রৌমারীতে বৃষ্টির পানিতে সড়ক ভেঙে জনদুর্ভোগ, অস্থায়ীভাবে মেরামত করলেন জাহাঙ্গীর আলম রোজাইন
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক দিনের ভারী বৃষ্টিতে সড়ক ধসে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পানির প্রবল স্রোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার অংশ ভেঙে ও তলিয়ে যাওয়ায় যান চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পরে নিজস্ব অর্থায়নে দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে অস্থায়ীভাবে রাস্তা মেরামত করেন স্থানীয় মেম্বার প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম রোজাইন।গতকালের টানা বৃষ্টিপাতের পর রৌমারী উপজেলার ৪ নং ইউনিয়নের মন্ডলপাড়া, শৌলমারী, পূর্ব উত্তরপাড়া, বাউশমারী, ফকিরপাড়া ও বেহুলারচর এলাকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে ব্যাপক ক্ষতি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির পানি দ্রুত বের হওয়ার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তায় পানি জমে তীব্র স্রোত তৈরি হয়। সেই স্রোতের চাপেই সড়কের বিভিন্ন অংশ ধসে পড়ে এবং কোথাও কোথাও রাস্তা পানির নিচে চলে যায়।এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ পথচারীরা। অনেক জায়গায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। বিশেষ করে বাজারে যাতায়াত ও জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষেরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে হয় তাদের। কিন্তু স্থায়ীভাবে রাস্তা উন্নয়ন বা কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়।[TECHTARANGA-POST:957]এই অবস্থায় এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়ান ৪ নং রৌমারী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী জনাব জাহাঙ্গীর আলম রোজাইন। তিনি নিজ উদ্যোগে শ্রমিক নিয়ে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ চালান। মাটি ভরাট, পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ বসানো এবং চলাচলের উপযোগী অস্থায়ী পথ তৈরি করা হয়।তার এই উদ্যোগে সাময়িকভাবে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে ছোট যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল কিছুটা সহজ হয়েছে।তবে এলাকাবাসী মনে করেন, এটি শুধু সাময়িক সমাধান। দীর্ঘমেয়াদে সমস্যার সমাধানে রাস্তার পাশে গাইড ওয়াল নির্মাণ এবং একটি স্থায়ী ড্রেনেজ ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি। তাদের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনকে এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, না হলে ভবিষ্যতে আবারও একই ধরনের দুর্ভোগ তৈরি হবে।এ বিষয়ে রৌমারী জনকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি লাকাদ বিন আলম লাশ্য বলেন, বৃষ্টির পানির চাপেই মূলত এই ক্ষতি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে উদ্যোগ নেওয়ায় মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেলেও এটি স্থায়ী সমাধান নয়। তিনি আরও বলেন, টেকসই রাস্তা ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে প্রতি বর্ষায় এমন পরিস্থিতি দেখা দেবে।[TECHTARANGA-POST:950]রৌমারী উপজেলার মতো চরাঞ্চল এলাকায় এমন সমস্যা নতুন নয়। ভৌগোলিক অবস্থান ও নিম্নমানের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে বর্ষাকালে এসব অঞ্চলে রাস্তা ভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং যোগাযোগ বিঘ্নিত হওয়া নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নদীভাঙন ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে অনেক সময় গ্রামীণ সড়ক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।স্থানীয়রা আশা করছেন, সাময়িক মেরামতের পাশাপাশি প্রশাসন এবার স্থায়ী সমাধানের দিকে নজর দেবে। এতে করে ভবিষ্যতে জনদুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।এক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তাধসের ঘটনায় রৌমারীর কয়েকটি এলাকায় যে ভোগান্তি তৈরি হয়েছিল, তা স্থানীয় উদ্যোগে কিছুটা প্রশমিত হলেও স্থায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন ছাড়া এই সমস্যার পূর্ণ সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
গুছিয়ে দেন