নওগাঁ জেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক দুইটি মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ট্যাবলেট ও গাঁজার গাছসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার পরিচালিত এই অভিযানে ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং তিনটি গাঁজার গাছ (প্রায় ৭ কেজি) উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এই অভিযান দুটি পরিচালনা করে। মাদক চক্রের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে একযোগে পোরশা ও পত্নিতলা উপজেলায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় পোরশা থানাধীন নুছনাহার বাজার এলাকায়। রাত ৮টার দিকে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, জনৈক হাসানের বাড়ির আশপাশে দুইজন ব্যক্তি মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। তবে অপরজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম আলামিন (২৩)। তিনি পিতা রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং নুছনাহার গ্রামের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই দিনে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালিত হয় পত্নিতলা থানার আড়াইল এলাকায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, এক ব্যক্তি তার বর্গাচাষকৃত জমির কলা বাগানের ভেতরে গাঁজার গাছ চাষ করছে।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে আ: রাজ্জাক (পিতা নজরুল ইসলাম) নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেখানো স্থানে গিয়ে বাগান থেকে ৩টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে দুটি বড় এবং একটি ছোট গাছ ছিল, যার মোট ওজন প্রায় ৭ কেজি বলে জানায় পুলিশ।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য পোরশা ও পত্নিতলা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে মাদক চক্র সক্রিয় হতে না পারে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “মাদক সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।”
স্থানীয়রা পুলিশের এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, গ্রামাঞ্চলে মাদক সহজে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, তাই নিয়মিত অভিযান খুবই প্রয়োজন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকটাই কমে আসবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে গাঁজা চাষও পরিবেশ ও সামাজিকভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
তারা মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৫ মে ২০২৬
নওগাঁ জেলায় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের পৃথক দুইটি মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ট্যাবলেট ও গাঁজার গাছসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার পরিচালিত এই অভিযানে ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট এবং তিনটি গাঁজার গাছ (প্রায় ৭ কেজি) উদ্ধার করা হয়।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এই অভিযান দুটি পরিচালনা করে। মাদক চক্রের বিরুদ্ধে চলমান কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে একযোগে পোরশা ও পত্নিতলা উপজেলায় অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয় পোরশা থানাধীন নুছনাহার বাজার এলাকায়। রাত ৮টার দিকে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, জনৈক হাসানের বাড়ির আশপাশে দুইজন ব্যক্তি মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
অভিযান চলাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে একজন ব্যক্তি পালিয়ে যায়। তবে অপরজনকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম আলামিন (২৩)। তিনি পিতা রফিকুল ইসলামের ছেলে এবং নুছনাহার গ্রামের বাসিন্দা। তার কাছ থেকে ২০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
একই দিনে দ্বিতীয় অভিযান পরিচালিত হয় পত্নিতলা থানার আড়াইল এলাকায়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশ জানতে পারে, এক ব্যক্তি তার বর্গাচাষকৃত জমির কলা বাগানের ভেতরে গাঁজার গাছ চাষ করছে।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে অভিযান চালিয়ে আ: রাজ্জাক (পিতা নজরুল ইসলাম) নামের এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেখানো স্থানে গিয়ে বাগান থেকে ৩টি গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়।
এর মধ্যে দুটি বড় এবং একটি ছোট গাছ ছিল, যার মোট ওজন প্রায় ৭ কেজি বলে জানায় পুলিশ।
উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার জন্য পোরশা ও পত্নিতলা থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নওগাঁ জেলা পুলিশ জানিয়েছে, মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ও সীমান্তবর্তী এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে, যাতে মাদক চক্র সক্রিয় হতে না পারে।
একজন পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “মাদক সমাজকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে।”
স্থানীয়রা পুলিশের এই অভিযানের প্রশংসা করেছেন। তাদের মতে, গ্রামাঞ্চলে মাদক সহজে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে, তাই নিয়মিত অভিযান খুবই প্রয়োজন।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “এ ধরনের অভিযান নিয়মিত হলে এলাকায় মাদক ব্যবসা অনেকটাই কমে আসবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্যাপেন্টাডলসহ বিভিন্ন ধরনের নেশাজাতীয় ট্যাবলেট তরুণ সমাজকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছে। অন্যদিকে গাঁজা চাষও পরিবেশ ও সামাজিকভাবে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
তারা মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ নয়, পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধিও জরুরি।

আপনার মতামত লিখুন