছু কার্যক্রম চলছিল। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “কোমল পানীয়ের বোতলে করে মদ বিক্রি করা খুবই বিপজ্জনক। এতে তরুণরা সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারে। প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি দরকার।”
আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নওগাঁ সদর থানার এক কর্মকর্তা জানান, “মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা এ ধরনের অবৈধ কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। কোমল পানীয়ের বোতল ব্যবহার করে মদ বিক্রি করা তারই একটি উদাহরণ। এতে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজানা উৎসের চোলাই মদ পান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
নওগাঁ সদর থানা পুলিশের মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে ৫০ লিটার চোলাই মদসহ এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) পৌর শহরের মুক্তির মোড় এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় পরিচালিত অভিযানে নেতৃত্ব দেন নওগাঁ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান। অভিযানের সময় মুক্তির মোড়ের সাকিব পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকা থেকে তোতা (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার বাড়ি নওগাঁ সদর উপজেলার উপশেরপুর এলাকায়।
অভিযানে আটক ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন কোম্পানির ২৫০ মিলিলিটারের কোমল পানীয়ের প্রায় ২০০টি বোতলে রাখা মোট ৫০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসব বোতলে মদ ভরে তা সাধারণ পানীয় হিসেবে বিক্রি করা হতো, যাতে সহজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়ানো যায়।
পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “এ ধরনের কৌশল ব্যবহার করে অনেকেই মাদক পরিবহন ও বিক্রির চেষ্টা করে। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।”
সাম্প্রতিক সময়ে নওগাঁ জেলায় মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। এর অংশ হিসেবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শহর ও আশপাশের এলাকায় চোলাই মদসহ বিভিন্ন অবৈধ মাদকদ্রব্যের বিরুদ্ধে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই কিছু ব্যক্তি গোপনে চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত—এমন অভিযোগ ছিল। এরই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা গেছে। মুক্তির মোড় এলাকার এক দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “এখানে কিছুদিন ধরে সন্দেহজনক কিছু কার্যক্রম চলছিল। পুলিশ ব্যবস্থা নেওয়ায় আমরা স্বস্তি পেয়েছি।”
আরেকজন বাসিন্দা বলেন, “কোমল পানীয়ের বোতলে করে মদ বিক্রি করা খুবই বিপজ্জনক। এতে তরুণরা সহজেই বিভ্রান্ত হতে পারে। প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি দরকার।”
আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
নওগাঁ সদর থানার এক কর্মকর্তা জানান, “মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। যারা এ ধরনের অবৈধ কাজে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদক ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে। কোমল পানীয়ের বোতল ব্যবহার করে মদ বিক্রি করা তারই একটি উদাহরণ। এতে একদিকে যেমন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অজানা উৎসের চোলাই মদ পান করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন