রাজশাহীতে এনসিপির বড় যোগদান অনুষ্ঠান, বিভিন্ন দল ছেড়ে এলেন প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী
রাজশাহীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাম্প্রতিক যোগদান অনুষ্ঠান। বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠন থেকে প্রায় ৫০০ নেতা-কর্মী এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন বলে দাবি করেছে দলটি। শনিবার দুপুরে রাজশাহী জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে দলে স্বাগত জানানো হয়।অনুষ্ঠানে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন এবং নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন। দলটির নেতারা দাবি করেন, নতুন প্রজন্মের রাজনীতির প্রতি আগ্রহ বাড়ার কারণেই বিভিন্ন দলের কর্মীরা এনসিপির দিকে ঝুঁকছেন।মঞ্চে ফুল দিয়ে বরণ, ঘোষণা করা হয় আগের রাজনৈতিক পরিচয়যোগদান অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নতুন সদস্যদের মধ্যে অন্তত ৫০ জনকে মঞ্চে ডেকে ফুলের মালা পরিয়ে বরণ করে নেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।[TECHTARANGA-POST:1307]অনুষ্ঠান চলাকালে মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয়, যোগ দিতে আসা ব্যক্তিরা আগে কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং সেখানে তাঁদের সাংগঠনিক অবস্থান কী ছিল। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদ ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মী ও নেতারা এদিন এনসিপিতে যোগ দেন।রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি বাড়াতে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। রাজশাহীর এই আয়োজন সেই প্রচেষ্টারই অংশ বলে মনে করছেন অনেকে।সরকারের সমালোচনায় সরব এনসিপি নেতারাঅনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সারজিস আলম ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বর্তমান সরকারের নানা নীতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, দেশে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হচ্ছে এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে।তবে এসব বক্তব্যের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।এনসিপির নেতারা আরও দাবি করেন, দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে সাধারণ মানুষের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। সেই জায়গা থেকে বিকল্প রাজনৈতিক ধারা গড়ে তুলতেই তাঁরা কাজ করছেন বলে উল্লেখ করেন।‘নতুনদের অংশগ্রহণ বাড়ছে’—দাবি মহানগর নেতাদেরঅনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির রাজশাহী মহানগরের আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী। তিনি বলেন, রাজশাহীতে এনসিপির সাংগঠনিক কার্যক্রম ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে এবং তরুণদের অংশগ্রহণও বাড়ছে।তাঁর দাবি, শনিবারের অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০০ জন নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন। যদিও এই সংখ্যার বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মহানগর এনসিপির সদস্যসচিব আতিকুর রহমান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলের যুগ্ম সদস্যসচিব এ বি এম গাজী সালাউদ্দিন আহমেদ, এস এম সাইফ মোস্তাফিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ইমরান ইমন এবং জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিনসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।রাজশাহীর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ?রাজশাহী দীর্ঘদিন ধরেই দেশের অন্যতম রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রাজনৈতিক সংগঠনগুলোও এ অঞ্চলে সাংগঠনিক ভিত্তি তৈরির চেষ্টা করছে। এনসিপির এই যোগদান অনুষ্ঠানকে অনেকে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা হিসেবেও দেখছেন।বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের লক্ষ্য করে বিকল্প রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে আনার প্রবণতা এখন বেশ স্পষ্ট। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের কিছু কর্মী নতুন দলে যোগ দেওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তনের আলোচনা শুরু হয়েছে।[TECHTARANGA-POST:1285]তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ মনে করছেন, বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে হলে শুধু যোগদান অনুষ্ঠান নয়, ধারাবাহিক সাংগঠনিক কার্যক্রম ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কী?রাজনীতিতে নতুন মুখ বা নতুন দলের আগমন নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যেমন আগ্রহ তৈরি হয়, তেমনি থাকে সংশয়ও। অনেকেই মনে করেন, দল পরিবর্তনের রাজনীতি নতুন কিছু নয়; তবে জনগণের প্রত্যাশা থাকে বাস্তব পরিবর্তনের।রাজশাহীর কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তাঁরা রাজনৈতিক সংঘাতের বদলে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশকে বেশি গুরুত্ব দেন। নতুন রাজনৈতিক দলগুলো এসব বিষয়ে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে, সেটিই এখন দেখার বিষয় বলে মত তাঁদের।বিশ্লেষকদের মতে, দেশে রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্যে নতুন দলগুলোর জন্য জনগণের আস্থা অর্জন সহজ নয়। তবে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং বিকল্প রাজনৈতিক বক্তব্য সামনে আনতে পারলে ভবিষ্যতে তারা আলোচনায় থাকতে পারে।এখন নজর সাংগঠনিক বিস্তারেএনসিপির রাজশাহীর এই আয়োজনের পর রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হলেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব কী হবে, তা এখনই বলা কঠিন। দলটির নেতারা বলছেন, ভবিষ্যতে বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে আরও কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।অন্যদিকে, বিভিন্ন দল থেকে যোগ দেওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক অবস্থান ভবিষ্যতে কতটা সক্রিয় থাকে এবং তারা মাঠপর্যায়ে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিও পর্যবেক্ষণে রাখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।[TECHTARANGA-POST:1257]
রাজশাহীর এ আয়োজন আপাতত নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিলেও বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে আগামী দিনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও জনসম্পৃক্ততার ওপর।