তিন বছর পর ফিরছে ‘মা বাবা ভাই বোন’, এবার ঈদে সাত পর্বের বিশেষ আয়োজন
প্রায় তিন বছর বিরতির পর নতুনভাবে দর্শকের সামনে আসছে জনপ্রিয় পারিবারিক ধারাবাহিক ‘মা বাবা ভাই বোন’। এবার দীর্ঘমেয়াদি সিরিজ নয়, কোরবানির ঈদ উপলক্ষে সাত পর্বের বিশেষ নাটক হিসেবে নির্মিত হয়েছে এটি। আগের গল্পের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই নতুন কিছু সংযোজনের মাধ্যমে নাটকটি সাজানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্মাতা।বাংলা টেলিভিশনের পারিবারিক নাটকের দর্শকদের কাছে ‘মা বাবা ভাই বোন’ ছিল পরিচিত একটি নাম। ২০২১ সালের শেষ দিকে এনটিভিতে প্রচার শুরু হওয়া ধারাবাহিকটি ২০২৩ সালে ২০৯তম পর্বে শেষ হয়। সেই নাটক আবার ফিরছে নতুন আঙ্গিকে, আর এটিই এখন নাটকপ্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।আগের গল্পের ধারাবাহিকতা, তবে নতুন উপস্থাপনানাটকটির নির্মাতা হাসান রেজাউল এবারও পরিচালনার দায়িত্বে আছেন। পাশাপাশি সাত পর্বের এই বিশেষ নাটকের চিত্রনাট্যও লিখেছেন তিনি। আগে এটি সরাসরি প্রখ্যাত সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়–এর উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হলেও এবার নির্মাতা বলছেন, এটি মূল গল্প থেকে অনুপ্রাণিত একটি নির্মাণ।[TECHTARANGA-POST:1319]নির্মাতার ভাষ্য অনুযায়ী, আগের ধারাবাহিক যেখানে শেষ হয়েছিল, নতুন গল্প শুরু হবে ঠিক সেখান থেকেই। অর্থাৎ দর্শক আবার দেখতে পাবেন শিক্ষক জামান সাহেবের পরিবারকে, তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক, টানাপোড়েন ও বাস্তবতাও বদলেছে।হাসান রেজাউল জানিয়েছেন, পরিবারের ভেতরের হাসি-কান্না, ভুল বোঝাবুঝি, ভালোবাসা ও সম্পর্কের টানাপোড়েনই নতুন পর্বগুলোর মূল আকর্ষণ। তাঁর দাবি, দর্শকদের পুরোনো আবেগকে আবার ফিরিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।কেন আবার ফিরল ‘মা বাবা ভাই বোন’নির্মাতার মতে, কয়েক বছর আগে যখন নাটকটি প্রথম নির্মাণ করা হয়েছিল, তখন টেলিভিশন নাটকে পারিবারিক গল্পের ঘাটতি ছিল স্পষ্ট। সেই জায়গা থেকেই দর্শকদের মধ্যে নাটকটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।তিনি বলেন, দেশের বাইরে থাকা বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের কাছ থেকেও নাটকটি নিয়ে ভালো প্রতিক্রিয়া পেয়েছিলেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তব জীবন, অভিভাবক-সন্তানের সম্পর্ক এবং পারিবারিক সংকটকে সহজ ভাষায় তুলে ধরার কারণে দর্শক সহজেই গল্পটির সঙ্গে নিজেদের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন।হাসান রেজাউল আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আবারও পারিবারিক গল্পনির্ভর নাটকের চাহিদা বেড়েছে। সেই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ‘মা বাবা ভাই বোন’কে নতুনভাবে উপস্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।পুরোনো মুখের সঙ্গে নতুন সংযোজননতুন সংস্করণে আগের অনেক অভিনয়শিল্পীই ফিরছেন তাঁদের পরিচিত চরিত্রে। আদর্শবান শিক্ষক জামান সাহেব চরিত্রে আবারও অভিনয় করছেন শহীদুজ্জামান সেলিম। তাঁর স্ত্রীর চরিত্রে রয়েছেন সাবেরি আলম।এ ছাড়া নাটকে দেখা যাবে শবনম ফারিয়া, তাসনুভা তিশা, নিশাত প্রিয়ম এবং আবু হুরায়রা তানভীরকে। নতুন মুখ হিসেবে যুক্ত হয়েছেন অ্যালেন শুভ্র ও তাবাসসুম ছোঁয়া।