কর্ণফুলী টানেলে চার রাত যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ, নির্ধারিত সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলবে
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী টানেলে চার রাত ধরে আংশিকভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে যান চলাচল। রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের অংশ হিসেবে ১৭ থেকে ২০ মে পর্যন্ত প্রতিদিন রাতের নির্দিষ্ট সময় টানেলের ভেতরে ট্রাফিক ডাইভারশন চালু থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। এতে রাতের যাত্রীদের সাময়িক অপেক্ষার মুখে পড়তে হতে পারে।রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা—নিয়ন্ত্রিত চলাচলবাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত কর্ণফুলী টানেলে আংশিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর থাকবে। এই সময় প্রয়োজন অনুযায়ী টানেলের দুইটি টিউব—‘পতেঙ্গা-আনোয়ারা’ এবং ‘আনোয়ারা-পতেঙ্গা’—এর মধ্যে যেকোনো একটিতে ট্রাফিক ডাইভারশন চালু করে যান চলাচল অব্যাহত রাখা হবে।[TECHTARANGA-POST:1339]কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজ চলাকালে যানবাহনের চাপ ও পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু সময় যানজট তৈরি হতে পারে। ফলে টানেলের দুই প্রান্তে থাকা যাত্রীদের সর্বনিম্ন ৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।কেন এই নিয়ন্ত্রণ, কী ধরনের কাজ চলছেসেতু কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি একটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম। টানেলের ভেতরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, আলো, বায়ুচলাচল, সড়ক পৃষ্ঠ এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সময় সময় এমন কাজ করা হয়।কর্ণফুলী টানেল দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হওয়ায় এটি সচল রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও সার্ভিসিং অপরিহার্য বলে জানানো হয়েছে। বিশেষ করে রাতের সময় যান চলাচল তুলনামূলক কম থাকায় এই সময়কেই কাজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে।যাত্রী ও চালকদের জন্য কী নির্দেশনাবিজ্ঞপ্তিতে সরাসরি কোনো ভ্রমণ নির্দেশিকা না থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে। একই সঙ্গে টানেল ব্যবহারকারীদের সম্ভাব্য দেরি মাথায় রেখে সময় হাতে নিয়ে যাত্রা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।চট্টগ্রাম ও আনোয়ারা রুটে চলাচলকারী পরিবহন চালকদের মতে, রাতের এই সময়টিতে সাধারণত পণ্যবাহী যান ও দূরপাল্লার বাস বেশি চলাচল করে। ফলে সামান্য নিয়ন্ত্রণও কিছুটা প্রভাব ফেলতে পারে ট্রাফিক প্রবাহে।টানেলের দুই প্রান্তে পরিস্থিতি কেমন হতে পারেস্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, কাজ চলাকালে টানেলের দুই প্রান্ত—পতেঙ্গা ও আনোয়ারা এলাকায়—যানবাহনের সারি কিছুটা দীর্ঘ হতে পারে। বিশেষ করে এক টিউব থেকে আরেক টিউবে ট্রাফিক ডাইভারশন চলার সময় অল্প সময়ের জন্য হলেও চাপ তৈরি হতে পারে।তবে সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ থাকবে না। বরং নিয়ন্ত্রিতভাবে একপথে বা বিকল্প পথে চলাচল অব্যাহত রাখা হবে, যাতে বড় ধরনের ভোগান্তি না হয়।প্রশাসনের অবস্থান ও প্রস্তুতিবাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাসুদ রানা শিকদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়েছে, টানেলের নিরাপত্তা ও দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেই এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজ জরুরি।[TECHTARANGA-POST:1329]কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও যাত্রীদের সহযোগিতা কামনা করেছে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ও বাস্তবতাচট্টগ্রাম অঞ্চলের নিয়মিত যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ বলছেন, রাতের নির্দিষ্ট সময় হলেও সাময়িক ভোগান্তি এড়ানো কঠিন হবে, বিশেষ করে জরুরি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে।অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টানেলটির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার জন্য এই ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য। সময়মতো কাজ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।সামাজিক ও অবকাঠামোগত গুরুত্বকর্ণফুলী টানেল শুধু একটি যোগাযোগ পথ নয়, এটি দক্ষিণ চট্টগ্রাম ও পর্যটন অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবাহের অন্যতম লাইফলাইন। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজ দেশের অবকাঠামোগত সক্ষমতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক টানেল ব্যবস্থাপনায় রুটিন মেইনটেন্যান্স একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটি সাময়িক অসুবিধা তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তা ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে এটি দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।[TECHTARANGA-POST:1310]শেষ কথাআগামী ১৭ থেকে ২০ মে পর্যন্ত চার রাত কর্ণফুলী টানেলে আংশিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে। রাত ১১টা থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত চলমান এই ব্যবস্থায় যাত্রীদের সামান্য দেরি হলেও বড় কোনো যান চলাচল বন্ধ থাকবে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সবার নিরাপত্তা ও টানেলের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে এই সময় ধৈর্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।