দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নরসিংদীর রায়পুরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুইজনের জেল

নরসিংদীর রায়পুরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুইজনের জেল

সোমবার থেকে টানা বৃষ্টি, উত্তর-পূর্বে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতিতে ধাক্কা: উৎপাদন কমে ৩০ শতাংশ, দুশ্চিন্তায় কারখানা মালিকরা

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে আতঙ্ক, বন্দুকধারী গ্রেপ্তার

বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত চা-বাগান, বাড়ছে উৎপাদন খরচ

ডেমরায় জমি দখলের অভিযোগে শিক্ষক রমজান আলীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

প্রীতি ফুটবলে উত্তাপ, জয় তুলে নিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

মাদকবিরোধী অভিযানে কঠোর প্রশাসন, রায়পুরায় দুই মাদকসেবী দণ্ডিত

নরসিংদীর রায়পুরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুইজনের জেল

নরসিংদীর রায়পুরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুইজনের জেল

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান অভিযানে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) পৃথক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই সাজা প্রদান করা হয়। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পান্থশালা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাসুদ রানা। এ সময় মাঝেরচর এলাকার এক মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় মাদকসেবীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


একই দিনে উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকাতেও আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পাল এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। অভিযানে আরেকজন মাদকসেবীকে আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই অভিযানে রায়পুরা থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করেছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রায়পুরা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের সমস্যা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গোপনে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। অনেক তরুণ এতে জড়িয়ে পড়ায় পরিবার ও সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ফলে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।

বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন অনুযায়ী, মাদকসেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। এতে করে অপরাধীদের তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডিত করা সম্ভব হয়, যা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

রায়পুরা উপজেলায় এর আগেও বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশেষ করে উৎসব বা বিশেষ সময়কে কেন্দ্র করে প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়ে দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালানোর ফলে অনেক ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসা কিছুটা কমে এলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অবস্থাতেই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ সহ্য করা হবে না। তারা আরও জানান, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে প্রশাসনকে জানাতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়েই মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারিক নজরদারি এবং তরুণদের জন্য বিকল্প ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, রায়পুরায় সাম্প্রতিক এই অভিযানে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন অভিযান নিয়মিত চালু থাকলে মাদক সমস্যা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সমাজ আরও নিরাপদ হবে।

বিষয় : নরসিংদী মাদকবিরোধী প্রশাসন

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


নরসিংদীর রায়পুরায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, দুইজনের জেল

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের চলমান অভিযানে দুই মাদকসেবীকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) পৃথক অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই সাজা প্রদান করা হয়। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানে স্থানীয়ভাবে স্বস্তি ফিরছে বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার পান্থশালা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মাসুদ রানা। এ সময় মাঝেরচর এলাকার এক মাদকসেবীকে আটক করা হয়। পরে ঘটনাস্থলেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে ৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকায় মাদকসেবীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


একই দিনে উপজেলার শ্রীরামপুর এলাকাতেও আরেকটি অভিযান চালানো হয়। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুনমুন পাল এই অভিযানের নেতৃত্ব দেন। অভিযানে আরেকজন মাদকসেবীকে আটক করা হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দুই অভিযানে রায়পুরা থানা পুলিশ সার্বিক সহযোগিতা করেছে বলে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রায়পুরা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরেই মাদকের সমস্যা একটি বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে গোপনে মাদক কেনাবেচা ও সেবনের অভিযোগ প্রায়ই শোনা যায়। অনেক তরুণ এতে জড়িয়ে পড়ায় পরিবার ও সমাজে বিরূপ প্রভাব পড়ছে। ফলে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনছে।

বাংলাদেশে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন অনুযায়ী, মাদকসেবন ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দ্রুত বিচার ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়। এতে করে অপরাধীদের তাৎক্ষণিকভাবে দণ্ডিত করা সম্ভব হয়, যা অন্যদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করে।

রায়পুরা উপজেলায় এর আগেও বিভিন্ন সময় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। বিশেষ করে উৎসব বা বিশেষ সময়কে কেন্দ্র করে প্রশাসন নজরদারি বাড়িয়ে দেয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নিয়মিত অভিযান চালানোর ফলে অনেক ক্ষেত্রে মাদক ব্যবসা কিছুটা কমে এলেও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও সময় ও সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। কোনো অবস্থাতেই মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ সহ্য করা হবে না। তারা আরও জানান, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে প্রশাসনকে জানাতে হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অভিযান চালিয়েই মাদক সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি প্রয়োজন সচেতনতা বৃদ্ধি, পরিবারিক নজরদারি এবং তরুণদের জন্য বিকল্প ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সুযোগ তৈরি করা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলো এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সব মিলিয়ে, রায়পুরায় সাম্প্রতিক এই অভিযানে প্রশাসনের কঠোর অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন অভিযান নিয়মিত চালু থাকলে মাদক সমস্যা ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সমাজ আরও নিরাপদ হবে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর