দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর
সর্বশেষ
প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

দেশকে আরও সবুজ করে গড়ে তুলতে সবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

টানা বৃষ্টিতে ফের ডুবছে চট্টগ্রাম: দুর্ভোগে কর্মজীবী মানুষ, বাড়ল রিকশা ভাড়া

ইরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত, পরিবারের চার সদস্যেরও নামাজে অংশগ্রহণ

জুলাই আন্দোলনের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সম্মাননা, প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে ‘জুলাই স্মৃতি স্মারক’ গ্রহণ

কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার পরিদর্শনে ডিসি সোহানা নাসরিন, বন্দিদের কল্যাণে দিলেন একগুচ্ছ নির্দেশনা

আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত বৈঠক, কর্মী প্রেরণ ও বিনিয়োগে নতুন সম্ভাবনার আলোচনা

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খুলতে উদ্যোগ, প্রবাসীদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ২০২৬: শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগই জাতি গঠনের সবচেয়ে বড় ভিত্তি—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বিএনপির নারী আসনের মনোনয়নে চমক—নতুনদের প্রাধান্য, নেই অনেক হেভিওয়েট নেতা

বিএনপির নারী আসনের মনোনয়নে চমক—নতুনদের প্রাধান্য, নেই অনেক হেভিওয়েট নেতা
-ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। সোমবার প্রকাশিত এই তালিকায় বেশ কিছু নতুন মুখ থাকলেও আলোচনায় থাকা বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রী ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব স্থান পাননি। ফলে দলীয় অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করা নেত্রীদের পাশাপাশি নতুন কয়েকজনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকায় না থাকা কয়েকজন আলোচিত নাম ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক তৈরি করেছে।

যাদের নাম বাদ পড়েছে বলে আলোচনা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ, কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন এবং ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। এদের অনেকেই আগে থেকেই মনোনয়নের আলোচনায় ছিলেন বলে জানা যায়।

অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ৩৬ জনের তালিকায় রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকায় দলীয় ত্যাগী ও সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে সংসদে সরাসরি নির্বাচিত আসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য মনোনীত করা হয়। ফলে এসব আসনে দলীয় সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অতীতেও দেখা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকা প্রকাশের সময় দলগুলোর ভেতরে আলোচনা ও মতভেদ তৈরি হয়। অনেক সময় অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি নতুন মুখ আনার কৌশল গ্রহণ করা হয়, যাতে সংগঠনের ভেতরে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হয়। বিএনপির প্রকাশিত এই নতুন তালিকাও একই ধরনের কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাদ পড়া আলোচিত নেত্রীদের বিষয়টি দলীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন।

সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন তালিকা বিএনপির ভেতরে নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকটিও এখানে গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

বিষয় : বিএনপির নারী আসনের প্রাধান্য

আপনার মতামত লিখুন

পরবর্তী খবর
দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬


বিএনপির নারী আসনের মনোনয়নে চমক—নতুনদের প্রাধান্য, নেই অনেক হেভিওয়েট নেতা

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। সোমবার প্রকাশিত এই তালিকায় বেশ কিছু নতুন মুখ থাকলেও আলোচনায় থাকা বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট নেত্রী ও পরিচিত ব্যক্তিত্ব স্থান পাননি। ফলে দলীয় অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপি যে তালিকা প্রকাশ করেছে, সেখানে সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করা নেত্রীদের পাশাপাশি নতুন কয়েকজনকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে তালিকায় না থাকা কয়েকজন আলোচিত নাম ইতোমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে চমক তৈরি করেছে।

যাদের নাম বাদ পড়েছে বলে আলোচনা হচ্ছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস, সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা, মহিলা দলের সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, প্রয়াত নেতা মওদুদ আহমদের সহধর্মিণী হাসনা জসীমউদ্দীন মওদুদ, কণ্ঠশিল্পী বেবি নাজনীন এবং ছোটপর্দার অভিনেত্রী রুকাইয়া জাহান চমক। এদের অনেকেই আগে থেকেই মনোনয়নের আলোচনায় ছিলেন বলে জানা যায়।

অন্যদিকে দলীয় মনোনয়ন পাওয়া ৩৬ জনের তালিকায় রয়েছেন সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মত ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তালিকায় দলীয় ত্যাগী ও সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকা নেত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তুলতে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা থাকতে পারে।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়। বর্তমানে সংসদে সরাসরি নির্বাচিত আসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলোর আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে সংরক্ষিত নারী আসনে সদস্য মনোনীত করা হয়। ফলে এসব আসনে দলীয় সিদ্ধান্তই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অতীতেও দেখা গেছে, সংরক্ষিত নারী আসনের তালিকা প্রকাশের সময় দলগুলোর ভেতরে আলোচনা ও মতভেদ তৈরি হয়। অনেক সময় অভিজ্ঞ নেত্রীদের পাশাপাশি নতুন মুখ আনার কৌশল গ্রহণ করা হয়, যাতে সংগঠনের ভেতরে ভারসাম্য বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতের নেতৃত্ব তৈরি হয়। বিএনপির প্রকাশিত এই নতুন তালিকাও একই ধরনের কৌশলের অংশ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে বাদ পড়া আলোচিত নেত্রীদের বিষয়টি দলীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনই বলা কঠিন।

সব মিলিয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের এই মনোনয়ন তালিকা বিএনপির ভেতরে নতুন নেতৃত্বকে সামনে আনার একটি ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দলীয় ভারসাম্য বজায় রাখা এবং সাংগঠনিক শক্তি বাড়ানোর দিকটিও এখানে গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।


দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর

প্রকাশক ও সম্পাদকঃ মোঃ সাদ্দাম হোসেন
কপিরাইট © ২০২৬ দৈনিক জাতীয় কণ্ঠস্বর