গাজার চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়ার নিহত হওয়ার ঘটনা শান্তি আলোচনাকে কোনোভাবেই এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে না।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করেন, ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড কি গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে কি না।
জবাবে বাইডেন বলেন, “না, এটি সহায়ক হবে না।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
সেই বাসভবনে এক দেহরক্ষীসহ তিনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যার দায় স্বীকার করেনি।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন দেশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত থাকতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাস ও তার মিত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধারা আকস্মিক হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনো চলমান।
এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং এক লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, মিসর এবং কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তিন দেশ বারবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়েছে।
গত নভেম্বর মাসে এক সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ রাজি হলেও পরে তা স্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসমাইল হানিয়ার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যু হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা এখনো কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা শান্তি আলোচনাকে সহজ করার বদলে আরও কঠিন করে তোলে।
সব মিলিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আবারও গাজার দিকে, যেখানে যুদ্ধবিরতি আসবে নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে—তা এখনো অনিশ্চিত।

বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৪
গাজার চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়ার নিহত হওয়ার ঘটনা শান্তি আলোচনাকে কোনোভাবেই এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে না।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করেন, ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড কি গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে কি না।
জবাবে বাইডেন বলেন, “না, এটি সহায়ক হবে না।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।
হামাসের রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।
সেই বাসভবনে এক দেহরক্ষীসহ তিনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যার দায় স্বীকার করেনি।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন দেশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত থাকতে পারে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাস ও তার মিত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধারা আকস্মিক হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।
এর জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনো চলমান।
এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং এক লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, মিসর এবং কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তিন দেশ বারবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়েছে।
গত নভেম্বর মাসে এক সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ রাজি হলেও পরে তা স্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসমাইল হানিয়ার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যু হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা এখনো কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।
গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা শান্তি আলোচনাকে সহজ করার বদলে আরও কঠিন করে তোলে।
সব মিলিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আবারও গাজার দিকে, যেখানে যুদ্ধবিরতি আসবে নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে—তা এখনো অনিশ্চিত।

আপনার মতামত লিখুন