দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

সোমবার থেকে টানা বৃষ্টি, উত্তর-পূর্বে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

সোমবার থেকে টানা বৃষ্টি, উত্তর-পূর্বে আকস্মিক বন্যার শঙ্কা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতিতে ধাক্কা: উৎপাদন কমে ৩০ শতাংশ, দুশ্চিন্তায় কারখানা মালিকরা

হোয়াইট হাউস করেসপন্ডেন্টস ডিনারে আতঙ্ক, বন্দুকধারী গ্রেপ্তার

বিদ্যুৎ সংকটে বিপর্যস্ত চা-বাগান, বাড়ছে উৎপাদন খরচ

ডেমরায় জমি দখলের অভিযোগে শিক্ষক রমজান আলীর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর অভিযোগ

প্রীতি ফুটবলে উত্তাপ, জয় তুলে নিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার শঙ্কা, সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

এক বছরের অনলাইন প্রেমের পরিণতি—চীনা যুবকের সঙ্গে কুষ্টিয়ার তরুণীর বিয়ে

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতিতে ধাক্কা: উৎপাদন কমে ৩০ শতাংশ, দুশ্চিন্তায় কারখানা মালিকরা

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতিতে ধাক্কা: উৎপাদন কমে ৩০ শতাংশ, দুশ্চিন্তায় কারখানা মালিকরা
-ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর পাশের শিল্পাঞ্চল সাভারআশুলিয়া এখন তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জর্জরিত। দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ায় শত শত তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়, কিন্তু জ্বালানি তেলের ঘাটতিতে সেটিও অনেক ক্ষেত্রে চালানো যাচ্ছে না।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে রেশনিং করে বিদ্যুৎ দিতে হচ্ছে। এতে দিনে কয়েক ঘণ্টা করে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হচ্ছে, যা উৎপাদনশীলতা আরও কমিয়ে দিচ্ছে।

কারখানা মালিকরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে তিনগুণ হলেও বাস্তবে উৎপাদন কমে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ বন্ধ থাকছে, আর জেনারেটর চালাতে গেলে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ডিজেল ও গ্যাসের ঘাটতি থাকায় জেনারেটর চালানোও এখন বিলাসিতার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক জানান, দিনের অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডারের সময়সীমা মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে পাম্পগুলোতেও ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কারখানাকে জ্বালানি জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জ্বালানি না থাকলে জেনারেটর বন্ধ রাখতে হয়, আর তখন পুরো উৎপাদন থেমে যায়। এতে একদিকে শ্রমিকদের কাজ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে মালিকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ফলে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে। এর বাইরে আপাতত দ্রুত সমাধানের সুযোগ সীমিত।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এই সংকট তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। তার মতে, উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, সামনে ঈদ আসছে, তখন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের চাপও থাকবে। একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে খরচ বাড়ছে—এই দ্বৈত চাপে অনেক কারখানা টিকে থাকার লড়াই করছে।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখযোগ্য, সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চল দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে হাজার হাজার কারখানায় লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এই খাত থেকেই আসে। অতীতে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মাঝে মাঝে উৎপাদন ব্যাহত হলেও এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি—সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এখন শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়, বরং এটি শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।

বিষয় : ঘাটতিতে দুশ্চিন্তায় মালিকরা

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬


বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ঘাটতিতে ধাক্কা: উৎপাদন কমে ৩০ শতাংশ, দুশ্চিন্তায় কারখানা মালিকরা

প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

রাজধানীর পাশের শিল্পাঞ্চল সাভারআশুলিয়া এখন তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে জর্জরিত। দিনে-রাতে মিলিয়ে ১২ ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ায় শত শত তৈরি পোশাক কারখানায় উৎপাদন কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হয়, কিন্তু জ্বালানি তেলের ঘাটতিতে সেটিও অনেক ক্ষেত্রে চালানো যাচ্ছে না।

শিল্প সংশ্লিষ্টদের ভাষায়, চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে রেশনিং করে বিদ্যুৎ দিতে হচ্ছে। এতে দিনে কয়েক ঘণ্টা করে কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। অনেক কারখানায় শ্রমিকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হচ্ছে, যা উৎপাদনশীলতা আরও কমিয়ে দিচ্ছে।

কারখানা মালিকরা বলছেন, এই পরিস্থিতিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে তিনগুণ হলেও বাস্তবে উৎপাদন কমে গেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ না থাকায় কাজ বন্ধ থাকছে, আর জেনারেটর চালাতে গেলে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। ডিজেল ও গ্যাসের ঘাটতি থাকায় জেনারেটর চালানোও এখন বিলাসিতার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানার ব্যবস্থাপক জানান, দিনের অর্ধেকের বেশি সময় বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে অর্ডারের সময়সীমা মেনে চলা কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

এদিকে পাম্পগুলোতেও ডিজেলের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক কারখানাকে জ্বালানি জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। জ্বালানি না থাকলে জেনারেটর বন্ধ রাখতে হয়, আর তখন পুরো উৎপাদন থেমে যায়। এতে একদিকে শ্রমিকদের কাজ কমে যাচ্ছে, অন্যদিকে মালিকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়ছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে সামগ্রিকভাবে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। ফলে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হচ্ছে না। যে বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তা নির্দিষ্ট সময় ভাগ করে বিভিন্ন এলাকায় বিতরণ করা হচ্ছে। এর বাইরে আপাতত দ্রুত সমাধানের সুযোগ সীমিত।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, এই সংকট তৈরি পোশাক খাতের জন্য বড় ধরনের সতর্কবার্তা। তার মতে, উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, সামনে ঈদ আসছে, তখন শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের চাপও থাকবে। একদিকে উৎপাদন কমছে, অন্যদিকে খরচ বাড়ছে—এই দ্বৈত চাপে অনেক কারখানা টিকে থাকার লড়াই করছে।

পটভূমি হিসেবে উল্লেখযোগ্য, সাভার ও আশুলিয়া অঞ্চল দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। এখানে হাজার হাজার কারখানায় লক্ষাধিক শ্রমিক কাজ করেন এবং দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশ এই খাত থেকেই আসে। অতীতে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে মাঝে মাঝে উৎপাদন ব্যাহত হলেও এবারের পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি তীব্র বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি আমদানির ব্যয় বৃদ্ধি, ডলার সংকট এবং গ্যাস সরবরাহের ঘাটতি—সব মিলিয়ে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদি দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দেশের রপ্তানি খাত বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট এখন শুধু একটি সাময়িক সমস্যা নয়, বরং এটি শিল্প খাতের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকিতে পরিণত হচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে এর প্রভাব দেশের অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর