ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে ডাকাতি: লুণ্ঠিত মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২
কক্সবাজারের ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় দুই দফা ডাকাতির ঘটনায় ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় অভিযান চালিয়ে লুণ্ঠিত মালামাল, দেশীয় অস্ত্র ও খেলনা পিস্তল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় এক নারীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে। ডাকাতির ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বুধবার (২১ অক্টোবর) সকালে লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৬টা ও দুপুর আড়াইটার দিকে ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের হিমছড়ি ঢালায় পৃথক দুটি ডাকাতির ঘটনা ঘটে।খবর পেয়ে ঈদগাঁও থানা-পুলিশ হিমছড়ি ঢালাসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অভিযান শুরু করে। ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অভিযানে পাহাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে লুণ্ঠিত মালামাল, দেশীয় অস্ত্র ও খেলনা পিস্তল উদ্ধার করা হয়।এ সময় এক নারীসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ।ডাকাতির শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতদলে ১২ থেকে ১৫ জন সদস্য ছিল। তারা অন্তত ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনের শতাধিক যাত্রীর কাছ থেকে মালামাল লুট করে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।মুখোশধারী ব্যক্তিরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, জিপ ও মোটরসাইকেলের যাত্রীদের কাছ থেকে মুঠোফোন, নগদ টাকা এবং অন্যান্য মালামাল ছিনিয়ে নেয় বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে নারীদের ব্যবহৃত ব্যাগ ও অলংকার রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম শিফাতুল মাজদার বলেন, ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান শুরু করে। ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা অভিযানে লুণ্ঠিত মালামাল ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় এক নারীসহ দুজনকে আটক করা হয়েছে।তিনি আরও বলেন, ডাকাতির সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।পরপর দুই দফা ডাকাতির ঘটনায় ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে দিনের বেলায় একাধিক যানবাহনের যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল লুটের অভিযোগ সড়কটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।ডাকাতির ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা, লুণ্ঠিত মালামাল প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা জোরদার করা এখন গুরুত্বপূর্ণ।