দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
আপডেট : মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত উমর হায়াতের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাসহ ৫০ ভাষায় পৌঁছাবে হজের খুতবা, বহুভাষিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মক্কার হজ ব্যবস্থাপনা

তুরস্কে এক কিশোরের বন্দুক হামলা, নিহত ৪: আতঙ্কে তারসুস, চলছে ব্যাপক অভিযান

আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ

ত্রিশালে রোগীর মৃত্যু ঘিরে উত্তেজনা, ভুল চিকিৎসার অভিযোগে অবরুদ্ধ চিকিৎসক

নদীর মাছেও মিলছে প্লাস্টিক কণা, খাবারের সঙ্গে মানুষের শরীরে ঢুকছে নীরব বিষ

উখিয়ায় বিজিবির দুই অভিযানে বিপুল ইয়াবা উদ্ধার, আটক ১

গাজার স্কুলে ইসরাইলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১২ জন

গাজার স্কুলে ইসরাইলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১২ জন
-ছবি: সংগৃহীত

গাজা উপত্যকায় আবারও রক্তাক্ত এক সকাল দেখলো ফিলিস্তিন। মঙ্গলবার সকালে গাজার মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। হামলার পর মুহূর্তেই স্কুল ভবনের একাংশ আগুনে পুড়ে যায় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসস্তূপ। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ শুরু করেন। তবে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় স্কুলটিতে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ অবস্থান করছিলেন। অনেক পরিবার যুদ্ধের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে এই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

ইসরাইলের দাবি কী?

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই স্কুলে হামাসের একটি “কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই স্থান থেকে হামাসের সদস্যরা সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

এক বিবৃতিতে ইসরাইলি বাহিনী আরও দাবি করে, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হামলার আগে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

তবে ফিলিস্তিনি পক্ষ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, বেসামরিক মানুষ আশ্রয় নেওয়া স্থানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রেও নিরাপত্তা নেই?

গাজার চলমান সংঘাতে স্কুল, হাসপাতাল এবং জাতিসংঘ পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও হামলার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্কুলে অবস্থান নিচ্ছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক স্থাপনাকে নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম স্কুলে থাকলে অন্তত নিরাপদ থাকব। কিন্তু এখন কোথাও নিরাপত্তা নেই।”

সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ইসরাইলে আকস্মিক হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছিল ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

এর জবাবে গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এরপর থেকে টানা হামলা, স্থল অভিযান এবং অবরোধে গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এই হামলার আগের দিনই ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকা থেকে ছয়জন ইসরাইলি জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে এই ঘটনারও সম্পর্ক থাকতে পারে।

মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে

গাজার স্বাস্থ্য ও ত্রাণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। যুদ্ধের কারণে হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি ও খাদ্যের ঘাটতিও ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, মানবিক বিপর্যয়েও রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও চরম ভিড় তৈরি হয়েছে।

কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা-ইসরাইল সংঘাত এখন শুধু দুই পক্ষের যুদ্ধ নয়, বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। প্রতিদিনের হামলা, পাল্টা হামলা এবং হতাহতের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে থাকা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিনিয়ত হামলার শব্দ, স্বজন হারানো এবং বাস্তুচ্যুত জীবনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আবারও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের অগ্রগতি আনতে পারেনি। ফলে গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

উপসংহার

গাজার মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে হামলার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, চলমান সংঘাতে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্কুলে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধ, প্রতিশোধ আর রাজনৈতিক উত্তেজনার এই চক্রে প্রতিদিনই বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে থামবে এই রক্তপাত, আর কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে গাজার মানুষ?

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬


গাজার স্কুলে ইসরাইলি বিমান হামলা, নিহত অন্তত ১২ জন

প্রকাশের তারিখ : ২০ আগস্ট ২০২৪

featured Image

গাজা উপত্যকায় আবারও রক্তাক্ত এক সকাল দেখলো ফিলিস্তিন। মঙ্গলবার সকালে গাজার মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে চালানো ইসরাইলি বিমান হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হামাস পরিচালিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ। হামলার পর মুহূর্তেই স্কুল ভবনের একাংশ আগুনে পুড়ে যায় এবং চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ধ্বংসস্তূপ। স্থানীয়দের দাবি, সেখানে বহু বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিলেন।

হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ শুরু করেন। তবে উদ্ধার কার্যক্রম অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় উদ্ধারকারী দল। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার সময় স্কুলটিতে নারী ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ অবস্থান করছিলেন। অনেক পরিবার যুদ্ধের কারণে নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে এই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে।

ইসরাইলের দাবি কী?

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা ওই স্কুলে হামাসের একটি “কমান্ড ও কন্ট্রোল সেন্টার” লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই স্থান থেকে হামাসের সদস্যরা সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।

এক বিবৃতিতে ইসরাইলি বাহিনী আরও দাবি করে, বেসামরিক নাগরিকদের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে হামলার আগে বিভিন্ন ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

তবে ফিলিস্তিনি পক্ষ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের অভিযোগ, বেসামরিক মানুষ আশ্রয় নেওয়া স্থানগুলোতে ধারাবাহিকভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আশ্রয়কেন্দ্রেও নিরাপত্তা নেই?

গাজার চলমান সংঘাতে স্কুল, হাসপাতাল এবং জাতিসংঘ পরিচালিত আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও হামলার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ বাড়ছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বিভিন্ন স্কুলে অবস্থান নিচ্ছেন।

মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় বেসামরিক স্থাপনাকে নিরাপদ রাখা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের কারণে প্রকৃত পরিস্থিতি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম স্কুলে থাকলে অন্তত নিরাপদ থাকব। কিন্তু এখন কোথাও নিরাপত্তা নেই।”

সংঘাতের পেছনের প্রেক্ষাপট

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর ইসরাইলে আকস্মিক হামলার পর থেকেই পুরো অঞ্চলজুড়ে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হয়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ ইসরাইলি নিহত হন এবং ২৫১ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছিল ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

এর জবাবে গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরাইল। এরপর থেকে টানা হামলা, স্থল অভিযান এবং অবরোধে গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এই হামলার আগের দিনই ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানায়, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিস এলাকা থেকে ছয়জন ইসরাইলি জিম্মির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সঙ্গে এই ঘটনারও সম্পর্ক থাকতে পারে।

মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে

গাজার স্বাস্থ্য ও ত্রাণ পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। যুদ্ধের কারণে হাসপাতালগুলোতে ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ পানি ও খাদ্যের ঘাটতিও ভয়াবহ আকার নিয়েছে।

জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি এই সংঘাত শুধু সামরিক নয়, মানবিক বিপর্যয়েও রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে শিশু ও নারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতেও চরম ভিড় তৈরি হয়েছে।

কেন বাড়ছে উদ্বেগ?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গাজা-ইসরাইল সংঘাত এখন শুধু দুই পক্ষের যুদ্ধ নয়, বরং এটি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতার জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠছে। প্রতিদিনের হামলা, পাল্টা হামলা এবং হতাহতের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, দীর্ঘদিন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে থাকা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। প্রতিনিয়ত হামলার শব্দ, স্বজন হারানো এবং বাস্তুচ্যুত জীবনের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।

আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা আবারও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বড় ধরনের অগ্রগতি আনতে পারেনি। ফলে গাজার পরিস্থিতি দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

উপসংহার

গাজার মুস্তাফা হাফেজ স্কুলে হামলার এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিল, চলমান সংঘাতে সবচেয়ে অসহায় অবস্থায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্কুলে গিয়ে প্রাণ হারানোর ঘটনা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে।

যুদ্ধ, প্রতিশোধ আর রাজনৈতিক উত্তেজনার এই চক্রে প্রতিদিনই বাড়ছে মানবিক বিপর্যয়। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—কবে থামবে এই রক্তপাত, আর কবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে গাজার মানুষ?


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর