দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকার, এলপিজি কার্ড ও নারী শিক্ষায় বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

জনগণকে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করার অঙ্গীকার করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন এবং সরকারের সব কর্মসূচি হবে জনকল্যাণকে কেন্দ্র করে। সোমবার যশোরের শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের পর আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা, কৃষির পানি সংকট এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় খাল পুনঃখনন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উলশী খাল পুনঃখনন প্রকল্পও সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নেওয়া হয়েছে। গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক এলাকায় পাইপলাইনের গ্যাস পৌঁছানো সম্ভব হয়নি বা তা এখনো সীমিত। এ কারণে বিশেষ করে গ্রামীণ নারী ও পরিবারের কথা বিবেচনায় রেখে এলপিজি গ্যাসের কার্ড চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে স্বল্প খরচে নিরাপদ জ্বালানি নিশ্চিত করা যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। নারী শিক্ষার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়নে নারীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণে সরকার মেয়েদের জন্য ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা করছে। এতে করে আরও বেশি নারী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়বে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল গণভোটের রায়কে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণের স্বার্থ নয়, বরং নিজেদের স্বার্থ হাসিল করা। এ বিষয়ে তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, কেউ যেন বিভ্রান্তিতে না পড়ে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বও তুলে ধরেন। তার মতে, উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হলে জনগণের ঐক্য এবং সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। উলশী খাল পুনঃখনন প্রকল্পের পটভূমি হিসেবে জানা যায়, যশোর অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে খাল-নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায় কৃষি ও জনজীবনে সমস্যা দেখা দিচ্ছিল। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব—এই দুই সমস্যাই স্থানীয়দের ভোগান্তি বাড়িয়ে তুলছিল। এর আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে খাল পুনঃখননের মাধ্যমে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে, যা সরকারকে এ ধরনের প্রকল্প আরও বাড়াতে উৎসাহিত করেছে। বাংলাদেশে খাল পুনঃখনন শুধু পানি ব্যবস্থাপনার জন্য নয়, পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে করে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই ধরনের প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে সহায়ক। সমাবেশে স্থানীয় নেতারা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাগুলোকে স্বাগত জানান এবং এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান। সাধারণ মানুষও খাল পুনঃখনন ও এলপিজি কার্ড চালুর মতো উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে চায়। উন্নয়ন, শিক্ষা, জ্বালানি ও অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই পরিকল্পিতভাবে কাজ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে। সামগ্রিকভাবে বলা যায়, যশোরের এই কর্মসূচি শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন নয়, বরং সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অঙ্গীকারের একটি স্পষ্ট বার্তা। এখন দেখার বিষয়, ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয়।

প্রতিশ্রুতি পূরণে অঙ্গীকার, এলপিজি কার্ড ও নারী শিক্ষায় বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর