দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

শব্দদূষণ রোধে শেরপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা: সচেতনতায় জোর প্রশাসনের

শব্দদূষণ রোধে শেরপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা: সচেতনতায় জোর প্রশাসনের

৬ জেলায় ভোক্তা অধিকার অভিযান: ৮ প্রতিষ্ঠানে ৬৬ হাজার টাকা জরিমানা, বাজারে সতর্কতা জোরদার

লোচনপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে গাঁজাসহ আটক, মোবাইল কোর্টে ১ বছরের কারাদণ্ড ইন্ট্রো

কুমিল্লা-ব্রাহ্মণবাড়িয়া মহাসড়ক উন্নয়ন: চার লেন প্রকল্পে অগ্রগতি, দ্রুত কাজের আশ্বাসে স্বস্তির অপেক্ষায় যাত্রীরা

ছাতড়া বিলে শ্রমিক সংকটে ধান কাটা ব্যাহত, মজুরি দ্বিগুণ হওয়ায় বিপাকে কৃষকেরা

রূপগঞ্জে পুলিশি অভিযানে ছিনতাইকারী আটক, উদ্ধার দুই মোটরসাইকেল

এক দিনের বৃষ্টিতেই অচল কুমিল্লা, বিপাকে রোগী-শিক্ষার্থী সবাই

সাত সকালে ঢাকায় ঝুম বৃষ্টি, জনজীবনে ভোগান্তি

শব্দদূষণ রোধে শেরপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা: সচেতনতায় জোর প্রশাসনের

শব্দদূষণ রোধে শেরপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা: সচেতনতায় জোর প্রশাসনের

শহরের কোলাহল যেন দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজের শব্দ কিংবা উচ্চস্বরে মাইক—সব মিলিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নীরব এক সংকট তৈরি করছে শব্দদূষণ। এই বাস্তবতা থেকেই ‘আর নয় শব্দদূষণ, চাই সুস্থ জীবন’ স্লোগানে শেরপুরে পালিত হলো আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস ২০২৬।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জেলা প্রশাসন, শেরপুর এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, শেরপুরের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সচেতনতামূলক আলোচনা সভা।



শব্দদূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ

আয়োজকরা জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্‌ ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “শব্দদূষণ এখন শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।”

তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের আচরণগত পরিবর্তন জরুরি। “শুধু প্রশাসনের পক্ষে সব কিছু সম্ভব নয়। সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ ছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন,” যোগ করেন তিনি।


সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপ বৃদ্ধি, ঘুমের সমস্যা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, শেরপুরের প্রতিনিধি ইন্সপেক্টর শ্যামল চন্দ্র ধর। তিনি বলেন, “আইন রয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা হর্ন বাজানো বা মাইক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

জেলা পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তিনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।



বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংবাদিক কাকন রেজাসহ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের কর্মী ও নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন অংশগ্রহণ করেন। তাদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

একজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা প্রতিদিনই শব্দদূষণের শিকার হচ্ছি। বিশেষ করে পরীক্ষা চলাকালে বা পড়াশোনার সময় এই সমস্যা বেশি অনুভূত হয়। এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের সচেতন হতে সাহায্য করে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শহরের ব্যস্ত এলাকায় শব্দদূষণ অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। “রাতেও অনেক সময় উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হয়, যা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে,” বলেন তিনি।


বাস্তব চিত্র ও চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে শব্দদূষণ একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানা এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে শব্দ ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে।

শেরপুর শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায় বলে জানান স্থানীয়রা। যদিও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি রয়েছে, তবুও অনেক ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন অনেকে।

একজন পরিবেশকর্মী বলেন, “শুধু একদিনের কর্মসূচি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ধারাবাহিকভাবে মনিটরিং এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”


প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা হলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

শব্দদূষণ নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কার্যকর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি।

তারা আশা করছেন, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে শব্দদূষণ কমে আসবে।



উপসংহার

শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতকের মতো, যা ধীরে ধীরে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। শেরপুরে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব প্রয়োগ ও সচেতনতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব।

সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হতে পারে শব্দদূষণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বিষয় : শব্দদূষণ পরিবেশ দূষণ জেলা প্রশাসন শেরপুর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬


শব্দদূষণ রোধে শেরপুরে র‍্যালি ও আলোচনা সভা: সচেতনতায় জোর প্রশাসনের

প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

শহরের কোলাহল যেন দিন দিন আরও তীব্র হচ্ছে। যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজের শব্দ কিংবা উচ্চস্বরে মাইক—সব মিলিয়ে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় নীরব এক সংকট তৈরি করছে শব্দদূষণ। এই বাস্তবতা থেকেই ‘আর নয় শব্দদূষণ, চাই সুস্থ জীবন’ স্লোগানে শেরপুরে পালিত হলো আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস ২০২৬।

মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) জেলা প্রশাসন, শেরপুর এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, শেরপুরের যৌথ উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য র‍্যালি এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। র‍্যালিটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এসে শেষ হয়। পরে সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় সচেতনতামূলক আলোচনা সভা।



শব্দদূষণ রোধে সমন্বিত উদ্যোগ

আয়োজকরা জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্পের আওতায় এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এতে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মিজ্‌ ফরিদা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, “শব্দদূষণ এখন শুধু একটি পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি।”

তিনি আরও বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানুষের আচরণগত পরিবর্তন জরুরি। “শুধু প্রশাসনের পক্ষে সব কিছু সম্ভব নয়। সচেতনতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ ছাড়া শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন,” যোগ করেন তিনি।


সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে শব্দদূষণের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে বলেন, অতিরিক্ত শব্দ মানুষের শ্রবণশক্তি হ্রাস, মানসিক চাপ বৃদ্ধি, ঘুমের সমস্যা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার, শেরপুরের প্রতিনিধি ইন্সপেক্টর শ্যামল চন্দ্র ধর। তিনি বলেন, “আইন রয়েছে, কিন্তু তা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অযথা হর্ন বাজানো বা মাইক ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

জেলা পরিষদের প্রতিনিধি নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। তিনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।



বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ

অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট সাংবাদিক কাকন রেজাসহ বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের কর্মী ও নেতৃবৃন্দ এবং সুধীজন অংশগ্রহণ করেন। তাদের উপস্থিতিতে আলোচনা সভা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

একজন কলেজ শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা প্রতিদিনই শব্দদূষণের শিকার হচ্ছি। বিশেষ করে পরীক্ষা চলাকালে বা পড়াশোনার সময় এই সমস্যা বেশি অনুভূত হয়। এই ধরনের উদ্যোগ আমাদের সচেতন হতে সাহায্য করে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, শহরের ব্যস্ত এলাকায় শব্দদূষণ অনেক সময় অসহনীয় হয়ে ওঠে। “রাতেও অনেক সময় উচ্চস্বরে মাইক বাজানো হয়, যা আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে,” বলেন তিনি।


বাস্তব চিত্র ও চ্যালেঞ্জ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে শব্দদূষণ একটি ক্রমবর্ধমান সমস্যা। যানবাহনের হর্ন, নির্মাণকাজ, শিল্পকারখানা এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে শব্দ ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি দিন দিন জটিল হচ্ছে।

শেরপুর শহরের বিভিন্ন এলাকাতেও একই চিত্র লক্ষ্য করা যায় বলে জানান স্থানীয়রা। যদিও নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি রয়েছে, তবুও অনেক ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত নয় বলে মনে করছেন অনেকে।

একজন পরিবেশকর্মী বলেন, “শুধু একদিনের কর্মসূচি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ধারাবাহিকভাবে মনিটরিং এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।”


প্রশাসনের ভূমিকা ও করণীয়

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলা হলে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়া

শব্দদূষণ নিয়ে বিভিন্ন সময় অভিযোগ উঠলেও অনেক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে কার্যকর প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আয়োজকরা জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে এই বিষয়ে আরও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন, আইন প্রয়োগ জোরদার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি।

তারা আশা করছেন, এই ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়বে এবং ধীরে ধীরে শব্দদূষণ কমে আসবে।



উপসংহার

শব্দদূষণ একটি নীরব ঘাতকের মতো, যা ধীরে ধীরে মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে। শেরপুরে আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব প্রয়োগ ও সচেতনতার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব।

সুস্থ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই হতে পারে শব্দদূষণ রোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর