দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

কটিয়াদীতে গোল্ডকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল: লক্ষাধিক দর্শকের ঢল, ট্রাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন বোয়ালিয়া

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ যেন পরিণত হয়েছিল এক বিশাল জনসমুদ্রে। মাঠের গ্যালারি ছাড়িয়ে আশপাশের এলাকা পর্যন্ত দর্শকের ঢল নামে। জায়গা না পেয়ে অনেকে গাছে উঠে খেলা দেখেছেন, কেউবা ভবনের ছাদে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেছেন রুদ্ধশ্বাস লড়াই। শেষ পর্যন্ত ট্রাইব্রেকারের নাটকীয়তায় বেতাল ছুবেজ্জামান একাদশকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতে নেয় বোয়ালিয়া ফুটবল একাডেমি।শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে উপজেলার আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠে আয়োজিত ‘৩৩তম লক্ষ টাকা প্রাইজমানি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর ফাইনালকে ঘিরে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কটিয়াদীতে কোনো ক্রীড়া আয়োজনে এত বিপুল মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়নি।মাঠজুড়ে জনসমুদ্র, দর্শকদের উচ্ছ্বাসফাইনাল ম্যাচকে ঘিরে সকাল থেকেই দর্শকদের ভিড় জমতে শুরু করে। দুপুর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে মাঠ ও আশপাশের এলাকা কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কটিয়াদীর পাশাপাশি নরসিংদী, গাজীপুর, ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ফুটবলপ্রেমীরা ছুটে আসেন এই ম্যাচ দেখতে।[TECHTARANGA-POST:1560]স্থানীয় আয়োজকরা জানান, প্রায় লক্ষাধিক দর্শক মাঠ ও আশপাশে অবস্থান করে খেলা উপভোগ করেন। বিপুল এই জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়েছে। মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ, আর প্রতিটি আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে দর্শকদের উচ্ছ্বাস যেন নতুন মাত্রা যোগ করছিল।বিদেশি ফুটবলার ও তারকাদের লড়াইমাসব্যাপী চলা এই টুর্নামেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি হয় বোয়ালিয়া ফুটবল একাডেমি এবং বেতাল ছুবেজ্জামান একাদশ। দুই দলই শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মাঠে নামে। নাইজেরিয়া ও উগান্ডা থেকে আসা বিদেশি ফুটবলারদের পাশাপাশি দেশের কয়েকজন পরিচিত খেলোয়াড়ও অংশ নেন ম্যাচটিতে।খেলার শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। মাঝমাঠের দখল নিয়ে চলে তীব্র লড়াই। গোলের একাধিক সুযোগ তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই প্রতিপক্ষের জাল খুঁজে পায়নি। ফলে ম্যাচ শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়।ট্রাইব্রেকারে নাটকীয় জয়নির্ধারিত সময়ে ফলাফল না আসায় ম্যাচ গড়ায় ট্রাইব্রেকারে। তখন মাঠজুড়ে তৈরি হয় চরম উত্তেজনা। প্রতিটি শটের সঙ্গে দর্শকদের হৃদস্পন্দন যেন বেড়ে যাচ্ছিল।রুদ্ধশ্বাস এই ট্রাইব্রেকারে বেতাল ছুবেজ্জামান একাদশকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে বোয়ালিয়া ফুটবল একাডেমি। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠে আনন্দে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। উল্লাসে মেতে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম এলাকা।খেলা শেষে বিজয়ী দলের হাতে গোল্ডকাপ ট্রফি এবং এক লাখ টাকার প্রাইজমানি তুলে দেন অতিথিরা।প্রতিমন্ত্রীর স্টেডিয়াম নির্মাণের ঘোষণাফাইনালে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম। খেলার উদ্বোধন করেন কিশোরগঞ্জ-২ (কটিয়াদী-পাকুন্দিয়া) আসনের সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দিন।বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মাঠে উপস্থিত বিপুলসংখ্যক দর্শকের কথা উল্লেখ করে বলেন, ঐতিহাসিক আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউট মাঠকে একটি পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী বছরের টুর্নামেন্টের আগেই এ কাজ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান তিনি।তিনি বলেন, খেলাধুলা শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়, এটি তরুণদের সুস্থ জীবনধারার দিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ক্রীড়া চর্চা বাড়লে সমাজে মাদকসহ নানা সামাজিক সমস্যা কমানো সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।কেন গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজন?গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল টুর্নামেন্টগুলো দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনের প্রাণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বড় ক্লাব কিংবা জাতীয় পর্যায়ের বাইরে এসব আয়োজন তরুণ খেলোয়াড়দের নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করে।বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার এই সময়ে মাঠভিত্তিক ক্রীড়া আয়োজন তরুণদের সামাজিক বন্ধন, শারীরিক সক্ষমতা এবং ইতিবাচক মানসিকতা গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কটিয়াদীর এই ফাইনালে লক্ষাধিক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে, দেশের তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা এখনও অটুট রয়েছে।ফুটবলপ্রেমীদের আশা, এমন আয়োজন ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অনুষ্ঠিত হবে এবং এখান থেকেই উঠে আসবে জাতীয় দলের আগামী দিনের তারকারা।

কটিয়াদীতে গোল্ডকাপ ফুটবলের মেগা ফাইনাল: লক্ষাধিক দর্শকের ঢল, ট্রাইব্রেকারে চ্যাম্পিয়ন বোয়ালিয়া