নওগাঁর পোরশা উপজেলায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হঠাৎ করেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান—আর তাতেই উঠে আসে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ। সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে জরিমানা করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিভাগ সিলগালা করে দেয় প্রশাসন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার সরাইগাছি জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত “ইসলামি ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাকিবুল ইসলাম। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রমে বেশ কিছু অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে ঘাটতি এবং চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন।
বিশেষ করে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বিভাগ ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে এই দুটি বিভাগ সিলগালা করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেবা প্রদান না করা হয়।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও জরিমানার পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, “স্বাস্থ্যসেবা খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানের সময় নওগাঁ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন, পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ মোঃ নাজির আহম্মেদ, পোরশা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিয়াউর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন।
স্বাস্থ্য প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক সময় দেখা যায় কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মের বাইরে গিয়ে সেবা দিচ্ছে, যা রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এই ধরনের নজরদারি খুবই জরুরি।”
অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে।
সরাইগাছি এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল। যদি এখানে অনিয়ম থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই বন্ধ করা দরকার।”
আরেকজন বলেন, “হঠাৎ করে বিভাগ সিলগালা করায় রোগীদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে যদি সত্যিই অনিয়ম থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি।”
এই অভিযানের ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতে তাৎক্ষণিক কিছু প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যেসব রোগী নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ওই সেন্টারের ওপর নির্ভর করতেন, তারা বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হতে পারেন।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অভিযান স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক হবে এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার চাপ বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল কিংবা মানসম্মত যন্ত্রপাতির অভাবে সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এ বিষয়ে এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, “নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাই প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত হওয়া উচিত।”
অভিযুক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে হঠাৎ করেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান—আর তাতেই উঠে আসে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ। সকালে শুরু হওয়া এই অভিযানে জরিমানা করার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিভাগ সিলগালা করে দেয় প্রশাসন, যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
জানা গেছে, নওগাঁ জেলার পোরশা উপজেলার সরাইগাছি জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থিত “ইসলামি ল্যাব এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”-এ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ রাকিবুল ইসলাম। এসময় স্বাস্থ্য বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রমে বেশ কিছু অসংগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে আসে। এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল প্রয়োজনীয় অনুমোদন সংক্রান্ত জটিলতা, স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণে ঘাটতি এবং চিকিৎসা সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন।
বিশেষ করে অপারেশন থিয়েটার (ওটি) বিভাগ ও প্যাথলজি বিভাগের কার্যক্রম নিয়ে কর্তৃপক্ষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিকভাবে এই দুটি বিভাগ সিলগালা করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে কোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেবা প্রদান না করা হয়।
একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও জরিমানার পরিমাণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ রাকিবুল ইসলাম জানান, “স্বাস্থ্যসেবা খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। এখানে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে এবং যেসব প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি মেনে চলবে না, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানের সময় নওগাঁ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন, পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক ডাঃ মোঃ নাজির আহম্মেদ, পোরশা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ জিয়াউর রহমানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তারাও অভিযানে অংশ নেন।
স্বাস্থ্য প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অনেক সময় দেখা যায় কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মের বাইরে গিয়ে সেবা দিচ্ছে, যা রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তাই এই ধরনের নজরদারি খুবই জরুরি।”
অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন, আবার কেউ কেউ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে।
সরাইগাছি এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অবস্থায় বলেন, “আমরা সাধারণ মানুষ চিকিৎসার জন্য এসব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ওপর নির্ভরশীল। যদি এখানে অনিয়ম থাকে, তাহলে সেটা অবশ্যই বন্ধ করা দরকার।”
আরেকজন বলেন, “হঠাৎ করে বিভাগ সিলগালা করায় রোগীদের কিছুটা সমস্যায় পড়তে হতে পারে। তবে যদি সত্যিই অনিয়ম থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়াটা জরুরি।”
এই অভিযানের ফলে স্থানীয় স্বাস্থ্যসেবা খাতে তাৎক্ষণিক কিছু প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে যেসব রোগী নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ওই সেন্টারের ওপর নির্ভর করতেন, তারা বিকল্প খুঁজতে বাধ্য হতে পারেন।
তবে দীর্ঘমেয়াদে এ ধরনের অভিযান স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক হবে এবং রোগীদের জন্য নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করার চাপ বাড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বিভিন্ন স্থানে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা প্রয়োজন। কারণ অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ লাইসেন্স, প্রশিক্ষিত জনবল কিংবা মানসম্মত যন্ত্রপাতির অভাবে সেবার মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।
এ বিষয়ে এক স্বাস্থ্যকর্মী বলেন, “নিয়মিত মনিটরিং না থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান ধীরে ধীরে অনিয়মে জড়িয়ে পড়ে। তাই প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান নিয়মিত হওয়া উচিত।”
অভিযুক্ত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাধারণ মানুষের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন