দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতেও দুর্নীতির অভিযোগ

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতে, মামলার তদবির করতে এবং শুনানির ক্ষেত্রেও দুর্নীতির অভিযোগ আসছে বলে জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুবউদ্দিন খোকন।বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ তুলে বিচার বিভাগের সর্বস্তরে দুর্নীতি ও অনিয়ম বন্ধে প্রধান বিচারপতির কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।বার সভাপতি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এবং বিভিন্ন পর্যায়ে বৈঠক করে বিচার বিভাগের দুর্নীতি নিয়ে উদ্বেগের কথা জানতে পেরেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মামলার তদবির, লিস্টে মামলা ওঠানো, শুনানি এবং কিছু জুডিশিয়াল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আইনজীবীদের কাছ থেকে এসেছে।মাহবুবউদ্দিন খোকনের অভিযোগ, হাইকোর্ট বিভাগে মামলার শুনানির তালিকায় মামলা আনতে যেমন অনিয়মের কথা আইনজীবীরা জানিয়েছেন, একই ধরনের অভিযোগ এসেছে আপিল বিভাগ নিয়েও।তিনি প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগসহ দেশের সব আদালতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে হবে।তার বক্তব্য, অন্য কোথাও দুর্নীতি থাকতে পারে, কিন্তু দুর্নীতির বিচার হয় সুপ্রিম কোর্টে। তাই বিচারপ্রার্থীদের মামলা পরিচালনার জন্য যদি বিভিন্ন পর্যায়ে তদবির করতে হয় বা অর্থ দিতে হয়—তা অত্যন্ত দুঃখজনক।বার সভাপতি বলেন, হাইকোর্ট ও নিম্ন আদালতে যেসব অনিয়ম হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যেসব জুডিশিয়াল কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তিনি।এ সময় তিনি অতীতে রাজনৈতিক আচরণের অভিযোগ ওঠা কয়েকজন বিচারপতির বিষয়েও কথা বলেন। তার দাবি, তাদের আচরণ ও কনডাক্ট বিবেচনা করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।তবে এসব বক্তব্য মূলত বার সভাপতির অভিযোগ ও দাবি। সংশ্লিষ্ট বিচারপতি বা কর্মকর্তাদের বক্তব্য ছাড়া অভিযোগগুলোকে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে আসন্ন অবকাশকালীন ছুটির পর আপিল বিভাগে কমপক্ষে তিনটি বেঞ্চ গঠনের দাবি জানিয়েছেন মাহবুবউদ্দিন খোকন।প্রয়োজনে নতুন বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তার মতে, মামলার চাপ কমাতে দ্রুত শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য বিচারিক সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন।সম্প্রতি মামলায় তথ্য গোপন ও প্রতারণার অভিযোগে এক নবীন আইনজীবীর ওপর ৫ লাখ টাকা কস্ট আরোপের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বার সভাপতি মাহবুবউদ্দিন খোকনের বাদানুবাদ হয়।মঙ্গলবার প্রকাশ্য আদালতে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর বিচারাঙ্গন ও আইনজীবী মহলে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।এর পরদিন জাতীয় সংসদেও বিষয়টি ওঠে। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বিষয়টি উত্থাপন করেন।জবাবে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং বার ও বেঞ্চের সম্পর্কের বিষয়। তবে আদালতে এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সে প্রত্যাশার কথাও জানান তিনি।সংবাদ সম্মেলনে বিচারাঙ্গনের অনিয়মের পাশাপাশি আইনজীবীদের সুযোগ-সুবিধা নিয়েও কথা বলেন বার সভাপতি।সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের জন্য তৈরি অস্থায়ী টিনশেড স্থাপনা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি সেটি উচ্ছেদের দাবি করেন। তার অভিযোগ, আইনজীবীদের বসার ও চলাচলের পর্যাপ্ত জায়গা নেই।এক মাসের মধ্যে ওই স্থাপনা সরানোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তা না হলে আইনজীবীরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বিবেচনা করবেন।আদালতে বিচারপতিদের এজলাস ত্যাগের ঘটনা নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যেরও সমালোচনা করেন মাহবুবউদ্দিন খোকন।তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি হিসেবে তিনি আইনজীবীদের পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতির কাছে কথা বলবেন। এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যকে তিনি অপ্রাসঙ্গিক ও অনভিপ্রেত বলে মন্তব্য করেন।অ্যাটর্নি জেনারেল আগে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সেক্রেটারি ছিলেন উল্লেখ করে তার প্রশ্ন, তিনি কীভাবে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন।গুরুত্বপূর্ণ দিকসুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন বার সভাপতি।মামলা তদবির, শুনানি ও কিছু জুডিশিয়াল কর্মকর্তাকে ঘিরেও অভিযোগের কথা বলেছেন তিনি।হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে অনিয়ম বন্ধে প্রধান বিচারপতির পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে আপিল বিভাগে অন্তত তিনটি বেঞ্চ গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।সম্প্রতি বার সভাপতি ও প্রধান বিচারপতির বাদানুবাদের ঘটনাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।বিচারপ্রার্থীদের কাছে আদালত হলো ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়। তাই মামলা শুনানির তালিকায় ওঠা বা শুনানি দ্রুত করানোর ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।অভিযোগ সত্য হলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ ভিত্তিহীন হলে সেটিও স্পষ্ট করা জরুরি। কারণ বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ধরে রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শুধু অভিযোগ নয়, অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা আছে কি না। মামলা তালিকাভুক্তি ও শুনানির প্রক্রিয়া যত বেশি নিয়মভিত্তিক, ডিজিটাল ও পর্যবেক্ষণযোগ্য হবে, ব্যক্তিগত তদবিরের সুযোগ তত কমতে পারে। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী হিসেবে চিহ্নিত না করাও বিচারিক ন্যায্যতার অংশ।

সুপ্রিম কোর্টে মামলা শুনানির তালিকায় আনতেও দুর্নীতির অভিযোগ