নির্মাতা জানিয়েছেন, পুরোনো চরিত্রগুলোর আবেগ ও পরিচিতি ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন কিছু সম্পর্ক ও পরিস্থিতিও যোগ করা হয়েছে, যাতে গল্পে নতুনত্ব আসে।ঈদের নাটকে পারিবারিক গল্পের বাড়তি গুরুত্ববাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকে ঈদ সব সময় বিশেষ আয়োজনের সময়। এ সময় সাধারণত রোমান্টিক, কমেডি কিংবা পারিবারিক নাটকের প্রতি দর্শকের আগ্রহ বেশি থাকে। সেই জায়গা থেকে ‘মা বাবা ভাই বোন’কে সাত পর্বের বিশেষ ধারাবাহিক হিসেবে আনা হয়েছে।নাটকটি ঈদের দিন থেকে টানা সাত দিন রাত ৮টায় এনটিভি–তে প্রচারিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।[TECHTARANGA-POST:1304]টেলিভিশন সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের মতে, বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের দাপটে টেলিভিশন নাটকের দর্শক কিছুটা ভাগ হয়ে গেলেও পারিবারিক গল্পভিত্তিক কনটেন্ট এখনো বড় একটি দর্শকগোষ্ঠী ধরে রাখতে সক্ষম। বিশেষ করে পরিবার একসঙ্গে বসে দেখার মতো নাটকের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এমন গল্পের প্রতি আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে।দর্শকের আবেগ ও নস্টালজিয়াকে ঘিরে প্রত্যাশাপ্রথম ধারাবাহিকটি যাঁরা নিয়মিত দেখেছেন, তাঁদের কাছে এই নাটক শুধু বিনোদন নয়, বরং একটি পরিচিত পরিবারের গল্প হয়ে উঠেছিল। ফলে নতুন সংস্করণ ঘিরে দর্শকের মধ্যে নস্টালজিয়াও কাজ করছে।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতোমধ্যে নাটকটির নতুন পোস্টার ও প্রচার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে আগের চরিত্রগুলোকে আবার পর্দায় দেখার আগ্রহ প্রকাশ করছেন। তবে নতুন গল্প কতটা দর্শককে টানতে পারবে, সেটি এখন দেখার বিষয়।নির্মাতা জানিয়েছেন, দর্শকের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেলে ভবিষ্যতে এই গল্প নিয়ে আরও কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে।পারিবারিক গল্পের ফিরে আসা কী ইঙ্গিত দিচ্ছেএকসময় টেলিভিশন নাটকে পারিবারিক গল্প ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয় ধারা। পরে রোমান্টিক ও দ্রুতগতির কনটেন্টের ভিড়ে সেই জায়গা কিছুটা কমে যায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে আবারও পরিবারকেন্দ্রিক গল্পের জনপ্রিয়তা বাড়ছে বলে দাবি করছেন নির্মাতারা।বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক অস্থিরতা, ব্যস্ত জীবন এবং পারিবারিক দূরত্বের সময়ে দর্শক এমন গল্পে নিজেদের বাস্তবতার প্রতিফলন খোঁজেন। ‘মা বাবা ভাই বোন’-এর মতো নাটকগুলো সেই আবেগকে সামনে নিয়ে আসে বলেই দর্শকের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।তবে সমালোচকদের কেউ কেউ মনে করেন, শুধুমাত্র পুরোনো জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর না করে নতুন গল্প ও নির্মাণশৈলীতে বৈচিত্র্য আনাও জরুরি। কারণ বর্তমান দর্শক আগের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন ও বৈচিত্র্যমুখী কনটেন্টে অভ্যস্ত।[TECHTARANGA-POST:1288]এখন দেখার অপেক্ষা
সব মিলিয়ে ঈদে পারিবারিক নাটকের তালিকায় ‘মা বাবা ভাই বোন’ আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। পুরোনো আবেগ, পরিচিত চরিত্র এবং নতুন পরিস্থিতির মিশেলে নির্মিত সাত পর্বের এই আয়োজন দর্শকের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।