ভোরের ভারী বৃষ্টিতে ঢাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা, তাপমাত্রা কমেছে প্রায় ৬ ডিগ্রি
টানা গরম আর অস্বস্তিকর আবহাওয়ার পর রোববার ভোরে রাজধানী ঢাকায় নামে ভারী বৃষ্টি। কয়েক দফার এই বৃষ্টিতে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে স্বস্তির বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে নগরজুড়ে তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। অলিগলি থেকে প্রধান সড়ক—বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবী মানুষ।সকালের অফিসগামী মানুষদের অনেককে হাঁটুসমান পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও যানবাহনের গতি ধীর হয়ে পড়ে, আবার কিছু এলাকায় রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচলও ব্যাহত হয়। বৃষ্টি থেমে থেমে চলতে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।রাতের গরমের পর ভোরে বদলে যায় আবহাওয়াগত দুই দিন ধরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ১৩ জেলায় তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছিল। এর প্রভাব রাজধানীতেও পড়ে। শনিবার ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা নগরজীবনে বাড়তি অস্বস্তি তৈরি করেছিল।[TECHTARANGA-POST:1335]তবে রোববার ভোরে হঠাৎ করেই আকাশ মেঘে ঢেকে যায়। এরপর শুরু হয় ভারী বর্ষণ। সকাল ৬টার মধ্যে ৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রাও দ্রুত নেমে আসে। সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের দিনের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৬ ডিগ্রি কম।জলাবদ্ধতায় ভোগান্তি বাড়ে নগরজীবনেভোরের বৃষ্টির পর কিছু সময় বিরতি মিললেও সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আবারও নামে ভারী বর্ষণ। এতে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে পানি জমে যায়। মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শান্তিনগর, মালিবাগ, বাড্ডা ও পুরান ঢাকার কয়েকটি এলাকায় রাস্তায় পানি জমার খবর পাওয়া গেছে।অনেক এলাকায় ড্রেন উপচে পানি সড়কে উঠে আসে। ফলে পথচারীদের পাশাপাশি গণপরিবহন ব্যবহারকারীরাও বিপাকে পড়েন। কিছু স্থানে বাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায় যাত্রীদের।মিরপুরের এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন, সকালে বাসা থেকে বের হয়েই বিপদে পড়তে হয়েছে। রাস্তায় পানি জমে থাকায় সময়মতো অফিসে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। একই ধরনের অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন এলাকার মানুষও।[TECHTARANGA-POST:1333]আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস কী বলছেআবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দুপুর পর্যন্ত ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। একই সঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। এ সময় দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেও ঝড়বৃষ্টির আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, মাদারীপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দমকা হাওয়া ও বজ্রবৃষ্টি বয়ে যেতে পারে। কোথাও কোথাও বাতাসের গতি ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।এ কারণে সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।নগর পরিকল্পনা নিয়ে আবারও প্রশ্নপ্রতি বর্ষা মৌসুমেই ঢাকায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতার চিত্র নতুন নয়। এবারও কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে যাওয়ায় নগরীর ড্রেনেজ ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, অপরিকল্পিত নির্মাণ, খাল দখল এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার দুর্বলতা পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করছে।বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করেন, শুধু সাময়িক পানি সরিয়ে ফেললেই সমস্যার সমাধান হবে না। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীর জলাবদ্ধতা কমানো কঠিন। বিশেষ করে দ্রুত নগরায়ণের কারণে প্রাকৃতিক পানি চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানি আটকে যাচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়।[TECHTARANGA-POST:1334]কালবৈশাখীর আশঙ্কাও রয়েছেআবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কালবৈশাখী ধরনের ঝড়ও হতে পারে। বজ্রপাত ও দমকা হাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নদীপথে চলাচলকারী নৌযানগুলোকে বাড়তি সতর্কতা মেনে চলতে বলা হয়েছে।এদিকে আবহাওয়ার এই পরিবর্তনে গরম থেকে সাময়িক স্বস্তি মিললেও দিনের পরবর্তী সময়ে আবারও বৃষ্টি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি কাটতে সময় লাগতে পারে।এখন পরিস্থিতি কোন দিকেরোববার সকাল পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে থাকলেও কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে দিনের ব্যস্ত সময়ে আবার ভারী বৃষ্টি হলে যানজট ও জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দাবি, পানি দ্রুত সরিয়ে নিতে কাজ চলছে। যদিও নগরবাসীর প্রশ্ন, প্রতি বছর একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও কেন স্থায়ী সমাধান দৃশ্যমান হচ্ছে না।