দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ, সংসদীয় সম্পর্ক জোরদারে আলোচনা

স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো ‘আয়নাঘর’ থাকবে না: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কে ভয়াবহ যানজট, ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে যাত্রী-চালক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মাগুরার শিশু আছিয়া হত্যা-ধর্ষণ মামলার রায় পিছিয়েছে, সোমবার নতুন দিন

সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন তারেক রহমান, ২০ বছর পর নিউইয়র্ক সফর

অনুমোদিত নকশার বাইরে ভবন নির্মাণ বন্ধে নতুন উদ্যোগ, কী বললেন গৃহায়নমন্ত্রী?

সৌদির স্কুলের বইয়ে আমূল পরিবর্তন, ইহুদি-খ্রিস্টানদের নিয়ে বদলে গেল পুরোনো বয়ান

সংবাদপত্র শিল্পের সংকট সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস, তিন মাস পরপর বৈঠকের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

সংবাদপত্র শিল্পের সংকট সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস, তিন মাস পরপর বৈঠকের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
-ছবি: সংগৃহীত

দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। 

মঙ্গলবার সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সরকারি বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন—তার সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর তিনি নিয়মিত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি প্রতিদিন পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশনের সংবাদ অনুসরণ করেন বলেও উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন সমস্যা বা জনমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমে যেভাবে উঠে আসে, সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

বৈঠকের শুরুতে নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সংবাদপত্র শিল্প নানা অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নোয়াব নেতারা জানান, অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময় থেকে সরকারি বিজ্ঞাপনের বিপুল অঙ্কের বিল বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ দ্রুত পরিশোধ করা হলে সংবাদপত্র শিল্প অনেকটাই স্বস্তি পাবে। তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করেন। তাদের মতে, সেই স্বীকৃতি সংবাদপত্র খাতের জন্য একটি বড় নীতিগত সহায়তা ছিল। তবে বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বিজ্ঞাপন কমে যাওয়া এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, তিন মাস পরপর এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হবে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।

নোয়াব সদস্যরা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেফতার সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা এ ক্ষেত্রেও সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রকাশক নাসিম মনজুর

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

উল্লেখ্য, নোয়াব দেশের বেসরকারি সংবাদপত্র মালিকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন। সংবাদপত্র শিল্পের নীতিগত সহায়তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ২০০১ সালে, যা এই খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এই বৈঠক বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং গ্রুপ ছবি তোলেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর নোয়াবের সঙ্গে এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

সব মিলিয়ে বৈঠকটি সরকার ও সংবাদপত্র মালিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সংকট সমাধানে এই সংলাপ ভবিষ্যতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। 

বিষয় : সংবাদপত্র সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংবাদপত্র শিল্পের সংকট সমাধানে সহযোগিতার আশ্বাস, তিন মাস পরপর বৈঠকের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রক্ষায় সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে—এমন আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। 

মঙ্গলবার সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)-এর নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই অবস্থান তুলে ধরেন। বৈঠকে সংবাদপত্র শিল্পের বর্তমান অবস্থা, সরকারি বিজ্ঞাপনের বকেয়া বিল এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন—তার সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর তিনি নিয়মিত গুরুত্ব দিয়ে দেখেন। তিনি প্রতিদিন পত্রিকা পড়েন এবং টেলিভিশনের সংবাদ অনুসরণ করেন বলেও উল্লেখ করেন। দেশের বিভিন্ন সমস্যা বা জনমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমে যেভাবে উঠে আসে, সে অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

বৈঠকের শুরুতে নোয়াব সভাপতি ও দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী সংবাদপত্র শিল্পের নানা সমস্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমানে সংবাদপত্র শিল্প নানা অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার জন্য সংগ্রাম করছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নোয়াব নেতারা জানান, অতীতের বিভিন্ন সরকারের সময় থেকে সরকারি বিজ্ঞাপনের বিপুল অঙ্কের বিল বকেয়া রয়েছে। এই অর্থ দ্রুত পরিশোধ করা হলে সংবাদপত্র শিল্প অনেকটাই স্বস্তি পাবে। তারা এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এ সময় নোয়াব সদস্যরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। পাশাপাশি ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি স্মরণ করেন। তাদের মতে, সেই স্বীকৃতি সংবাদপত্র খাতের জন্য একটি বড় নীতিগত সহায়তা ছিল। তবে বর্তমানে অর্থনৈতিক চাপ, বিজ্ঞাপন কমে যাওয়া এবং প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান সংকটে পড়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সংবাদপত্র মালিকদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি জানান, তিন মাস পরপর এ ধরনের মতবিনিময় সভা আয়োজন করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে বোঝাপড়া আরও শক্তিশালী হবে এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান সম্ভব হবে।

নোয়াব সদস্যরা বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো প্রত্যাহার এবং গ্রেফতার সাংবাদিকদের জামিনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তারা এ ক্ষেত্রেও সরকারের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।

এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নোয়াবের সহ-সভাপতি এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ আলতামাশ কবির, সদস্য এ কে আজাদ, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী এবং ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রকাশক নাসিম মনজুর

এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী

উল্লেখ্য, নোয়াব দেশের বেসরকারি সংবাদপত্র মালিকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন। সংবাদপত্র শিল্পের নীতিগত সহায়তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে তারা দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। অন্যদিকে বাংলাদেশে সংবাদপত্রকে শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় ২০০১ সালে, যা এই খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হয়।

দুপুর ২টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এই বৈঠক বিকেল সাড়ে ৩টায় শেষ হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী নোয়াব সদস্যদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন এবং গ্রুপ ছবি তোলেন। বিএনপি সরকার গঠনের পর নোয়াবের সঙ্গে এটি ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

সব মিলিয়ে বৈঠকটি সরকার ও সংবাদপত্র মালিকদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সংবাদপত্র শিল্পের বিদ্যমান সংকট সমাধানে এই সংলাপ ভবিষ্যতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে—এমনটাই আশা সংশ্লিষ্টদের। 


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর