দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : শুক্রবার, ০২ আগস্ট ২০২৪

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

দক্ষিণ লেবাননে অভিযান স্থগিত করল ইসরায়েল, হরমুজ প্রণালি ঘিরে নতুন উদ্বেগ

ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে নতুন বিতর্ক, মুসলিম যুবকদের দূরে থাকার আহ্বান কেন?

ডায়মন্ড হারবারে লাইব্রেরিতে বইয়ের বদলে মদের বোতল! কপাটহাটের ঘটনায় তদন্তে পুলিশ

মার্কো রুবিওর ভারত সফর শুরু কলকাতা থেকে, মাদার হাউসে শ্রদ্ধা জানালেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানে টিকটক তারকা সানা ইউসুফ হত্যা মামলায় অভিযুক্ত উমর হায়াতের মৃত্যুদণ্ড

বাংলাসহ ৫০ ভাষায় পৌঁছাবে হজের খুতবা, বহুভাষিক সেবায় বদলে যাচ্ছে মক্কার হজ ব্যবস্থাপনা

তুরস্কে এক কিশোরের বন্দুক হামলা, নিহত ৪: আতঙ্কে তারসুস, চলছে ব্যাপক অভিযান

আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উদ্বেগ

ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যু যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বাধা হবে: বাইডেন

ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যু যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বাধা হবে: বাইডেন
-ছবি: সংগৃহীত

হানিয়া হত্যার ঘটনা গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সহায়ক নয়: জো বাইডেন

গাজার চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়ার নিহত হওয়ার ঘটনা শান্তি আলোচনাকে কোনোভাবেই এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে না।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।


বাইডেনের স্পষ্ট মন্তব্য

সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করেন, ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড কি গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে কি না।

জবাবে বাইডেন বলেন, “না, এটি সহায়ক হবে না।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।


কীভাবে নিহত হন ইসমাইল হানিয়া

হামাসের রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।

সেই বাসভবনে এক দেহরক্ষীসহ তিনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যার দায় স্বীকার করেনি।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন দেশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত থাকতে পারে।


গাজা যুদ্ধের পটভূমি

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাস ও তার মিত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধারা আকস্মিক হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনো চলমান।

এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং এক লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।


যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, মিসর এবং কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তিন দেশ বারবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়েছে।

গত নভেম্বর মাসে এক সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ রাজি হলেও পরে তা স্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।


শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, ইসমাইল হানিয়ার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যু হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা এখনো কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।


শেষ কথা

গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা শান্তি আলোচনাকে সহজ করার বদলে আরও কঠিন করে তোলে।

সব মিলিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আবারও গাজার দিকে, যেখানে যুদ্ধবিরতি আসবে নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে—তা এখনো অনিশ্চিত।

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬


ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যু যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বাধা হবে: বাইডেন

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৪

featured Image

হানিয়া হত্যার ঘটনা গাজা যুদ্ধবিরতি আলোচনায় সহায়ক নয়: জো বাইডেন

গাজার চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তিনি বলেছেন, হামাসের শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়ার নিহত হওয়ার ঘটনা শান্তি আলোচনাকে কোনোভাবেই এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে না।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।


বাইডেনের স্পষ্ট মন্তব্য

সাংবাদিকরা সরাসরি প্রশ্ন করেন, ইসমাইল হানিয়ার হত্যাকাণ্ড কি গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনাকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে কি না।

জবাবে বাইডেন বলেন, “না, এটি সহায়ক হবে না।” তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে তার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়েছে এবং তিনি এই অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।


কীভাবে নিহত হন ইসমাইল হানিয়া

হামাসের রাজনৈতিক শাখার শীর্ষ নেতা ইসমাইল হানিয়া ইরানের নতুন প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তেহরানে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটি বাসভবনে অবস্থান করছিলেন।

সেই বাসভবনে এক দেহরক্ষীসহ তিনি নিহত হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই হত্যার দায় স্বীকার করেনি।

তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিভিন্ন দেশের ধারণা, এই হত্যাকাণ্ডে ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা জড়িত থাকতে পারে।


গাজা যুদ্ধের পটভূমি

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামাস ও তার মিত্র গোষ্ঠীর যোদ্ধারা আকস্মিক হামলা চালায়। ওই হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয় এবং প্রায় ২৪০ জনকে জিম্মি হিসেবে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর জবাবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) গাজায় ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে, যা এখনো চলমান।

এই অভিযানে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং এক লাখেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। গাজার বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।


যুদ্ধবিরতি প্রচেষ্টা ও আন্তর্জাতিক ভূমিকা

গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র, মিসর এবং কাতার মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই তিন দেশ বারবার যুদ্ধবিরতির উদ্যোগ নিয়েছে।

গত নভেম্বর মাসে এক সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে দুই পক্ষ রাজি হলেও পরে তা স্থায়ী হয়নি। এরপর থেকে স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চললেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান আসেনি।


শান্তি আলোচনা নিয়ে নতুন অনিশ্চয়তা

বিশ্লেষকদের মতে, ইসমাইল হানিয়ার মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতার মৃত্যু হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে আস্থার সংকট আরও বাড়াতে পারে। এর ফলে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনা আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, তারা এখনো কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।


শেষ কথা

গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইসমাইল হানিয়ার মৃত্যুর ঘটনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যেও স্পষ্ট হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা শান্তি আলোচনাকে সহজ করার বদলে আরও কঠিন করে তোলে।

সব মিলিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আবারও গাজার দিকে, যেখানে যুদ্ধবিরতি আসবে নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে—তা এখনো অনিশ্চিত।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর