দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ

হলিউডের আঙিনায় ‘আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’: আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন ববিতা

যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত ‘আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। এই সম্মাননাকে নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের একটি বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন তিনি। একই সঙ্গে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস তাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে বলে জানিয়েছেন এই গুণী শিল্পী। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ববিতা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে প্রবাসীদের গড়ে তোলা কোনো বড় সংগঠন থেকে এই প্রথম তিনি আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন। বিষয়টি তার জন্য বিশেষ আনন্দের। এর আগে বিভিন্ন সংগঠন তাকে সম্মাননা দেওয়ার আগ্রহ দেখালেও সময়ের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তবে এবার ‘আনন্দ মেলা’র প্রতিষ্ঠাতা খান মোহাম্মদ আলী এবং আয়োজক কমিটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, তারা তাকে এই সম্মানের জন্য বিবেচনা করেছেন, যা তার জন্য সত্যিই গর্বের। এই আয়োজনটি ২৫ ও ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অনুষ্ঠানটি হলিউডের কাছাকাছি এলাকায় হওয়ায় এর গুরুত্ব আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন ববিতা। তার ভাষায়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি আশাবাদী, এই অনুষ্ঠান শুধু প্রবাসীদের মধ্যেই নয়, বিশ্বমঞ্চেও বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আরও পরিচিত করে তুলবে। ববিতার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নতুন নয়। তিনি এর আগে Distressed Children and Infants International-এর গুড উইল অ্যাম্বাসেডর হিসেবে কাজ করেছেন। সে সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে ঘুরেছেন এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মিশেছেন। তার অভিজ্ঞতায়, বিদেশে থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের প্রতি প্রবাসীদের টান ও ভালোবাসা একটুও কমে না। বরং তারা দেশের শিল্পী-সংস্কৃতিকে আরও বেশি করে আঁকড়ে ধরে রাখেন। তিনি জানান, প্রবাসীদের এই ভালোবাসা তার কাছে সবসময়ই বিশেষ কিছু। তাদের সম্মান ও আন্তরিকতা তাকে কাজের প্রতি আরও দায়বদ্ধ করে তোলে। এবারের সম্মাননাও সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ বলে মনে করেন তিনি। সম্প্রতি ববিতার অর্জনের ঝুলিতে আরও কিছু বড় স্বীকৃতি যুক্ত হয়েছে। ২০২৩ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে তার নামে ‘ববিতা ডে’ পালন করা হচ্ছে, যা একজন বাংলাদেশি শিল্পীর জন্য বিরল সম্মান। এছাড়া চলতি বছর তিনি বাংলাদেশের অন্যতম সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা একুশে পদক লাভ করেছেন। এসব অর্জন তাকে নতুন করে অনুপ্রাণিত করছে বলে জানান তিনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র জগতে ববিতা একটি উজ্জ্বল নাম। বিশেষ করে কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায় পরিচালিত ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পান। তার অভিনয় দক্ষতা এবং স্বতন্ত্র উপস্থিতি তাকে দেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসে একটি আলাদা জায়গায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। অন্যদিকে, ‘আনন্দ মেলা’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের একটি পরিচিত সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম, যারা নিয়মিতভাবে দেশের শিল্পী-সংস্কৃতি তুলে ধরতে নানা আয়োজন করে থাকে। বিশেষ করে উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে এই আয়োজন বেশ জনপ্রিয়। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছেও দেশের সংস্কৃতি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ববিতা জানান, এবারের অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই প্রবাসীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তিনি সবার এই ভালোবাসার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, এই ভালোবাসাই তাকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি দেয়। তিনি আরও বলেন, একজন শিল্পীর জন্য দর্শকের ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। দেশে বা বিদেশে যেখানেই হোক, মানুষের এই সম্মান তাকে কাজের প্রতি আরও দায়িত্বশীল করে তোলে। ভবিষ্যতেও তিনি এই ভালোবাসা ধরে রাখতে চান। সবশেষে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশে ববিতা বলেন, তাদের সহযোগিতা ও অংশগ্রহণেই এই আয়োজন সফল হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হলিউডের মাটিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় স্মরণীয় হয়ে থাকবে। সব মিলিয়ে, ‘আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’-এ ববিতার আজীবন সম্মাননা প্রাপ্তি শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতির জন্যও একটি বড় গর্বের বিষয়। প্রবাসীদের ভালোবাসা এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই স্বীকৃতি দেশের সাংস্কৃতিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হলিউডের আঙিনায় ‘আনন্দ মেলা অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’: আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন ববিতা