ডাকসু নির্বাচনকে ঘিরে নতুন উত্তাপ, থানার সামনে মুখোমুখি ছাত্রদল ও শিবির
রাজধানীর শাহবাগ থানার ভেতরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় হঠাৎ করেই উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। একটি ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট ঘিরে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর শাহবাগ থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরে সেটি ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় গড়ায়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।[TECHTARANGA-POST:838]ঘটনার সূত্রপাত হয় ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবির প্যানেলের সদস্য প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদের নামে একটি কুরুচিপূর্ণ ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে দেশের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।তবে অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, তার নাম ব্যবহার করে কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই পোস্ট ছড়িয়েছে। এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে তিনি শাহবাগ থানায় যান।এ খবর পেয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরাও সেখানে উপস্থিত হন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে জানান উপস্থিত শিক্ষার্থীরা।প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ সময় ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। তারা আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।ছাত্রদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান বলেন, ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে কয়েকজন নেতা থানায় গেলে সেখানে কিছু শিক্ষার্থী ও বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। তখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের রক্ষায় এগিয়ে আসেন।ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপরতা বাড়ায়। শাহবাগ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। পরে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।এদিকে আহতদের খোঁজ নিতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমসহ অন্যান্য নেতারা ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান বলে জানা গেছে। তারা আহতদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।[TECHTARANGA-POST:820]বিশ্লেষকদের মতে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়। বিভিন্ন সময় ছোটখাটো ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার বাড়ার ফলে এখন এসব উত্তেজনা আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।বিশেষ করে ফেসবুক বা অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ভুয়া বা বিকৃত তথ্য ছড়ানো এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় যাচাই ছাড়া এসব তথ্য বিশ্বাস করে শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে পড়ে, যা সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছাত্র সংগঠন হিসেবে বিবেচিত। এখানে নির্বাচনের পরিবেশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রম সবসময়ই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। ফলে সামান্য ঘটনাও বড় আকার নিতে পারে।[TECHTARANGA-POST:816]বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ এবং তথ্য যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সহনশীল রাজনৈতিক পরিবেশ বজায় রাখাও জরুরি।
সব মিলিয়ে, শাহবাগ থানার সামনে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিল—সামান্য একটি পোস্ট থেকেও বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সবাইকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।